এটা বামেদের রাজত্ব নয়! সুশান্ত ঘোষকে পুরনো জমানা মনে করালেন কেষ্ট মন্ডল
এলাকায় ফিরতেই ফের স্বমেজাজে সুশান্ত ঘোষ। শালবনিতে দাঁড়িয়ে বিরোধীদের হুঁশিয়ারি বাম নেতার। আর তা ঘিরে শুরু হয়েছে জোর রাজনৈতিক বিতর্ক। বিজেপির দাবি, সুশান্ত ঘোষদের মতো নেতাদের মানুষ আর মন থেকে মেনে নিতে পারেন না।
এলাকায় ফিরতেই ফের স্বমেজাজে সুশান্ত ঘোষ। শালবনিতে দাঁড়িয়ে বিরোধীদের হুঁশিয়ারি বাম নেতার। আর তা ঘিরে শুরু হয়েছে জোর রাজনৈতিক বিতর্ক। বিজেপির দাবি, সুশান্ত ঘোষদের মতো নেতাদের মানুষ আর মন থেকে মেনে নিতে পারেন না।
এর মধ্যে এহেন হুঁশিয়ারি সাধারণ মানুষের থেকে সুশান্ত ঘোষদের মতো নেতাদের আরও দূরে সরিয়ে দেবে বলে দাবি বিজেপির। তৃণমূলের তরফে সুশান্ত ঘোষের মন্তব্যের তীব্র বিরোধীতা করা রয়েছে। তৃণমূলের দাবি, এলাকায় ফিরেই ফের ভয়ের পরিবেশ সুশান্ত ঘোষ তৈরি করছেন। সুশান্ত ঘোষের মন্তব্যের কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন অনুব্রত মন্ডলও।

উনি হয়তো ভাবছেন এটা ২০০৮-০৯ সাল
ইতিমধ্যে সোশ্যাল মিডিয়াতে ভাইরাল সুশান্ত ঘোষের হুঁশিয়ারির ভিডিও। ভিডিও ভাইরাল হতেই সোশ্যাল মিডিয়াতে নিন্দার ঝড়। এই প্রসঙ্গে মুখ খুলেছেন বীরভূমের বেতাজ বাদশাও। সুশান্ত প্রসঙ্গে অনুব্রত মন্ডলের তোপ, "উনি হয়তো ভাবছেন এটা ২০০৮-০৯ সাল, বামেদের রাজত্ব। কিন্তু ভুল ভাবছেন। আগে বহু লোকের হাত পা ভেঙেছেন। তাই এখনও তেমনটা করবেন ভাবছেন। কিন্তু সেটা হবে না। " শুধু তাই নয়, সুশান্ত ঘোষের মতো নেতাদের মানুষ এবারের ভোটে ছুঁড়ে ফেলে দেবে বলে দাবি অনুব্রতের।

কি বলেছেন সুশান্ত ঘোষ!
তিনি গিয়েছিলেন শালবনির ভালুকশোল গ্রামে। স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি বলেন, মাওবাদীরাও জানে, তৃণমূলের বাপ-ঠাকুরদাও জানে, বিজেপির বাপ-ঠাকুরদাও জানে সুশান্ত ঘোষ কে। দীর্ঘ দিন দলীয় কর্মীদের পাশে থাকরতে পারেননি। কিন্তু এই সময়ে যাঁরা দলীয় কর্মীদের গায়ে হাত দেওয়ার ক্ষমতা দেখাবে, তাঁদেরকে তুলে এনে হাত পা ভেঙে দিয়ে তিনিই চিকিৎসা করাবেন বলেছেন। এব্যাপারে অবশ্য সিপিএম-এর পক্ষ থেকে সাফাইও দেওয়া হয়েছে। তারা বলেছে ২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনেও বামকর্মীদের সমস্যায় পড়তে হয়েছিল। সেই সময় পাশে দাঁড়ানোর কেউ ছিলেন না। এবার সুশান্ত ঘোষ সাহস জোগানোর চেষ্টা করছেন।

বিতর্ক ইস্যুতে মুখ খুলেছেন প্রাক্তন বাম মন্ত্রী!
নিজের মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে সুশান্তবাবু বলেন, "দীর্ঘদিন ধরে বামকর্মীদের উপর অত্যাচার চলছে। সেই কারণে বলেছি, মারব আবার চিকিৎসা করিয়ে ঘরেও ফেবার।"

দীর্ঘদিন পর মেদিনীপুরে ঢোকার অনুমতি পেয়েছেন সুশান্ত
নির্বাচন সামনে এসে গিয়েছে। নিজের পুরনো কেন্দ্র গড়বেতাই হোক কিংবা পাশের কেন্দ্র শালবনি বিস্তীর্ণ এলাকায় প্রচার চালাচ্ছেন সুশান্ত ঘোষ। বসছেন পার্টি অফিসে। ২০১১-তে পরিবর্তনের বছরে যে কয়েকটি আসন জিততে পেরেছিল সিপিএম তার মধ্যে ছিল সুশান্ত ঘোষের গড়বেতাও। কিন্তু পরবর্তী সময়ে একাধিক মামলায় দীর্ঘদিন জেলে কাটাতে হয়েছে। আর জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পরে জেলায় ঢোকার অনুমতি পাননি। তারই মধ্যে ২০১৬-র নির্বাচনে গড়বেতা চলে গিয়েছে তৃণমূলের কব্জায়। পশ্চিম মেদিনীপুরের লালমাটির এই জায়গায় লাল পতাকা তুলে ধরার পণ করে বেরিয়ে পড়েছেন তিনি। তাঁকে দেখতে কিংবা তাঁর সভাগুলিতে ভিড়ও হচ্ছে বেশ।












Click it and Unblock the Notifications