বাঁশ হাতে বিজেপি প্রার্থীকে তাড়া তৃণমূল কর্মীদের, ইটবৃষ্টি! ভাঙচুর একের পর এক গাড়ি
বীরভূমের উপর নজর ছিল নির্বাচন কমিশনের। সেখানে শান্তিপূর্ণ ভোট করানোটাই ছিল কমিশনের কাছে চ্যালেঞ্জের। ভোট ঘোষণার প্রথমদিন থেকে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়। কিন্তু ভোটের দিন অবাধ ভোটের ছবি ধরা পড়ল না।
বীরভূমের উপর নজর ছিল নির্বাচন কমিশনের। সেখানে শান্তিপূর্ণ ভোট করানোটাই ছিল কমিশনের কাছে চ্যালেঞ্জের। ভোট ঘোষণার প্রথমদিন থেকে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়। কিন্তু ভোটের দিন অবাধ ভোটের ছবি ধরা পড়ল না। বেলা বাড়তেই বীরভূমের একাধিক জায়গা থেকে অশান্তির খবর সামনে আসছে।
ঘটনার খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছছে বিশাল পুলিশবাহিনী। মোতায়েন করা হয়েছে র্যাফও। একেবারে অগ্নিগর্ভ অবস্থা।

আক্রান্ত বিজেপি প্রার্থী
বেলা বাড়তেই উত্তপ্ত বীরভূম। সকাল থেকেই ইলামবাজারের একাধিক বুথে ঘুরছে বিজেপি প্রার্থী অনির্বাণ গঙ্গোপাধ্যায়। বুথ জ্যাম হচ্ছে, এমন অভিযোগ পাওয়ার পরেই ইলামবাজার ধরমপুর এলাকায় পৌঁছন তিনি। ধরমপুরে পৌঁছতেই বিক্ষোভের মুখে অনির্বাণ গঙ্গোপাধ্যায়। ধরমপুরে তাঁকে গো ব্যাক স্লোগান দেওয়া হয়। এর মধ্যেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। একেবারে লাঠি, বাঁশ হাতে তাঁর দিকে ছুটে আসেন তৃণমূল কর্মীরা। এমনটাই অভিযোগ। এমনকি বিজেপি প্রার্থীর গাড়ি ভাঙচুর করা হয় বলে অভিযোগ। লাঠি দিয়ে ভেঙে দেওয়া হয় গাড়ির কাচ। ভয়ঙ্কর ছবি গোটা ধরমপুর এলাকা জুড়ে।

সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন বিজেপি কর্মীরা
একদিকে তৃণমূল অন্যদিকে বিজেপি। দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে ব্যাপক আকার নেয় এলাকা। দুপক্ষের মধ্যেই পাথর ছোড়াছুড়ি হয় বলে অভিযোগ। দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে একজন গুরুতর আহত হন। মাথা ফেটে যায়। তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় হাসপাতালে। বিজেপির হামলায় তৃণমূলের ৪ কর্মী আহত হয়েছেন বলেও দাবি শাসক শিবিরের। পরে পরিস্থিতি সামলাতে লাঠিচার্জ করে পুলিশ। বিশাল পুলিশবাহিনী এই মুহূর্তে গ্রামে ঢুকেছে। ঢুকেছে কেন্দ্রীয় বাহিনীও। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসলেও উত্তপ্ত এলাকা।

হার বুঝতে পেরে হামলা তৃণমূলের
অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছে পরিস্থিতি। দফায় দফায় উতপ্ত এলাকা। বিজেপি প্রার্থী অনির্বাণ গঙ্গোপাধ্যায়ের অভিযোগ, হার বুঝতে পেরেছে তৃণমূল। আর সেই কারনেই তাঁরা বিভ্রান্ত হয়ে পড়েছে। আর সেই কারনেই এই হামলা বলে অভিযোগ তাঁর। শুধু তাই নয়, পিসি-ভাইপোর অঙ্গুলিহেলনেই তৃণমূলের গুন্ডারা এই হামলা করেছে বলেও দাবি তাঁর। শুধু তাই নয়। রাজ্য পুলিশের বিরুদ্ধে নিস্ক্রিয়তার অভিযোগ বিজেপি প্রার্থীর। তাঁর দাবি, রাজ্য পুলিশের সামনেই এই ঘটনা ঘটল। গাড়ি ভাঙচুর হল। এরপরেও পুলিশ কিছু করল না বলে অভিযোগ তাঁর। যদিও এই ঘটনার সঙ্গে তৃণমূলের কোনও যোগ নেই বলেই দাবি শাসকদলের। পাল্টা তৃণমূলের তরফে জানানো হয়, অনির্বাণই অশান্তিতে প্ররোচনা দেন। আর সেই কারনেই এই ঘটনা। গোটা বীরভূম জুড়েই শান্তিপূর্ণ ভোট চলছে বলে দাবি তৃণমূলের।

সবথেকে বেশি বাহিনী বীরভূমেই
অষ্টম দফায় চারটি জেলায় মোট বুথের সংখ্যা ১১৮৬০ টি। এর মধ্যে বেশি বুথ রয়েছে বীরভূমেই। বীরভূমে বুথ ৩৯০৮টি। একদিকে বুথ বেশি অন্যদিকে বাহিনীর সংখ্যাও বেশি। অষ্টম দফাতে মোট ৭৫৩ কোম্পানি বাহিনী কাজ করছে। ভোটের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে ৬৪১ কোম্পানি। আর এই ৭৫৩ কোম্পানি বাহিনীর মধ্যে সবথেকে বেশি বাহিনী মোতায়েন রয়েছে অশান্তি অধ্যুষিত বীরভূমে। সেখানে প্রায় ২২৪ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন রয়েছে। ছয়জন পুলিশ আধিকারিক রয়েছেন। রয়েছেন দাবাং পুলিশ অফিসার নগেন্দ্র ত্রীপাঠি। কিন্তু এরপরেও একাধিক জায়গা থেকে অশান্তির খবর সামনে আসছে। প্রশ্ন উঠছে পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে।

রিপোর্ট চাইল কমিশন
ইতিমধ্যে এই ঘটনার বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করা হয়েছে নির্বাচন কমিশনের তরফে। কেন এমন ঘটনা? কি হয়েছিল সমস্ত কিছু জেলা পুলিশ প্রশাসনের কাছে চেয়ে পাঠানো হয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications