রামপুরহাট কাণ্ডে এবার সরাসরি অভিযোগ অনুব্রত মণ্ডলের বিরুদ্ধে! স্ত্রীকে হারিয়ে বিস্ফোরক শেখলাল শেখ
মুখ্যমন্ত্রীর সামনে রামপুরহাট (Rampurhat) গণহত্যায় অভিযুক্তরা যাতে ছাড় না পায়, তার জন্য মামলা সাজানোর কথা বলেছিলেন বীরভূম তৃণমূল (Trinamool Congress) জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল (Anubrata Mondal)। তবে তিনিও যে এই ঘটনা স
মুখ্যমন্ত্রীর সামনে রামপুরহাট (Rampurhat) গণহত্যায় অভিযুক্তরা যাতে ছাড় না পায়, তার জন্য মামলা সাজানোর কথা বলেছিলেন বীরভূম তৃণমূল (Trinamool Congress) জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল (Anubrata Mondal)। তবে তিনিও যে এই ঘটনা সম্পর্কে কিছু জানতেন না, এই দাবি মানতে নারাজ বিরোধীরা। এবার স্ত্রী নাজেমা বিবিকে হারিয়ে সেই অনুব্রত মণ্ডলের বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ তুললেন বগটুই গ্রামের শেখলাল শেখ (Sheikhlal Sheikh)। তাঁর দাবি বখরার টাকার ভাগ পেতেন অনুব্রত মণ্ডলও। যদিও এব্যাপারে অনুব্রত মণ্ডলের কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

একসপ্তাহ লড়াইয়ের পরে মৃত্যু
২১ মার্চ রাতে আগুনে পুড়ে ছিলেন নাজেমা বিবি। প্রায় ৬৫ শতাংশ পুড়ে যাওয়ার অবস্থায় পরের দিন তাঁকে রামপুরহাট সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছিল। তবে সেখানে কোনও বার্ন ইউনিট না থাকায় চিকিৎসকার সন্দিহান ছিলেন। তবে নাজেমা বিবির শারীরিক অবস্থা এমন ছিল যে তাঁকে কলকাতাও আনা যায়নি। রবিবার অবস্থা খারাপ হওয়ায় ভেন্টিলেশনে দেওয়া হয়। অবশেষে সোমবার তাঁর মৃত্যু হয়।

স্ত্রীর মৃত্যুর পরে মুখ খোলেন স্বামী শেখলাল
পরিবারের আট সদস্যকে আগে হারিয়েছিলেন। এবার স্ত্রীকে হারিয়ে স্পষ্টতই ভেঙে পড়েন তিনি। সংবাদ মাধ্যমকে সামনে পেয়ে তিনি অভিযোগ করেন, উপপ্রধান ভাদু শেখের কয়লা ও বালি খাদানের ব্যবসা ছিল। সেই ব্যবসার ভাগ তিনি (ভাদু) দিতেন অনেককেই। শেখলাল শেখ অভিযোগ করেন, সেই ভাগ পেতেন থানার ওসি থেকে শুরু করে, তৃণমূলের ব্লক সভাপতি আনারুল হোসেন পর্যন্ত। এমন কী তৃণমূলের জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলের কাছেও সেই ভাগ যেত বলেও মন্তব্য করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে সিটের হাতে গ্রেফতারের পরে আনারুল হোসেন এখন সিবিআই হেফাজতে। তবে অনুব্রত মণ্ডলের বিরুদ্ধে এইভাবে অভিযোগ এই প্রথম। সঙ্গে বগটুই কাণ্ডেও অনুব্রত মণ্ডলের নাম জড়িয়ে পড়ল।

ভাদুর ছিল ৪০-৫০ জনের দল
শেখলাল শেখ বলেন, ভাদু শেখের লোকজনই তাঁদের বাড়িতে আগুন লাগিয়েছিল। তৃণমূলের উপপ্রধান ভাদু শেখের সঙ্গে ৪০ থেকে ৫০ জন থাকত। এরাও রাস্তায় বালি ও পাথরের গাড়ি দাঁড় করিয়ে টাকা আদায় করত বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। তবে ভাদু শেখ খুন হওয়ার পর থেকে এদের দেখা পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন শেখলাল শেখ।

পুলিশের বিরুদ্ধেও অভিযোগ
২১ মার্চ সোমবার রাতের ঘটনায় পুলিশের বিরুদ্ধেও অভিযোগ তুলেছএন শেখলাল শেখ। তিনি বলেছেন,. রাত ৯ থেকে সাড়ে নটার মধ্যে আগুল লাগলেও আগুন নেভানোর কাজ শুরু হয় পরের দিন ভোর থেকে। তিনি বলেন, এসডিপিও থাকেন খুব কাছেই। পায়ে হেঁটে দূরত্ব ৫ মিনিট। আর থানা থেকে বাড়ির দূরত্ব গাড়িতে ৮ থেকে ১০ মিনিট। তা কেন পুলিশ ও দমকল রাতেই এল না তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

বখরার জন্যই ছেলে খুন, বলেছিলেন ভাদু শেখের বাবা
ভাদু শেখের হত্যার পরে তাঁর বাবা বলেছিলেন, বখরার জন্যই এই খুন। তাঁর স্ত্রীও বলেছিলেন একই কথা। ভাদু শেখের বাবা আরও বলেছিলেন, তৃণমূল করতে গিয়েই তাঁর দুই ছেলের মৃত্যু হয়েছে। প্রসঙ্গত বছরখানেক আগে খুন হয়েছিলেন ভাদু শেখের ভাই।












Click it and Unblock the Notifications