Sandeshkhali: কাকে ভয়? কেন মুখ ঢেকে গ্রামের মহিলারা? পুলিশের টিমের কাছে কী অভিযোগ তাঁদের?

সন্দেশখালি যেন আতঙ্কপুরী হয়ে উঠেছে। ভয় গ্রাস করেছে গোটা গ্রামকে। ১৪৪ ধারার ঘেরাটোপে সত্যিই নিরাপদে রয়েছেন তো মহিলারা। গত কয়েকদিনে সন্দেশখালির উপর দিয়ে একপ্রকার ঝড় বয়ে গিয়েছে। কিন্তু যে রোষ আর রাগ নিয়ে গ্রামের মহিলারা বাড়ির বাইরে প্রতিবাদে সামিল হয়েছিলেন। সেই রাগকে হঠাৎ করে যেন ছাপিয়ে গিয়েছে একটা চাপা আতঙ্ক।

আজ সকাল থেকেই সন্দেশখালিতে দফায় দফায় দুটি টিম ঘুরে বেড়িয়েছে। প্রথমটি ছিল মহিলা কমিশন। আর দ্বিতীয়টি ছিল রাজ্য পুলিশের তৈরি ১০ সদস্যের বিশেষ টিম। মহিলা পুলিশ অফিসারদের নিয়ে সেই টিম তৈরি করা হয়েছিল। তারা আজ সকাল থেকে গ্রামে ঘুরে ঘরে মহিলাদের কাছ থেকে অভিযোগ শোনেন।

Sandeshkhali

যেদিন সন্দেশখালিতে রাস্তায় নেমে শাহাজাহান শেখ, শিবু হাজরা, উত্তম সর্দারদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখিয়েছিলেন গ্রামের মহিলারা। সেদিন তাঁকে মুখ ঢাকা ছিল না। তারা স্বতোঃস্ফূর্ত হয়ে বিক্ষোভ দেখিয়েছিলেন। নেতাদের অত্যাচারে দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া মহিলারা তাঁদের উপর নির্যাতনের কথা প্রকাশ্যে জানিয়েছেন।

সেদিন তাঁরা প্রকাশ্যেই বলেছিলেন, শিবু হাজরা-উত্তম সর্দারা তাঁদের পরিশ্রম করিয়ে টাকা দেয়নি। তাঁদের চাষের জমিতে নোনা জল ঢুকিয়ে ফসল নষ্ট করে দেওয়া হত। এমনকী তাঁদের পরিশ্রমের মজুরি চাইতে গেলে তাঁদের মারধর করা হতো। কোদালের বাট দিয়ে মারা হতো। রাতের অন্ধকারে মহিলাদের পার্টি অফিসে ডেকে নিয়ে যাওয়া হতো। তারপর রাতভর অত্যাচার চলত।

এমনকী তাঁদের ছেলেমেয়েদের পর্যন্ত স্কুলে গিয়ে পড়াশোনা করতে দেওয়া হত না। ছোট ছোট ছেলেদের হাতে তুলে দেওয়া হতো অস্ত্র। তাঁদের দিয়ে লুঠ করানো হতো। মাদকের নেশা ধরানো হতো। এমনই গুরুতর অভিযোগ তাঁরা প্রকাশ্যে করেছিলেন। সেই বিক্ষোভ ছিল অনেক সতেজ, সাবলীল। কিন্তু গত কয়েকদিনে একেবারেই বদলে গিয়েছে তাঁদের চেহারা। এখন মুখ ঢেকে বাইরে বেরোচ্ছেন তাঁরা। কাকে ভয় পাচ্ছেন সন্দেশখালির মহিলারা।

শাহাজাহান শেখ এখনও পলাতক। খোঁজ নেই শিবু হাজরারা। যদিও একাধিক বিরোধী রাজনৈতিক দল দাবি করেছে পুলিশ তাদের আশ্রয় দিয়ে রেখেছে। উত্তম সর্দার কেবল গ্রেফতার হয়েছে। বাকি দুই নেতা এখনও খোলা ঘুরে বেড়াচ্ছে সন্দেশখালিতে। তাহলে কি তাঁরাই ভয় দেখাচ্ছেন রাতের অন্ধকারে। রাতের অন্ধকারে ঠিক কী ঘটছে সন্দেশখালিতে যে এতোটা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন গ্রামের মহিলারা।

গতকাল বসিরহাট থানার পুলিশ ১০ সদস্যের একটি টিম গড়ে দিয়েছিল। তারা আজ সকাল থেকে গ্রামে ঘুরে ঘুরে মহিলাদের কাছ থেকে অভিযোগ নিয়েছে। কিন্তু কোনও মহিলাকেই সেই আগের মতো প্রতিবাদীরূপে দেখা যায়নি। তাঁরা মুখে কাপড় দিয়ে প্রকাশ্যে এসেছেন। ডিআইজি সিআইডি পদমর্যাদার মহিলা পুলিশ অফিসাররা গ্রামে গ্রামে ঘুরে অভিযোগ শুনেছেন। কিন্তু তেমন কোনও ধর্ষণ এবং শ্লীলতাহানির অভিযোগ নাকি করেননি সন্দেশখালির মহিলারা।

মহিলা কমিশনের প্রতিনিধিদলও আজ ঘুরেছে সন্দেশখালিতে। তাঁরাও কথা বলেছেন মহিলাদের সঙ্গে। গ্রামবাসীদের অভিযোগ তাঁদের রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি বলে দাগিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এমনকী তাঁদের মাওবাদী তকমাও দেওয়া হচ্ছে। তাঁদের প্রতিবাদকে অন্য রং দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেছেন গ্রামের মহিলারা।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+