এক ডুবে চাই পুণ্যি, করোনাবিধি ভুলে কাতারে কাতারে ভিড় গঙ্গাসাগরে
পুণ্য করতেই হবে। তাই শুক্রবার ভোর থেকেই ভিড় শুরু হয়ে গিয়েছে গঙ্গাসাগর বক্ষে। শনিবার ভিড় যে আরও বেশি হবে তার ছবি সকালেই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে। সাগরের সৈকতে দেখা গিয়েছে কার্যত জনজোয়ার। কাতারে কাতারে মানুষ আসতে শুরু করেছেন পুণ্য স্নান সারতে।

ফলে সাগরে মকরস্নানের ঠেলায়, করোনা বিধিকে লন্ডভন্ড হয়ে গিয়েছে, যার শুরুটা হয়েছিল শুক্রবার। ওইদিনের ছবি শুধুমাত্র ট্রেলর ছিল। এবার পূর্ন দৈর্ঘ্যের পুণ্যের ছবি ধরা পড়ছে। লাখ লাখ পুণ্যার্থী ভিড় জমিয়েছেন সাগর সঙ্গমে। সবাই একবার ডুব দিতে চান। একটু হলেও বাড়ি নিয়ে যেতে চান পুণ্য। তাতে যদি করোনা হয় হোক। কথাতেই তো আছে সবতীর্থ বারবার গঙ্গাসাগর একবার। এই একবার এসে পুণ্য না করে যাওয়া যাবে না। অতএব দাও ডুব।
ভিড় তো আছেই সঙ্গে মাস্কহীন লোক নির্বিচারে ঘুরে বেড়াচ্ছে। মাস্ক থাকলেও তা থাকছে থুতনিতে। পুলিশ , প্রশাসন সামনে এলেই তুলে নিচ্ছেন উপরে। গত বছর দুয়েক ধরে যে মাস্ক চিত্র দেখে এসেছে বাংলা বা বলা ভালো বিশ্ব সেই একই ছবি দেখা যাচ্ছে সাগরেও। সংক্রমণ যাতে না ছড়ায় সেজন্য সকাল থেকেই মাইকে চলছে প্রচার। স্যানিটাইজ করা হচ্ছে মেলা চত্বর, সমুদ্র সৈকত। কিন্তু কে কার কথা শোনে। ভিড় যদি হয় , প্রশাসন যদি সব জেনেও এভাবে মেলা করতে দেয়, আর মাস্কহীন হীনম্মন্যতা যদি মন থেকে যা যায় তাহলে মহামারির কি দোষ? এমনটাই বলছেন চিকিৎসকরা।
এদিকে প্রশাসন কিন্তু সাফাই আগেই দিয়ে রেখেছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বয়ং বলেছেন, 'কোভিডে আক্রান্ত হয়েছেন মন্ত্রী, আমলারা। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন কর্মীরা। প্রত্যেকে মাস্ক পরুন। পারলে ডবল মাস্ক পরুন। প্রশাসনের কথা মেনে চলুন। '
এরপরেই আসল কথাটি বলেন তিনি, 'আদালতের নির্দেশ মেনে কাজ হচ্ছে। আরটিপিসিআর টেস্ট না হলে মেলা যাওয়া যাবে না। কোভিড পরীক্ষা না করিয়ে গঙ্গাসাগর যাওয়া যাবে না। সবাই মিলে কাজ করুন। প্রশাসনের কথা মেনে চলুন। কোভিড আমাদের হাতে নেই। সচেতন হোন।'
এদিকে বাংকায় করোনা গত ২৪ ঘন্টায় কিছুটা কমেছে, কারন টেস্টও কম হয়েছিল। ফলে বাংলায় করোনা স্বস্তি দিচ্ছে এমন কোনও খবর নেই। তার মাঝেই শুরু গঙ্গাসাগর মেলা, যা সুপারস্প্রেডর হতে পারে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।












Click it and Unblock the Notifications