তিন জায়গাতেই নারী নির্যাতন, সন্দেশখালির আন্দোলনের পাশে কামদুনি ও সুঁটিয়া?
সন্দেশখালির সাধারণ মানুষের পাশে সুঁটিয়া ও কামদুনির নির্যাতিতাদের পরিবার?সেই প্রশ্ন আরও জোরালো হচ্ছে। শুক্রবার সন্দেশখালি যাওয়ার চেষ্টা করলেন কামদুনির টুম্পা কয়াল ও মৌসুমি কয়াল।
এছাড়াও সুঁটিয়া প্রতিবাদী মঞ্চের তরফ থেকেও সন্দেশখালির মানুষদের সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার চেষ্টা হয়। সন্দেশখালিতে শেখ শাহজাহানের বাহিনী মহিলাদের উপর নির্মম আচরণ করত। গণধর্ষণ, শ্লীলতাহানি, মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের একাধিক অভিযোগ আসছে।

কার্যত একই জেলার তিনটি অঞ্চল সুঁটিয়া, কামদুনি ও সন্দেশখালি। গাইঘাটার বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া অঞ্চল সুঁটিয়া। সেখানেও দিনের পর দিন নারীদের সম্ভ্রম নিয়ে কার্যত খেলা করা হত। বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে গণধর্ষণের ঘটনা ঘটত বলে অভিযোগ। তারই প্রতিবাদ করেছিলেন শিক্ষক বরুণ বিশ্বাস। প্রতিবাদ মঞ্চ তৈরি হয়েছিল।
বরুণ বিশ্বাসকে গুলি করে মারা হয়। তবে সুঁটিয়াতে প্রতিবাদ মঞ্চ এখনও রয়েছে। সুঁটিয়ার সেই ভয়াবহ দিন কেটেছে ঠিকই। কিন্তু বহু প্রতিবাদীর প্রাণ চলে গিয়েছে। সেই সুঁটিয়া এবার সন্দেশখালির সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াতে উদগ্রীব। তাদের লড়াইকে আরও বেশি অক্সিজেন জোগাতে চাইছে সুঁটিয়া।
সুঁটিয়ার প্রতিবাদী মঞ্চের সভাপতি ননীগোপাল পোদ্দার সহ পাঁচ জন শুক্রবার সন্দেশখালি চেষ্টা করলেন। পথেই আটকে দেওয়া হল তাদের। সন্দেশখালির নির্যাতিতা মহিলারা শেখ শাহজাহানের বিরুদ্ধে পথে নেমেছে। সেই আন্দোলনের পাশে রয়েছে সুঁটিয়া প্রতিবাদী মঞ্চ। সেই বার্তাই এদিন দেওয়া হয়েছে মাঝপথ থেকে।
পুলিশ তাদের যেতে দেয়নি। মাত্র পাঁচ জন সন্দেশখালির মানুষদের সঙ্গে কথা বলতে যাবেন। এই অনুরোধ করা হয়েছিল প্রতিবাদী মঞ্চের তরফে। কিন্তু সে কথা প্রশাসনের তরফে রাখা হয়নি।
সন্দেশখালির কাছাকাছি একটি অঞ্চল বারাসতের কামদুনি। তৃণমূল জমানায় ন্যক্কারজনক গণধর্ষণের ঘটনা ঘটেছিল এখানে। প্রতিবাদের ঝড় দেখেছিল কামদুনি। গোটা বাংলার কাছে কামদুনি হয়েছিল চর্চার জায়গা। ভয়াবহ গণধর্ষণ ও খুনের ঘটনা ঘটেছিল তৃণমূল সরকার আসার পরপরই।
ন্যায্য বিচারের দাবিতে মৌসুমি কয়াল, টুম্পা কয়ালরা এখনও লড়াই করছেন। সুপ্রিম কোর্টে এখন এই মামলা বিচারাধীন। এবার সন্দেশখালির পাশে দাঁড়ালেন মৌসুমি, টুম্পা। আজ শুক্রবার তারাও সন্দেশখালির উদ্দেশ্যে বেরিয়েছিলেন।
ধামাখালি থেকে নদী পেরিয়ে সন্দেশখালি যান মৌসুমি ও টুম্পা। সাধারণ মানুষের সঙ্গে তারা কথা বলবেন। কামদুনির প্রতিবাদীরা ও নির্যাতিতার পরিবারের সদস্যরা সন্দেশখালির মানুষের পাশে আছেন। এই বার্তা দেওয়ার জন্যই তাদের যাওয়া। এই কথাই জানানো হয়। তবে পুলিশ তাদেরও পথ আটকায়।
প্রশ্ন উঠছে, উত্তর ২৪ পরগনার তিন অঞ্চল কি এবার এক সূত্রে বাঁধা পড়ছে? মহিলাদের উপর নির্যাতন, ধর্ষণ তিন জায়গাতেই হয়েছে বলে অভিযোগ। আর সেখানে জড়িয়ে গিয়েছে শাসক দলের নামও।












Click it and Unblock the Notifications