Sandeshkhali: আদালতের রায়ে চাপে শাহজাহান শেখ, মঙ্গলেই গ্রাউন্ড জিরোয় তৃণমূলের প্রতিনিধি দল
আজও হাজিরা দেয়নি শাহজাহান শেখ। এই নিয়ে তৃতীয়বার হাজিরা এড়ালেন সন্দেশখালির বাঘ। এদিকে আগাম জামিনের আর্জি নিয়ে কোনও নির্দেশই দেয়নি আদালত। কাজেই সব দিক দিয়েই চাপ বাড়ছে শাহজাহান শেখের উপর। আজও দিনভর উত্তাল থেকেছে সন্দেশখালি।
এদিকে আগামীকালই নাকি সন্দেশখালি যাচ্ছে শাসক দলের প্রতিনিধি দল। সত্যিই ঘটনাটা কী ঘটেছিল সেটা খতিয়ে দেখতেই নাকি তৃণমূলের প্রতিনিধিদল যাবেন সেখানে। এবার প্রশ্ন উঠছে ১৪৪ ধারা জারি রয়েছে বলে যেখানে বিজেপি থেকে বাম বিরোধী দলের কাউকেই সন্দেশখালির চৌহদ্দির মধ্যে ঢুকতে দেওয়া হল না সেখানে শাসক দলের প্রতিনিধিদল কেন ছাড় পাবেন।

তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিনিধি দল আগামীকাল সন্দেশখালি যাচ্ছে। তবে সন্দেশখালি থানা এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি থাকায় সেই এলাকার তারা যাবেন না। তবে ১৪৪ ধারার বাইরে থাকা এলাকায় গিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিনিধিরা সেখানকার মানুষের সঙ্গে কথা বলবেন।
জানা গিয়েছে, অশোকনগরের বিধায়ক নারায়ণ গোস্বামী এবং নৈহাটির বিধায়ক পার্থ ভৌমিক ওই প্রতিনিধি দলে থাকবেন। অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে সন্দেশখালির বিধায়ক সুকুমার মাহাতোকে এলাকার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে রিপোর্ট জমা দিতেও বলা হয়েছে। এছাড়া ১৪৪ ধারা প্রত্যাহারের পর সন্দেশ খালিতে শান্তিসভা করবে তৃণমূল কংগ্রেস। ওই সভায় থাকবেন পার্থ ভৌমিক, রথীন ঘোষ, নারায়ণ গোস্বামী, ব্রাত্য বসু, তাপস রায়, সুকুমার মাহাতো, নির্মল ঘোষ এবং সুজিত বসু।
শাসক দলের একাধিক নেতার অত্যাচারের প্রতিবাদে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন সন্দেশখালির মহিলারা। তাঁরা শাহজাহান শেখ এবং তার সাগরেদদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করেছেন তা রীতিমতো চাঞ্চল্যকর। উত্তাল পরিস্থিতি সন্দেশখালি নিয়ে। গ্রামবাসীরা অভিযোগ করেছেন শাহজাহান শেখ, শিবু হাজরা এবং উত্তম সর্দাররা জোর করে তাঁদের জমি কেড়ে নিয়েছে। জমিতে নোনা জল ঢুকিয়ে দিয়েছে। এমনকী ছেলে মেয়েদের পড়াশোনা করতে দেয়নি। তার পরিবর্তে তাদের হাতে অস্ত্র তুলে দিয়েছে। তাদের বিভিন্ন বেআইনি কাজ করতে বাধ্য করেছে।
সন্দেশখালির মহিলারা আরও অভিযোগ করেছেন যে শাহজাহান শেখ এবং তার দলবলের কথা না শুনলে রাতের বেলায় বাড়ির মেয়ে-বউদের পার্টি অফিসে ডেকে নিয়ে গিয়ে অত্যাচার করা হত। অত্যাচার সহ্য করতে করতে প্রতিবাদে দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গিয়েছে তাঁদের। সেকারণে রাস্তায় লাঠি-ঝাঁটা হাতে নেমে পড়েছিলেন তাঁরা। টানা ২ দিন ধরে তারা পুিলশের কাছে শাহজাহান শেখ এবং তার দলবলের গ্রেফতারির দাবি জানিয়েছে।
অবশেষে পরিস্থিতি সামাল দিতে গতকাল তৃণমূল কংগ্রেস উত্তম সর্দারকে দল থেকে ৬ বছরের জন্য সাসপেন্ড করে। তারপরেই পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। তবে শিবু হাজরা এবং শাহজাহান শেখরা এখনও অধরা। শিবু হাজরার অভিযোগের প্রেক্ষিতে গ্রেফতার করা হয়েছে সিপিএমের প্রাক্তন বিধায়ক নিরাপদ সর্দারকে। নিরাপদ সর্দার প্রথম মুখ খুলেছিলেন শাহজাহান শেখ এবং শিবু হাজরাদের বিরুদ্ধে।
এদিকে গতকাল এবং আজ বিজেপি এবং সিপিএমের প্রতিনিধিদল একাধিকবার সন্দেশখালিতে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন কিন্তু তাদের মাঝপথেই আটকে দেওয়া হয়েছে। এমনকী রাজ্যপালকে আটকে দেওয়া হয়েছিল। তারপরে অনেকক্ষণ পর রাজ্যপাল প্রবেশ করেন সন্দেশখালিতে। সেখানে রাজ্যপালকে সামনে পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন সন্দেশখালির মহিলারা।












Click it and Unblock the Notifications