মতুয়া ভোটব্যাঙ্ক কি ফিরে পাবে তৃণমূল, মমতার ‘ছোট্ট ভুল’ বুমেরাং হবে না তো পঞ্চায়েতে
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ক্ষমা চাইতে হবে বলে দাবি করেন শান্তনু। তিনি ক্ষমা না চাওয়া পর্যন্ত প্রতিবাদ আন্দোলন চলবে মতুয়াদের।
সম্প্রতি বিজেপির দিকে ঝুঁকেছিল মতুয়া ভোট। কিন্তু নাগরিকত্ব আইন নিয়ে গড়িমসি মতুয়াদের আবার ভাবাচ্ছে। তৃণমূলও ভোটব্যাঙ্ক ফিরে পাবার আশায় জনসংযোগ শুরু করেছে। কিন্তু সম্প্রতি উত্তরবঙ্গের এক সভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটা 'ছোট্ট ভুল' আবার তৃণমূলের কামব্যাককে প্রশ্নের মুখে ছেলে দিয়েছে।
মতুয়া মহলে দাবি উঠেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ভুল স্বীকার করতে হবে। কেন্দ্রীয়মন্ত্রী বিজেপি সাংসদ তথা মতুয়া মহাসঙ্ঘের সঙ্ঘাতিপতি শান্তনু ঠাকুর তো গর্জে উঠেছেনই। প্রাক্তন সাংসদ তথা তৃণমূলের মতুয়া মুখ মমতাবালা ঠাকুরকেও লিখিতভাবে আবেদন করতে হয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে। মতুয়াদের চাপেই তাঁকে এই আবেদন করতে হয় বলে জানা গিয়েছে।

কেন্দ্রীয়মন্ত্রী তথা অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসঙ্ঘের সঙ্ঘাধিপতি শান্তনু ঠাকুর অভিযোগ করেন, মতুয়াদের ধর্মগুরু হরিচাঁদ ঠাকুর ও গুরুচাঁদ ঠাকুরের নাম মুখ্যমন্ত্রী ইচ্ছাকৃত ভাবে ভুল উচ্চারণ করেছেন। এ জন্য মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ক্ষমা চাইতে হবে বলে দাবি করেন তিনি। তিনি ক্ষমা না চাওয়া পর্যন্ত প্রতিবাদ আন্দোলন চলবে।
কিন্তু বনগাঁর প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ মমতাবালা ঠাকুর আবার ভিন্নমত পোষণ করেন। তিনি বলেন, "অনেক সময়ে বক্তৃতা দিতে গিয়ে ভুল শব্দ বেরিয়ে যায়। মুখ্যমন্ত্রীও নাম বলতে গিয়ে ভুল বলে ফেলেছেন। আমরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে লিখিতভাবে আবেদন করছি। আমরা আবেদন করেছি ভুল সংশোধন করে নিতে।"
উল্লেখ্য, দিন কয়েক আগে মালদহের এক সভায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হরিচাঁদ ও গুরুচাঁদ ঠাকুরের নাম বিকৃতভাবে উচ্চারণ করেন। তা নিয়েই বিতর্ক দানা বাঁধে মতুয়া মহলে। গর্জে ওঠেন মতুয়া মহাসঙ্ঘের সঙ্ঘাধিপতি শান্তনু ঠাকুর। এই ছোট্ট ভুলে ক্ষুন্ন মতুয়াদের একাংশও। তবে অনেকেই বলছেন, মতুয়াদের জন্য মুখ্যমন্তী এত বছর ধরে অনেক কিছু করেছেন। ভাষণের সময় উচ্চারণ করতে গিয়ে সমস্যা হয়েছে, তাই তা বড় করে দেখা উচিত নয়।
মঙ্গলবার মালদহের গাজোলে সরকারি অনুষ্ঠান থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষের জন্য আমরা সব কিছু করেছি। আর নির্বাচন এলেই ওরা এসে ভাত খায়। আর ক্যা ক্যা করে। এনআরসির নাম নিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করে। মতুয়াদের ভোটার কার্ড রয়েছে, তাঁরা ভোট দিতে পারেন, আধার কার্ড রয়েছে, যাবতীয় সুযোগসুবিধা পান আর পাঁচজনের মতো।
মমতা বলেন, তারপরেও নাগরিকত্ব প্রমাণ নিয়ে কেন প্রশ্ন। রাজ্যের সরকার ওদগের পাশে আছে। ভুল বুঝবেন না। বিজেপি আপনাদের ভুল বোঝাচ্ছে। সিএএ দিয়ে ওরা ভউল বোঝাচ্ছে। আপনারা নিশ্চিন্ত থাকুন, সমত্ উদ্বাস্তুদের জমির দলিল দেওয়া হবে।












Click it and Unblock the Notifications