মমতাকে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী করে ছাড়ব, মতুয়ামহল থেকে তৃণমূলকে উৎখাতের ডাক শুভেন্দুর
মমতাকে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী করে ছাড়ব, মতুয়ামহল থেকে তৃণমূলকে উৎখাতের ডাক শুভেন্দুর
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যারের সৌজন্যের ডাকে সাড়া দিয়ে ২৪ ঘণ্টা আগেই সাক্ষাৎ করে এসেছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি সেই সাক্ষাতে নমস্কার প্রতি নমস্কারও জানিয়েছেন। সৌজন্য ও শালীনতা রক্ষা করেছেন, তা বলে রাজনৈতিকভাবে তাঁকে রেয়াত করছেন না শুভেন্দু। এবার তাই সরাসরি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিলেন তিনি।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে উৎখাতের ডাক দিয়ে শুভেন্দু বলেন, গণতান্ত্রিকভাবে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী করে ছাড়ব মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। ঠাকুরবাড়িতে গিয়ে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিরোধীদের কাছে আত্মসমর্পণ করছেন। তা বলে আমরা কিন্তু ছেড়ে কথা বলব না।
শুভেন্দু বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নন্দীগ্রামে হারিয়েছি, গণতান্ত্রিকভাবে হারিয়ে তাঁকে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী করব। এই ঠাকুরবাড়িতে দাঁড়িয়ে আমি এ কথা বলে গেলাম। বাংলার মসনদ থেকে তাঁকে সরিয়ে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী করার লক্ষ্য নিয়েই চলছি আমরা। আমাদের লক্ষ্য রাজ্যের মাটিতে ডাবল ইঞ্জিন সরকার প্রতিষ্ঠা করা।
শনিবার মতুয়া-গড় ঠাকুরনগরের একটি পার্টি সমাবেশে দাঁড়িয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, নন্দীগ্রামের মাটিতে যখন তাঁকে হারাতে পেরেছি, বাংলার মাটি থেকেও তাঁকে উৎখাত করতে পারব, সেই বিশ্বাস আমাদের আছে। এদিন মতুয়া মহলে শুভেন্দু অধিকারী সিএএ ইস্যুতেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে একহাত নেন।
শুক্রবার বিধানসভা অধিবেশনের শেষ দিনে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে নিজের ঘরে ডেকে পাঠান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুভেন্দু অধিকারী বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর দফতরের এক কর্মীর বার্তা শুনে আমি শর্ত দিয়েছিলাম, যাবো কিন্তু দু-তিনজন বিধায়ককে নিয়ে। তেমনই অগ্নিমিত্রা পাল, অশোক লাহিড়ী, মনোজ টিগ্গাকে নিয়ে শুভেন্দু মুখ্যমন্ত্রীর ঘরে যান।
মাত্র কয়েক মিনিট উভয়ের মধ্যে সৌজন্য সাক্ষাৎ হয়। শুভেচ্ছা বিনিময় হয়। বিধানসভা অধিবেশনের বেল বেজে যাওয়ায় শুভেন্দুকে চা খাওয়াতে পারেননি। বলেন, অন্য একদিন খাইয়ে দেবো। এই সৌজন্য সাক্ষাৎ নিয়ে বাংলার রাজনীতি সরগরম হয়ে ওঠে। রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। এরই মধ্যে শুভেন্দু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রণাম করেছেন কি না, তা নিয়ে চর্চা শুরু হয়। শুভেন্দুও এর কড়া প্রতিক্রিয়া দেন।
তবে মমতা-শুভেন্দু সাক্ষাৎ এবং সখ্যতা শুক্রবারই শেষ হয়েছে। কেননা শনিবার ফের শুভেন্দুকে স্বমহিমায় দেখা যায়। শুভেন্দু দ্ব্যর্থহীন ভাষায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করেন। বলেন, উনি কিছুদিন আগে বলেছিলেন বাংলার টাকা আটকাতে বিরোধী দলনেতা চিঠি দেন। কাল সেই কথা তিনি গিলেছেন। স্নেহের ভাই বলে উল্লেখ করেছেন। আসলে তিনি বিরোধীদের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন। এরপরই তিনি মুখ্যমন্ত্রীকে প্রাক্তনে পরিণত করার হুঁশিয়ারি দেন।












Click it and Unblock the Notifications