শাহজাহান ফ্ল্যান ক্লাব লেখা মুছল পুলিশ, মাঠ ফিরিয়ে দেওয়া হল মানুষের কাছে
ঋষি অরবিন্দ ইংরেজদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ নাম। সেই মহান বিপ্লবীর নামে এলাকায় ছিল একটি মাঠ। পরিবর্তনের হাওয়ায় সেই নাম বদল হয়ে যায়? প্রতিবাদ সামনে আসেনি! কারণ জায়গাটা শেখ শাহজাহানের।
সেই শেখ শাহজাহান। যার নামে গোটা সন্দেশখালি চলে। গাছের পাতা তার কথা ছাড়া নড়ে না। বাঘ কুমির একসঙ্গে নদীর ঘাটে জল খেতে আসতে পারে! বেতাজ বাদশা সন্দেশখালির। একসময় ওই মাঠ নামাঙ্কিত হয়ে যায় তার নামে? কীভাবে হল? কেন হল? সেই বিষয়ে কোনও উত্তর পাওয়া যায়নি।

এলাকার বহু জমি দখল হয়ে গিয়েছিল। পুকুর বুজিয়ে তৈরি হয়ে গিয়েছিল জমি। কারোর কোনও প্রতিবাদ খাটত না হয়তো। তেমনভাবেই শেখ শাহজাহানের নামে বদলে যায় ঋষি অরবিন্দের জায়গা। শেখ শাহজাহানের নামে নামকরণ হয় মাঠের।
শেখ শাহজাহান ফ্যান ক্লাব তৈরি হয়েছিল সন্দেশখালিতে। মূলত শাহজাহান বাহিনী এই ফ্যান ক্লাব চালাতো। তাদের দখলেই থাকত ওই মাঠ। ফলে সাধারণ মানুষ আর তেমনভাবে ওই মাঠে যেতে পারত না। এলাকার ছেলেদের খেলাধুলোর তেমনভাবে সুযোগ ছিল না। এমন কথা জানা যাচ্ছে।
সন্দেশখালি কাণ্ডে ৪৮ দিনের মাথায় নড়েচড়ে বসেছে পুলিশ। ডিজিপি রাজীব কুমার নিজে সন্দেশখালি পৌঁছেছেন। সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলেছেন। বসিরহাটের পুলিশ সুপার, অন্যান্য আধিকারিকদের সঙ্গে দীর্ঘ সময় বৈঠক করেছেন তিনি। অপরাধীদের গ্রেফতার করা হবে। এই বার্তা তিনি দিয়েছেন।
তারপরেই যেন কিছুটা হলেও বদলে গিয়েছে পুলিশের ব্যস্ততা। যে সন্দেশখালিতে পুলিশের গতিবিধি তেমন দেখা যেত না বলে অভিযোগ। সেখানেই তৎপরতা বেড়েছে প্রশাসনিক মহলে। জানা গিয়েছে, সাধারণ মানুষকে সেই মাঠ ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
মাঠের দেওয়ালে শাহজাহান ফ্যান ক্লাব লেখা ছিল। সেখানে পড়েছে চুনের প্রলেপ। পুলিশ কর্মীরা চুন দিয়ে সেই লেখা মুছেছেন। শাহজাহান নামাঙ্কিত মাঠ ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে সাধারণ মানুষের কাছে। জন সংযোগ বাড়ানোর বার্তা দিয়েছেন রাজীব কুমার। সেখানে পুলিশের তরফ থেকে খেলার সামগ্রী, জার্সি তুলে দেওয়া হয়েছে।
তাহলে কি শাহজাহান জমানা শেষ হতে শুরু করল? এই প্রশ্ন পুলিশের ভূমিকা থেকেই শুরু করেছে। এই বিষয়ে কটাক্ষ করেছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। ঋষি অরবিন্দের নামে ছিল এই মাঠ। সেটি দখল হয়ে গিয়েছিল। কোথায় ঋষি অরবিন্দ আর কোথায় শেখ শাহজাহান? ভাবতে অবাক লাগলেও এটাই বাংলার বাস্তব অবস্থা। শেখ শাহজাহানের স্ট্যাটাসে বাংলাকে নামিয়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এমনই কটাক্ষ করলেন সুকান্ত মজুমদার।












Click it and Unblock the Notifications