সকালে ফের ১৪৪ ধারা জারি! সন্দেশখালিতে বাধা পেয়ে কী বললেন শুভেন্দু অধিকারী-বৃন্দা কারাতরা
সোমবার কলকাতা হাইকোর্টের কৌশিক চন্দের বেঞ্চ বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে সন্দেশখালিতে যাওয়ার অনুমতি দেন। অস্থায়ীভাবে ১৪৪ ধারা প্রত্যাহারের নির্দেশও দেন বিচারপতি। কিন্তু এদিন সকালে বিরোধী দলনেতাকে সন্দেশখালির পথে ধামাখালিতে বাধা দেওয়া হয়। বাধা দেওয়া হয় সিপিআইএম নেত্রী বৃন্দা কারাতের নেতৃত্বাধীন দলকেও।
এদিন সকাল নটা থেকে সন্দেশখালির বারোটি জায়গায় নতুন করে একশো চুয়াল্লিশ ধারা জারি করে প্রশাসন। তারপরেই সেখানে যাওয়া রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের বাধা দেওয়া শুরু হয়।

মঙ্গলবার সকালে প্রথমে সন্দেশখালির পথে ধামাখালিতে পৌঁছে যান সিপিআইএম নেত্রী বৃন্দা কারাত। তাঁর সঙ্গে ছিলেন সিপিআইএমের অন্য মহিলা নেত্রীরাও। কিন্তু ধামাখালিতে মহিলা পুলিশ দিয়ে তাঁকের আটকানো হয়। বলা হয় নতুন করে একশো চুয়াল্লিশ ধারা জারি করার কথা। পুলিশ আধিকারিকারদের সঙ্গে বেশ কিছুক্ষণ তর্ক-বিতর্কও চলে।
সেই সময় বৃন্দা কারাত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করেন। সন্দেশখালিকে বাংলার লজ্জা বলে উল্লেখ করে বারে বারে একশো চুয়াল্লিশ ধারা জারির সমালোচনা করেন। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি রাষ্ট্রপতি শাসন জারির দাবির বিরোধিতা করেন।
বৃন্দা কারাত বলেন, রাষ্ট্রপতি শাসন মানে বিজেপির শাসন। এসসি কমিশন বা মহিলা কমিশন এগুলো রাজনৈতিক কথা বলে। তবে মমতা যা করেছেন এরাজ্যে, বিশেষত মহিলা মুখ্যমন্ত্রী থাকার পরেও মহিলাদের বিরুদ্ধে যে অত্যাচার হয়েছে তা নজিরবিহীন বলে মন্তব্য করেন বৃন্দা কারাত। শেখ শাহজাহানকে কেন এখনও গ্রেফতার করা হল না, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
এর পরেই ধামাখালিতে পৌঁছন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এবং বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ-সহ প্রতিনিধি দল। সেখানে তাঁদেরকে বাধা দিয়ে পুলিশের তরফে ১৪৪ ধারা জারি করার কথা বলা হয়। পুলিশ কর্তা জানান, সোমবারের হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে রাজ্য সরকার ডিভিশন বেঞ্চে গিয়েছে। সেই কারণেই এই বাধা।
ধামাখালিতে বাধা পেয়েই সেখানে রাস্তায় বসে পড়েন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে তাঁরা স্লোগানও দেন। তিনি বলেন, হাইকোর্টকে মানছে না মমতার প্রশাসন। হাইকোর্টের অনুমতি সত্ত্বেও কীভাবে বাধা তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বিরোধী দলনেতা। একঘন্টা অপেক্ষা করার পরে তিনি ফের ফিরে গিয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হবেন বলেও জানান বিরোধী দলনেতা।
এদিকে জাতীয় মহিলা কমিশনের প্রধান রেখা শর্মা সংবাদ মাধ্যমকে বলেছেন, সুপ্রিম কোর্টের উচিত সন্দেশখালি নিয়ে সুওমোটো মামলা করা এবং তদন্তের জন্য বিশেষ দল গঠন করে দেওয়া। সন্দেশখালিতে আঠারো বছরের কম বয়সীরাও সেখানে তাঁদেরকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ করেছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।












Click it and Unblock the Notifications