খোল বাঁচানোর উদ্যোগ সুন্দরবনে, বেরোল শোভাযাত্রা
খোল বাঁচানোর উদ্যোগ সুন্দরবনে, বেরোল শোভাযাত্রা
একদিকে ২১ এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে নির্বাচনী প্রচার, অন্যদিকে বাংলার হারিয়ে যাওয়া বাদ্যযন্ত্র 'খোল বাঁচানোর উদ্যোগ সুন্দরবনে। হারানো গৌরব ফেরাতে শ্রীখোল নিয়েই শোভাযাত্রা করলেন হিঙ্গলগঞ্জের বিধায়ক। এদিন শতাধিক খোল শিল্পীর সঙ্গে শোভাযাত্রায় অংশ নিলেন বিধায়ক দেবেশ মণ্ডলও। খোল বাজিয়ে সম্প্রীতির বার্তাও ছড়ালেন তিনি।

এদিন বসিরহাট মহকুমার সুন্দরবনের হিঙ্গলগঞ্জ ব্লকের এক ধর্মীয় সভায় কয়েকশো শ্রীখোল শিল্পীদের নিয়ে রাস্তায় নামেন হিঙ্গলগঞ্জের বিধায়ক দেবেশ মন্ডল। আগামী বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যের উন্নয়নমূলক প্রচারের পাশাপাশি, উদ্যোক্তাদের লক্ষ্য ছিল, শ্রীখোল বা মৃদঙ্গ শিল্পকে বাংলার সংস্কৃতিতে টিকিয়ে রাখার বার্তা দেওয়া।
শিল্পীদের উৎসাহ দিতে নিজের গলায় খোল নিয়ে শোভাযাত্রায় পা মেলান হিঙ্গলগঞ্জের বিধায়ক দেবেশ মণ্ডল। তিনি জানান, 'বাংলার নিজস্ব বাজনা এই খোল, সেই সংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রাখতেই আমাদের এই উদ্যোগ। একইসঙ্গে শ্রীখোলের মধুর শব্দে কৃষ্ণনামের মাধ্যমে সকল সম্প্রদায়কে সংযুক্ত করা প্রচেষ্টা করছি।'
এদিনের শোভাযাত্রায় পা মেলান খোলশিল্পী দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ও। শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভুর কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, 'একসময় মহাপ্রভু বলেছিলেন, কলি যুগে বাড়িতে বাড়িতে খোলের মধুর শব্দ ধ্বনিত হবে। মহাপ্রভুর সেই বাণীকেই ছড়িয়ে দিতে এই শোভাযাত্রা। আসলে 'খোল'কে আমরা 'শ্রীখোল' বলি। যার অর্থ সুন্দর ও খোলা। যার মধ্যে মনের সমস্ত সুন্দরভাব খোলা ভাবে প্রকাশ করা যায়। তাই এই বাদ্যযন্ত্রকে টিকিয়ে রাখতেই আমাদের এই উদ্যোগ।
তিনি আরও বলেন, 'বাংলার বাদ্যযন্ত্র খোল, মৃদঙ্গকে তুলে ধরতে এই সরকারের বড় ভূমিকা রয়েছে। সরকারি প্রচেষ্টায় ফের বাংলার বাদ্যযন্ত্রগুলি পরিচিতি পাচ্ছে। তাতে আমরা সরকারের কাছে কৃতজ্ঞ থাকব।'
প্রসঙ্গত, শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর হরিনাম সংকীর্তন থেকে খোল, মৃদঙ্গ বাংলায় বাদ্যযন্ত্রের পরিচিতি পায়। কিন্তু বাদ্যযন্ত্রের দুনিয়াতেও এসছে আধুনিকতার ছোঁয়া। এছাড়াও ভারতীয় কিছু বাদ্যযন্ত্র ঢোল, তবলা বা হারমোনিয়ামকে অনেকে বাংলার বলে মনে করেন। কিন্তু আদতে তা একেবারেই নয়। বাংলা নিজস্ব বাদ্যযন্ত্র হল এই শ্রীখোল ও মৃদঙ্গ। অথচ কালের নিয়মে এগুলি হারিয়ে যেতে বসেছে।












Click it and Unblock the Notifications