Sandeshkhali: অজিত মাইতির গ্রেফতারির পরেও মিটছে না ক্ষোভ, এবার দায়িত্বে আসা হলধর আড়ির বাড়িতে হামলা
সোমবার সকাল থেকে ফের তপ্ত সন্দেশখালির বেড়মজুর। কিছুতেই থামছে না ক্ষোভের আগুন। গতকাল অতিজ মাইতির গ্রেফতারের পর আজ ফের এলাকার আরেক তৃণমূল কংগ্রেস নেতা হলধর আড়ির বাড়িতে হামলা চালানো হয়েছে। গতকালই অজিত মাইতিকে সরিয়ে তাঁকে অঞ্চল সভাপতির পদে বসানোর কথা ঘোষণা করেছিলেন মন্ত্রী পার্থ ভৌমিক।
গতকাল রাতে তাঁর বাড়িতে খড়ের গাদায় কে বা কারা আগুন ধরিয়ে দিয়ে যায়। এবং সকাল হতেই গ্রামের মহিলারা তাঁর বাড়ির সামনে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন। গতকাল অজিত মাইতিকে ধাওয়া করেছিলেন গ্রামের মহিলারা। পালিয়ে তিনি আশ্রয় নিয়েছিলেন এক সিভিক ভলান্টিয়ারের বাড়িতে। দীর্ঘক্ষণ সেখানে আটকে ছিলেন তিনি। পরে বিশাল পুলিশবাহিনী গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে।

সন্ধেবেলা পুলিশ আটক করে অজিত মাইতিকে। পরে রাতে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। অজিত মাইতির স্বীকার করেছিলেন যে শাহজাহান শেখের সঙ্গে থেকে পচা আলু হয়ে গিয়েছিলেন তিনি। শাহজাহান শেখ তাঁকে মারধর করে তৃণমূলে যোগদান করিয়েছিলেন। আগে তিনি বিজেপি করতেন।
গত ২ দিন ধরে বেড়মজুরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে রয়েছে। বেড়মজুর ১ গ্রামপঞ্চায়েতের অঞ্চল সভাপতি অজিত মাইতির বিরুদ্ধে বিক্ষোভের পারা চড়তে চড়তে চরমে উঠেছিল। শেষে গতকাল তাঁকে রাস্তায় দেখে আর ঠিক থাকতে পারেনি গ্রামের মহিলারা ধাওয়া করতে শুরু করেন। তারপরেই উত্তেজনা চরমে ওঠে। সিভিক ভলান্টিয়ারের বাড়িতে নিজেকে আটকে রাখেন।
পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে নিয়ে গিয়ে প্রথমে আটক করে। তারপরে তাঁকে গ্রেফতার করে। অজিত মাইতির উপরে ক্ষোভ আছড়েপড়েছে শোনার পরেই তাঁকে পদ থেকে সরিয়ে হলধর আড়িকে দায়িত্ব দেয়। কিন্তু সেই হলধ আড়িও নাকি দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত এমনই অভিযোগ করেছেন গ্রামবাসীরা। গতকাল রাতে তাঁর বাড়িতেও হামলা চালানো হয়। কে বা কারা তাঁর বাড়ির পিছনের খড়ের গাদায় আগুন ধরিয়ে দেয়। ইতিমধ্যেই পুলিশ তাঁর বাড়ি পাহারা দিচ্ছে।
হলধর আড়ি অভিযোগ করেছেন যাঁকেই পদে বসানো হচ্ছে তাঁর উপরেই আক্রমণ হচ্ছে। গ্রামের মহিলারা নাকি বলেছেন তৃণমূলের কাউকে এখানে টিকতে দেব না। হলধর মাইতি নিজে সংবাদ মাধ্যমকে সেকথা জানিয়েছেন। সেকারণেই পদে বসানোর পরেই তাঁর বাড়িতে হামলা হয়েছে। হলধর আড়ির বিরুদ্ধে অভিযোগ তিনি নাকি জবকার্ড নিয়ে দুর্নীতি করেছেন।
যদিও গ্রামবাসীদের সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন হলধর আড়ি। তবে অজিত মাইতি, শেখ সিরাজ এবং শাহাজাহান শেখ যে এলাকায় জমি দখল করে বেরিয়েছে এবং দুর্নীতি করেছে সেকথা স্বীকার করে নিয়েছেন তিনি। গতকাল অজিত মাইতিও স্বীকার করে নিয়েছিলেন যে শাহজাহান শেখ এবং শেখ সিরাজের নেতৃত্বে এলাকায় জমি দখল চলেছে। গ্রামবাসীদের উপরে অত্যাচার হয়েছে। এদিকে সকাল থেকে অজিত মাইতির বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ জমা পড়েছে।












Click it and Unblock the Notifications