Sandeshkhali: ৩ মন্ত্রী গ্রামে পা রাখার আগেই তৎপর প্রশাসন, গ্রামবাসীদের জন্য খোলা হল অভিযোগ জানানোর শিবির
সন্দেশখালি নিয়ে এবার তৎপর স্থানীয় প্রশাসন। ৩ মন্ত্রী আজ যাচ্ছেন সেখানে। তার আগেই তৎপরতা তুঙ্গে। গ্রামবাসীদের অভিযোগ জানতে খোলা হয়েছে অভিযোগ গ্রহণের শিবির। যেখানে এসে গ্রামবাসীরা তাঁদের অভিযোগ জানিয়ে যেতে পারবেন।
এখন প্রশ্ন উঠছে এতোদিন কেন এই নিয়ে তৎপর ছিল না স্থানীয় প্রশাসন। গ্রামবাসীরা বারবার অভিযোগ করেছেন শিবু হাজরা, উত্তম সর্দার, শাহজাহান শেখদের নামে বারবার অভিযোগ জানানো হয়েছে পুলিশের কাছে। কিন্তু কোনও ব্যবস্থা নেয়নি পুিলশ। উল্টে তাঁদের পাঠিয়ে দেওয়া হতো শিবু, উত্তমদের কাছেই।

হঠাৎ করে সেই সন্দেশখালিতে কীভাবে রাতারাতি অভিযোগ গ্রহণের শিবির খুলল প্রশাসন তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। গতকাল রাতে শাহজাহান শেখের আরেক সাগরেদ শিবু হাজরাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গণধর্ষণ এবং খুনের চেষ্টার ধারায় তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত অধরা মাস্টারমাইন্ড শাহজাহান শেখ। শিবু হাজরার গ্রেফতারিকে আইওয়াশ বলে দাবি করেছে বিরোধীরা।
এদিকে আজই তৃণমূল কংগ্রেসের তিন নেতা এবং রাজ্যের তিন মন্ত্রী যাচ্ছেন সন্দেশখালিতে। ব্রাত্য বসু, পার্থ ভৌমিক ও সুজিত বসুরা আজ সন্দেশখালি যাবেন। সেখানে একটি কর্মিসভা করার কথা ছিল তাঁদের। কিন্তু পরে সেই কর্মি সভা বাতিল করা হয়েছে। তবে ৩ মার্চ সন্দেশখালিতে জনসভা করার কথা ঘোষণা করেছে শাসক দল। সেখানে এক লক্ষ মানুষের জমায়েতের চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে তারা।
এদিকে শিবু হাজরা এবং উত্তম সর্দার গ্রেফতারের সঙ্গে সঙ্গে যেন অতি তৎপর হয়ে উঠেছে সন্দেশখালির প্রশাসন। এদিন যাঁদের নাকের ডগায় বিঘের পর বিঘে জমি দখল করে নিতেন শাহজাহান শেখ এবং তার সাগরেদরা। হঠাৎ করে সেই সব অভিযোগ গ্রামবাসীদের কাছ থেকে জানতে তৎপর হয়ে উঠেছে। গ্রামবাসীদের অভিযোগ শুনতে খোলা হয়েছে শিবির। মাইকিং করে গ্রামে জানানো হয়েছে তাঁরা যেন তাঁদের সব অভিযোগ এই ত্রাণশিবিরে এসে জানিয়ে যান।
শিবু হাজরা, উত্তম সর্দাররা দিনের পর দিন তাঁদের ফলন্ত জমিতে নোনা জল ঢুকিয়ে ভেড়ি তৈরি করে সেই জমি দখল করেছে। বিনা পারিশ্রমিকে খাটিয়ে নিয়েছে। টাকা চাইতে গেলে জুটেছে মারধর। এমনকী দোকান থেকে সবজি-পাতি কিনেও টাকা দেয়নি তারা। এতোটাই অত্যাচার চালিয়েছে তারা। জোর করে গ্রামের মেয়েদের রাতের অন্ধকারে তুলে নিয়ে যাওয়া হতো পার্টি অফিসে। অত্যাচারের অভিযোগ পুলিশের কাছে জানাতে গেলে উল্টে তাঁদের কাছেই পাঠিয়ে দেওয়া হত। দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গিয়েছিল গ্রামের মহিলাদের।
রাজ্যের বনমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক ঘনিষ্ঠ শাহাজাহান শেখ পার্টির ক্ষমতা দেখিয়ে দিনের পর দিন সন্দেশখালিতে ত্রাস তৈরি করে রেখেছিলেন। শাহজাহান শেখের বিষ দাঁত ভাঙবে কে সেদিকে তাকিয়ে ছিলেন গ্রামের মহিলারা। অবশেষে আর সহ্য করতে না পেরে তাঁরা রাস্তায় নামেন। এতোদিন পরে তাঁদের অভিযোগ শুনতে তৎপর হল। সেটা লোকসভা ভোটের লক্ষে না পুরোটাই আইওয়াশ। এই নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।












Click it and Unblock the Notifications