১৪ দিনের সন্তানের মায়ের পেটে লাথি, সেলাই ছিঁড়ে কাতরাচ্ছিলেন, সন্দীপ ঘোষের একের পর এক কীর্তি প্রকাশ্যে
অধ্যক্ষ পদে তাঁর বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ। কিন্তু কেমন চিকিৎসক সন্দীপ ঘোষ। তার যা ব্যাখ্যা শোনা গেল তাতে রোগীদের পিলে চমকে ওঠার দশাই হবে। তাঁর কাছে চিকিৎসা করানো দূরের কথা ভয়ে তাঁর কাছে যেতেই চাইতেন না নাকি রোগীরা। উত্তর ২৪ পরগনার বারাসতে বাড়ি তাঁর। সেখানে নাকি মাঝে মধ্যে রোগী দেখতেন তিনি। এমনিতে হাড়ের ডাক্তার অর্থাৎ অর্থোপেডিক সার্জেন।
সেখানে যাঁরা একটা সময়ে চিকিৎসা করাতে এসেছিলেন তাঁরা যা বললেন তাতে আত্মারাম খাঁচা হয়ে যাওয়ার কথা। মানুষকে সারাবেন কি তাঁদের আধমরা করে ছাড়তেন। বারাসতের নিজের বাড়িতে একটা সময়ে রোগী দেখতেন সন্দীপ ঘোষ। যে চিকিৎসকের কাছে রোগীরা আসেন আরোগ্যে লাভের জন্য। সেখানে সন্দীপ রায়কে দেখাতে এসে চরম হেনস্থার শিকার হতে হতো।

বারাসতের মল্লিক বাগানে তাঁর বাড়ি। নিজের বাড়িতেই রোগী দেখতেন। আবার স্থানীয় একটি নার্সিংহোমেও রোগী দেখতেন তিনি। রোগীদের কাছে ডাক্তার হিসেবে অত্যন্ত দুর্নাম ছিল সন্দীপ ঘোষের। জানা দিয়েছে একটা সময়ে নাকি ১৪ মাসের শিশুর জন্মদাত্রী মায়ের পেটে সজোরে লাথি মেরেছিলেন সন্দীপ ঘোষ। সদ্য মায়ের পেটের সেলাই ছিঁড়ে গিয়েছিল। যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছিলেন তিনি। এতোটাই নির্মম এই চিকিৎসক ঘুরেও দেখেননি স্ত্রীকে। নিজের স্ত্রীর সঙ্গে যিনি এমন আচরণ করতে পারেন বাকি রোগীদের সঙ্গে কেমন ব্যবহার করতে সেটা সহজেই অনুমেয়।
শুধু তাই নয় যাঁরাই তাঁর কাছে চিকিৎসার জন্য আসতেন তাঁদের সঙ্গে চরম দুর্ব্যবহার করতেন সন্দীপ ঘোষ। এমনকী কাগজ পত্র ছুঁড়ে দিতেন। কখনও কখনও ডবল ফি নেওয়ার অভিযোগও করেছেন রোগীরা। তাঁর এই দুর্ব্যবহারের কারণে রোগীরা দেখাতে আসতে চাইতেন না তাঁর কাছে। এর পরে আরজি করের ইতিহাস তো সকলেই জানেন। সেখানে দুর্নীতির অভিযোগের পাহাড় ছিল তাঁর বিরুদ্ধে। কোন অদৃশ্য ক্ষমতাবলে তিনি এই দুষ্কর্ম চালিয়ে গিয়েছেন সরকারি হাসপাতালে দিনের পর দিন।
যদিও আদালতের চরম ভর্ৎসনার পর এখন ছুটিতে রয়েছেন তিনি। হাসপাতালে তরুণী চিকিৎসককে নির্মম ভাবে ধর্ষণ করে খুনের ঘটনার পরেও বহাল তবিয়সে সেখানে অধ্যক্ষ পদে ছিলেন তিনি। এমনকী তরুনী চিকিৎসকরে মা-বাবার সঙ্গে দেখা পর্যন্ত করেননি। বসিয়ে রেখেছিলেন ৩ ঘণ্টা। মেয়ের দেহ দেখতে না দেওয়ার সবরকম চেষ্টা চালিয়েছিলেন তিনি।
ঘটনার তিনদিন পর বাধ্য হয়েই আরজি কর হাসপাতালের অধ্যক্ষ পদ থেকে ইস্তফা দিলেও ঔদ্ধত্য কমেনি তাঁর। ৬ ঘণ্টার মধ্যে ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অধ্যক্ষ পদে নিয়োগ করা হয় তাঁকে। কিন্তু সেখানে পড়ুয়ারা তাঁকে ঢুকতে দেয়নি। তাঁকে অধ্যক্ষ পদে মানবে না বলে চরম বিক্ষোভ চালিয়েছে। শেষ পর্যন্ত আদালতের নির্দেশে সন্দীপ ঘোষকে ছুটিতে যেতে হয়।












Click it and Unblock the Notifications