বেপাত্তা শাহজাহানের জন্য হুঁশিয়ারি! সুকান্তকে থানার সামনে থেকে টেনে-হিঁচড়ে সরাল পুলিশ, ফের ১৪৪ ধারা জারি
সন্দেশখালি থানার সামনে থেকে বিক্ষোভরত বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদারকে টেনে-হিঁচড়ে সরাল পুলিশ। তাঁকে আটক করে টোটোয় চাপিয়ে প্রথমে নিয়ে যাওয়া হয় ফেরিঘাটে। তারপর পুলিশের বোটে তুলে দেওয়া হয়। একইসঙ্গে সন্দেশখালি দুই ব্লকের পাঁচটি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার ন'টি জায়গায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।
এর আগে এদিন বিকেলে সুকান্ত মজুমদারকে সন্দেশখালি পৌঁছনোর পথে বাধা দেয় পুলিশ। তাঁকে বলা হয়, নিরাপত্তারক্ষীদের নিয়ে শুধুমাত্র তিনিই ঢুকতে পারবেন। প্রথমে আপত্তি থাকলেও তিনি সন্দেশখালিতে পৌঁছেই প্রথমে বিজেপি নেতা বিকাশ সিনহার পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন। সেখান থেকে বেরিয়ে তিনি সন্দেশখালি থানায় যান।

সুকান্ত মজুমদারকে থানায় ঢুকতে বাধা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। তারপরেই তিনি থানার সামনে রাস্তায় বসে পড়েন। তিনি জানান, শেখ শাহজাহানকে গ্রেফতার না করা পর্যন্ত তিনি অবস্থান চালিয়ে যাবেন। প্রয়োজনে রাতভর অবস্থানের হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
এরপর পুলিশ বিক্ষোভ তুলে নিতে তাঁকে পাঁচ মিনিটের আল্টিমেটাম দেয়। তারপরেই পুলিশ লাঠি চালিয়ে এলাকা ফাঁকা করে সুকান্ত মজুমদারকে টেনে-হিঁচড়ে তুলে নিয়ে ফেরিঘাটের দিকে চলে যায়।সেই সময় সন্দেশখালি থানার সামনে ধুন্ধুমার পরিস্থিতি তৈরি হয়। গ্রামের মহিলারা জুতো নিয়ে থানার সামনে বিক্ষোভ দেখান।
অন্যদিকে সুকান্ত মজুমদারকে সন্দেশখালি থেকে ধামাখালিতে নিয়ে যাওয়া হয়। ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করার দায়ে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। তবে লঞ্চের মধ্যেই তাঁকে পিআর বন্ডে জামিন দেওয়া হয়। লঞ্চ থেকে নামার পরে তিনি জানান, দলের কর্মীরা না আসা পর্যন্ত তিনি এলাকা ছাড়বেন না। পুলিশ এদিন ব্যাপক লাঠিচার্জ করে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
সুকান্ত মজুমদার দাবি করেছেন, সন্দেশখালি থানার আইসিকে ফোন কল পরীক্ষা করা হলে, শেখ শাহজাহানের হদিশ পাওয়া যাবে। মহিলা পুলিশ দিয়ে বিজেপি নেতাদের ঘিরে ফেলার অভিযোগও তিনি করেছেন। রাজীব কুমারকে একটা সময় যেমন সিবিআই খুঁজে পাচ্ছিল না, সেই রকম তিনি ডিজি হয়ে শেখ শাহজাহানকে লুকিয়ে থাকার উপদেশ দিয়েছেন বলে মন্তব্য করেন সুকান্ত মজুমদার।
প্রসঙ্গত আটদিন আগে, গত ১৪ ফেব্রুয়ারি সন্দেশখালি যেতে চাওয়া সুকান্ত মজুমদারকে টাকিতে আটকে দেওয়া হয়। পুলিশের গাড়ির বনেটের ওপরে ওঠে পড়েন তিনি। তারপরেই অসুস্থ হওয়ার প্রথমে বসিরহাট হাসপাতাল তারপর সেখান থেকে কলকাতার বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।












Click it and Unblock the Notifications