শেখ শাহজাহানের ডেরায় জয় শ্রীরাম ধ্বনি, শাঁখ বাজিয়ে শুভেন্দুকে বরণ সন্দেশখালিতে
কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির নির্দেশ অমান্য করতে পারেনি প্রশাসন। ধামাখালি দিয়েই সন্দেশখালি প্রবেশ করেছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। নেতাকে দেখেই বেরিয়ে এল সাধারণ মানুষজন। উঠল 'জয় শ্রীরাম' স্লোগান।
মঙ্গলবার সকাল থেকেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছিল ধামাখালির রাজনৈতিক পরিস্থিতি। পুলিশ শুভেন্দু অধিকারীদের আটকে দেয়। নাটকীয় পট পরিবর্তন হয় ঘন্টাখানেকের মধ্যে। শেষ পর্যন্ত হাইকোর্ট নির্দেশ দেয় দুজন প্রতিনিধি যেতে পারবেন সন্দেশখালিতে। শঙ্খধ্বনি উঠল এলাকায়।

শুভেন্দু অধিকারী, শঙ্কর ঘোষ দুই বিজেপি বিধায়ক সন্দেশখালিতে পৌঁছান। তারপর থেকেই স্রোত যেন উল্টো দিকে বইছে শুরু করে। গত দেড় মাস ধরে আতঙ্কের পরিবেশ ছিল ওইসব জায়গায়। তৃণমূল বরাবর এলাকায় দাপিয়ে বেরিয়েছে। তাই কোনও বিরোধী শক্তি এলাকায় টু শব্দটি করতে পারত না। এই কথা শোনা যায়।
শেখ শাহজাহানের এলাকায় বিরোধীদের কথা বলার সাহস পর্যন্ত ছিল না। এবার সেখানেই যেন উলোটপুরাণ হতে শুরু করেছে। শুভেন্দু অধিকারীদের দেখে শেখ শাহজাহানের এলাকায় জয় শ্রীরাম স্লোগান। শুধু তাই নয়, শেখ শাহজাহানের ফাঁসির দাবি পর্যন্ত করা হল।
শুভেন্দু অধিকারী ও শঙ্কর ঘোষ সরু পথ দিয়ে সামনে এগিয়ে চলেছেন। পিছনে কয়েকশো সাধারণ মানুষ জয় শ্রীরাম নাড়া দিচ্ছে। হাতে পতাকা। বিজেপির স্লোগানে কার্যত মুখরিত এলাকা। তাহলে কি মানুষের উত্থান হল শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতিতে? সেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
মাত্র দুজনের উপস্থিত হওয়ার কথা ছিল এলাকায়। কিন্তু শুভেন্দু অধিকারীকে দেখে মানুষ সাহস করে বাইরে বেরিয়েছে। এমন বক্তব্য বিজেপি নেতৃত্বের। সাধারণ মানুষ মনে জোর পেয়েছে। এবার শেখ শাহজাহান গ্রেফতার হবে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাকে বাঁচাতে পারবে না। সন্দেশখালির মাটিতে দাঁড়িয়ে এমনই বক্তব্য রাজ্যের বিরোধী দলনেতার।
গ্রামের মা বোনেরা ঘর থেকে বেরিয়ে এসেছেন। শঙ্খধ্বনি বিভিন্ন জায়গাতেই শোনা যায়। উলু দিচ্ছেন গ্রামের মহিলারা। বয়স্করা শুভেন্দু অধিকারীকে দেখে আশীর্বাদের ভঙ্গিমায়। সাধারণ মানুষ ফুল ছুঁড়ে বরণ করছেন শুভেন্দু অধিকারীদের। তার মধ্য দিয়েই হেঁটে চলেছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা।
কখনও সাধারণ মানুষের সঙ্গে দাঁড়িয়ে কথা বলছেন তিনি। গ্রামের বয়স্কদের হাতে ভরসার হাত রাখছেন। আবার কোনও শিশুকে কোলে তুলে নিয়েছেন বিরোধী দলনেতা। মানুষের উত্থান জরুরি ছিল। এমনই মত রাজনৈতিক মহলের একাংশের।
গোটা সন্দেশখালি যেন রাস্তায় নেমে এসেছে শুভেন্দু অধিকারীকে দেখে। মানুষ রাজ্যের বিরোধী দলনেতাকে তাদের অভিযোগ করেছেন।












Click it and Unblock the Notifications