বজবজ যেন বারুদের স্তূপ, বিস্ফোরণের পরেও উদ্ধার বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক
এগরার বিস্ফোরণ কাণ্ডের রেশ কাটতে না কাটতেই দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাজি কারখানায় বিস্ফোরণ। তাতে তিন জনের মৃত্যু হয়েছে। বিস্ফোরণের পরের দিনই সেখান থেকে প্রচুর পরিবামানে বিস্ফোরক উদ্ধার হয়েছে। প্রায় ২০ কেজি মত বিস্ফোরক উদ্ধার করেছে পুলিশ।
ইতিমধ্যে ৩৪ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। স্থানীয়রা বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন সেখানে। বাম প্রতিনিধিদল সেখানে গেলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এদিকে ঘটনার এনআইএ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।

রবিবার রাতে বিস্ফোরণের পর থেকেই শুরু হয়েছিল ধরপাকড়। এলাকার একাধিক বাড়িতে এবং দোকানে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ২০ কেজির মত বিস্ফোরক উদ্ধার করেছে পুলিশ। ট্রাক এবং লরি বোঝাই করে সেই বিস্ফোরক পুলিশ নিয়ে িগয়েছে বলে জানা গিয়েছে। বেআইনি বাজি কারখানায় জড়িত থাকার অভিযোগ ৩৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
রবিবার বজবজে বেআইনি বাজি কারখানার গোডাউনে বিধ্বংসী আগুন। বজবজের নন্দরামপুর দাসপাড়ায় বেআইনি বাজি কারখানায় আগুন। বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে ওঠে এলাকা, দাবি স্থানীয়দের। ঘটনাস্থলে দমকলের ২টি ইঞ্জিন। বাড়িটির উপরে দোতলায় কাজ হচ্ছিল। পুলিশ সূত্রের খবর, এখনও পর্যন্ত ৩ জনের মৃত্যুর খবর মিলছে। তাদের মধ্যে একজন নাবালিকা। ওই বাড়িটির গৃহবধূ এবং তাঁর শিশুও মারা গিয়েছে বলে সূত্রের খবর। মৃতদের মধ্যে দুজনের পরিচয় মিলেছে, পম্পা হাটি ও জয়শ্রী হাটি।

যদিও প্রশাসনের দাবি, এটা বাজির কারখানা নয়। ডিএফও, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, টিকে দত্ত বলেন, 'এটা আগুন। বিস্ফোরণ নয়। কোনও কারণে ঘরে আগুন লেগে যায়। ঘরের সামগ্রী দেখা গিয়েছে। প্রাথমিকভাবে বাজির কারখানা বোঝা যায়নি। কাল সকালের আগে কিছু বলা যাবে না। কীভাবে আগুন লেগেছে তা তদন্ত করে দেখা যাবে। বিস্ফোরণের কোনও ঘটনা নেই। আগুনের কারণে টিন ভেঙে পড়ায় দুজন আটকে পড়েছিলেন ভিতরে। একজনকে লোকজন বের করে নিয়েছিল। সম্ভবত তিনি বেঁচে নেই।'
যদিও সাধারণ বাসিন্দাদের দাবি, এই বাড়িটিতে বাজি তৈরি হতো। তুবড়ি বানানোর কাজ হতো। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, বিস্ফোরণের শব্দ তাঁরা শুনতে পেয়েছেন। যদিও সেই সংক্রান্ত বিষয়ে এখনও কোনও বিষয় জানায়নি পুলিশ।

পুলিশের একটি সূত্রের খবর, এখানে বাজি কারখানা ছিল কিনা তা এখনও বোঝা যায়নি। তবে এখানে বাজি মজুত করা ছিল বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। চিংড়িপোতা অঞ্চলে যেখানে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে, সেখানে বহু মানুষ বাজি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। ফলে এই এলাকায় বাজি তৈরি বা বাজি মজুতের ঘটনা হয়ে থাকতে পারে বলে সন্দেহ।












Click it and Unblock the Notifications