গাইঘাটার বাড়িতে হেরোইন তৈরির কারখানা! ঘরে ঢুকে চোখ কপালে তদন্তকারীদের
বাইরে থেকে দেখলে নিখাদ খামারবাড়ি। হাঁস, মুরগি, গোরু আছে। পরিবারে চার জন বাস করে। এদিকে ভিতরে ঢুকতেই চোখ কপালে উঠে যাবে। এ তো সাধারণ বাড়ি নয়। এ তো ছোটখাটো কারখানা। তাও আবার মাদকের।
পঞ্চমীতে বেঙ্গল এসটিএফএর মাদক বিরোধী অভিযানে মিলল ব্যাপক সাফল্য। বনগাঁর গাইঘাটাতে হেরোইন তৈরির কারখানার সন্ধান মিলল। তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার হল প্রায় ১৬ কোটি টাকার নিষিদ্ধ মাদক।

বেঙ্গল এসটিএফএর টিম ১৯ অক্টোবর উত্তর ২৪ পরগনার গাইঘাটা থানার বিষ্ণুপুর গ্রামে পৌঁছায়। এলাকার একটি ছোটখাটো খামারবাড়িতে তারা হানা দেন। সেখানে একতলায় তেমন কিছুই সন্দেহজনক চোখে পড়েনি।
মার্বেল বাঁধানো সিঁড়ি দিয়ে উপরে উঠতেই একদম চক্ষুচড়কগাছ তদন্তকারীদের। এ তো পুরো কারখানা! হেরোইন বানানো হচ্ছে সেখানে। দোতলার শোওয়ার ঘর, বাথরুম এবং রান্নাঘরকে রীতিমতো একটি হেরোইন তৈরির কারখানা বানানো হয়েছে।
থরে থরে সাজানো রয়েছে হেরোইনের প্যাকেট। কোনও ঘরে হাই-ভোল্টেজ আলোর নীচে আলাদা আলাদা পাত্রে রাখা আছে। সেখানে বিশেষ প্রকার লিক্যুইড মিশ্রিত হেরোইন শুকনো করা হচ্ছে। কোনও ঘরে চলছে ফিল্টারিং। কোনও ঘরে প্যাকেজিং।
বাড়িতে মালকিন কাকলি ছাড়াও অভিজিৎ বিশ্বাস, তপন মণ্ডল ও ডলি সর্দার নামের এক মহিলাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। গ্রেফতার করা হয় ওই চারজনকে। জিজ্ঞাসাবাদ করে উঠে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। জানা গিয়েছে, প্রায় বছর খানেক ধরে চলছে এই কারখানা।
কাকলি তার ব্যবসায়ী-পার্টনারদের থেকে ক্রুড হেরোইন আনত। এই কারখানাতে পরিশোধন সেইসব। মোটা টাকার কারবার চলত ওই বাড়িতেই। বিভিন্ন পাচারকারীদের মাধ্যমে কলকাতা, হাওড়া, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগণার বিভিন্ন ক্লায়েন্টদের কাছে মাল পৌঁছে যেত।
তল্লাশিতে প্রায় আট কিলোগ্রাম হেরোইন পাওয়া গিয়েছে। পাঁচ কিলোগ্রাম ওজনের একপ্রকার বিশেষ গুঁড়ো পাওয়া গিয়েছে। এটি মিশিয়ে নেশার মাত্রা বৃদ্ধি করা হয়। এছাড়া ১০ কিলো এসিটিক এনহাইড্রেট তরল। এর মাধ্যমে ক্রুড হেরোইন পরিশোধন করা হয়। এছাড়াও ছিল ৪০ কিলো সোডিয়াম কার্বোনেট। বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ও মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications