কাঁচাগোল্লা, নলেন গুড়ের পাটালি, বাগদা চিংড়ি খেলে ভালবাসতেন প্রণবদা, স্মৃতি চারণায় অসিত মজুমদার
কাঁচাগোল্লা, নলেন গুড়ের পাটালি, বাগদা চিংড়ি খেলে ভালবাসতেন প্রণবদা, স্মৃতি চারণায় অসিত মজুমদার
বসিরহাটের কাঁচাগোল্লা ছিল প্রণব দার প্রিয়। সেইসঙ্গে বসিরহাটের নলেন গুড়ের পাটালি ও বাগদা চিংড়ি খেতে ভালো বাসতেন প্রণব মুখোপাধ্যায়। প্রয়াত প্রাক্তন রাষ্ট্রপতির স্মৃতিচারণায় মঙ্গলবার জানালেন বসিরহাটের অন্যতম প্রবীণ নেতা অসিত মজুমদার।

এদিন তিনি আফসোস করে জানান, শেষবারের মাটির হাড়ির কাঁচাগোল্লা, নলেন গুড়ের পাটালি আর বাগদা চিংড়ি খাওয়া হলো না প্রনব দার। অভিভাবক হারা হলেন বলেও জানান বসিরহাটের এই প্রবীণ নেতা অসিত বাবু।
একসময় রাজনৈতিক উত্থান হয়েছিল রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির হাত ধরে। হঠাৎ গতকাল সোমবার বিকেলে দিল্লির সেনা হাসপাতালে প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি মৃত্যুর খবর পেয়ে বসিরহাটের অসিতের চোখে জল। এক সময় বহু আন্দোলনের মধ্য দিয়ে প্রয়াত রাষ্টপতির সঙ্গে রাজনৈতিক সংগ্রামের সাক্ষী ছিল অসীত মজুমদার।

অসিত বাবুকে সর্বভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের এআইসিসির মেম্বার করেছিলেন প্রয়াত রাষ্ট্রপতি। ভারতবর্ষের স্বাধীনতার পর থেকে রাজনৈতিক মতাদর্শ উদ্বুদ্ধ হয়ে কংগ্রেসের কংগ্রেসের প্রত্যাবর্তন হয়। বসিরহাটের অসীত মজুমদারের বাড়িতে আসলে ওনার জন্য আলাদাভাবে কাতলা মাছের মাথা দিয়ে মুড়িঘণ্ট। সঙ্গে বসিরহাটের কাঁচাগোল্লা পাটালি বাগদা মেনুতে অবশ্যই থাকতো। ২০১৭ সালের রাষ্ট্রপতি পদ থেকে অবসরের পরে একাধিকবার দিল্লির বাড়িতে অসিত মজুমদার সঙ্গে সফরসঙ্গী থাকতো। মাটির হাড়িতে কাঁচাগোল্লা, নলেন গুড়ের পাটালি বাগদা চিংড়ি নিয়ে যেত।

অসিত বাবু জানান, গত এক বছর আগেও দিল্লির বাড়িতে গিয়ে দিয়ে এসেছেন। তার শারীরিক সুস্থতা কামনা করেছেন বারবার মনে করিয়ে দিচ্ছে সেই সব দিনের কথা। প্রয়াতত রাষ্ট্রপতি জন্য বসিরহাটের মানুষ পেয়েছে বহু অবদান বসিরহাটের জন্য ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের ঘোজাডাঙ্গা স্থলবন্দর হয়েছে, রাষ্ট্রপতি যখন ভারতবর্ষে পরাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন সে সময় তিনি ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের বসিরহাটের ঘোজাডাঙা দিয়ে স্থলবন্দর চালু করেন। পাশাপাশি, বসিরহাটের ইছামতি ব্রিজ তৈরি হয়েছিল যখন তিনি কেন্দ্রীয় কমিটির যোজনা কমিশনের ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন। সেখানে রয়েছে তার অবদান। আজও ছাত্র-ছাত্রী থেকেক বসিরহাট বাসীর কাছে একজন উজ্জ্বল নক্ষত্র। মানুষের মধ্যে সেই স্মৃতি উস্কে দিচ্ছে। তাই দাদাকে হারিয়ে আজ অভিভাবক অসিত বাবু।
অসিত বাবু স্ত্রী তথা বসিরহাট পৌরসভা প্রাক্তন চেয়ারপারসন কৃষ্ণা মজুমদার জানান, রাষ্ট্রপতির অপেক্ষায় বাড়িতে বসে থাকতেন। নিজের হাতে রান্না করে খাওয়াতেন প্রণব বাবুকে। আজ সেসব অতীত, এক যুগের অবসান হল ভারতবর্ষের মানুষ আজ এক প্রাণপুরুষকে হারালো।












Click it and Unblock the Notifications