সন্দেশখালিতে হামলার ঘটনায় আটক সিপিএমের প্রাক্তন বিধায়ক নিরাপদ সর্দার
প্রাক্তন সিপিএম বিধায়ক নিরাপদ সর্দারকে আটক করেছে কলকাতা পুলিশ। সন্দেশখালি গত কয়েকদিন ধরে উত্তপ্ত। সন্দেশখালি নেতা শিবপ্রসাদ হাজরার বাড়ি ফার্মহাউস সহ একাধিক জায়গায় হামলা চালানোর অভিযোগ ওঠে। ওই ঘটনায় থানায় এফআইআর দায়ের হয়েছিল। প্রথম নাম ছিল এই সিপিএমের প্রাক্তন বিধায়কের। আজ রবিবার পুলিশ তাকে আটক করেছে। ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
সন্দেশখালির ঘটনায় তাহলে কি এবার নতুন মোড়? গতকাল তৃণমূল নেতা উত্তম সর্দার গ্রেফতার হয়েছিল। রবিবার সকালে আটক হলেন সিপিএমের প্রাক্তন বিধায়ক নিরাপদ সর্দার। ঠিক কোন অভিযোগে তাকে আটক করা হয়েছে? তাই নিয়ে চর্চা চলছে। কলকাতা পুলিশ তাকে আটক করেছে। প্রাথমিকভাবে এই খবর এসেছে।

দিন কয়েক ধরেই উত্তপ্ত রয়েছে সন্দেশখালি। গত ৭ তারিখ সাধারণ মানুষ পথে নামে। মহিলারা রীতিমতো লাঠি- ঝাঁটা নিয়ে তৃণমূলের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে। এলাকার তৃণমূল নেতা শিবপ্রসাদ হাজরার বাড়ি, পোল্ট্রি ফার্ম সহ একাধিক জায়গায় হামলা চালানো হয়। আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছিল বিভিন্ন জায়গায়।
শিবপ্রসাদ হাজরা থানায় অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। অভিযোগের প্রথমে নাম ছিল সিপিএমের প্রাক্তন বিধায়ক নিরাপদ সর্দারের। মোট ১১৭ জনের বিরুদ্ধে থানায় এফআইআর করা হয়েছিল। সাধারণ মানুষকে সংগঠিত করা, উত্তেজনায় প্ররোচনা দেওয়া, অপরাধ সংগঠিত করা, শিবপ্রসাদ হাজরাকে খুনের চেষ্টা সহ একাধিক বিষয় উল্লেখ করা হয়েছিল অভিযোগে।
দিন কয়েক ধরেই উত্তপ্ত রয়েছে সন্দেশখালি। সাধারণ মানুষ ক্ষুব্ধ হয়ে পথে নেমেছে। শেখ শাহজাহান, শিবপ্রসাদ হাজরা, উত্তম সর্দারের বিরুদ্ধে তারা প্রতিবাদ জানাচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে প্রচুর অভিযোগ সামনে আসছে। উত্তম সর্দার গতকাল রাতে গ্রেফতার হয়েছেন। তার আগে দল থেকে তাকে ছয় বছরের জন্য সাসপেন্ড করা হয়েছে। শিবপ্রসাদ হাজরার বিরুদ্ধেও অভিযোগ রয়েছে। তাকে গ্রেফতার করতে হবে। এই দাবি তুলেছে সাধারণ মানুষ।
রবিবার সকালে দেখা গেল নতুন টুইস্ট। কলকাতা পুলিশ সিপিএমের প্রাক্তন বিধায়ক নিরাপদ সর্দারকে আটক করল। কোন কোন অভিযোগে তাকে আটক করা হয়েছে? সে বিষয়ে কোনও কথা জানা যায়নি এই খবর লেখা পর্যন্ত। সন্দেশখালি থানার পুলিশের কাছে নিরাপদ হাজরাকে তুলে দেওয়া হবে। এই কথাও জানা গিয়েছে।
সাধারণ মানুষের দাবি শিবপ্রসাদকে গ্রেফতার করতে হবে। কিন্তু শিবপ্রসাদ হাজরা নিরাপদ সর্দারের নামেই থানায় অভিযোগ দায়ের করেছিলেন বলে খবর। তাহলে কি সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই সিপিএমের প্রাক্তন বিধায়ক গ্রেফতার করা হল? প্রশ্ন উঠছে।
সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, এই নিরাপদ সর্দার প্রথম জানিয়েছিলেন, শেখ শাহজাহান কোথাও পালিয়ে যাননি। তিনি সন্দেশখালি এলাকাতেই রয়েছেন। সেই বক্তব্যের পরে রীতিমতো শোরগোল পড়ে গিয়েছিল। তাকে কি গ্রেফতার করা হয়েছে? সেই প্রশ্ন উঠছে। তবে সিপিএমের একটি পক্ষ দাবি করছে তাদের নেতা গ্রেফতার হয়েছে।
শনিবার রাতে এলাকার বিজেপি নেতা বিকাশ সিংহকেও গ্রেফতার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে উত্তেজনায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। বিকাশ সিংহ বসিরহাটের বিজেপির সাংগঠনিক জেলার প্রাক্তন সভাপতি। তিনি এখন বসিরহাট লোকসভা কেন্দ্রের বিজেপির পর্যবেক্ষক। সিপিএম ও বিজেপি নেতাদের গ্রেফতারের ঘটনায় রাজনৈতিক চর্চা শুরু হয়ে গিয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications