সাতসকালে সন্দেশখালিতে ফের অ্যাকশনে ইডি! তালিকায় শেখ শাহজাহান ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ীরা
সাত সকালে ফের অ্যাকশনে ইডি। এদিন ভোর তিনটে নাগাদ নিউটাউনের সিআরপিএফ ক্যাম্প থেকে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে ইডির আধিকারিকরা সন্দেশখালির বিভিন্ন বাজারে হানা দেন। সেখানে সাসপেন্ডেড তৃণমূল শেখ শাহজাহান ঘনিষ্ঠ বিভিন্ন ব্যবসায়ীর খোঁজ করেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকরা।
এদিনও রেশন দুর্নীতি মামলায় তল্লাশি চলে। ধামাখালির রামপুর বাজার, আর্শাদ মিয়া বাজারে হানা দেন ইডির আধিকারিকরা। কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে বাজার ঘিরে ফেলা হয়। আকুঞ্জিপাড়াতেও যান ইডির আধিকারিকরা। ব্যবসায়ীদের বাড়িতেও শুরু হয়েছে তল্লাশি অভিযান।

ইডির অভিযোগ রেশন দুর্নীতির টাকা মাছ ব্যবসায় লাগানো হয়েছে। এবং সেই টাকা হাওয়ালার মাধ্যমে বিদেশে পাচার করা হয়েছে। প্রসঙ্গত সাসপেন্ডেড তৃণমূল শেখ শাহজাহান নিজেও মাছ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তার বিঘের পর বিঘে জমিতে ভেড়ি রয়েছে।
শেষ শাহজাহান ও তার সঙ্গী উত্তর সর্দার ও শিবু হাজরাদের বিরুদ্ধে সাধারণের বিঘের পর বিঘে চাষের জমি দখল করে ভেড়ি করার অভিযোগ রয়েছে। জানুয়ারি পাঁচ তারিখ শেখ শাহজাহানের বাড়িতে ইডির অভিযানের পর শেখ শাহজাহান অন্তরালে চলে যায়। তারপর সেখানকার মহিলারা বিভিন্ন জায়গায় ভেড়ির আলাঘর ভাঙচুর করেন এবং সেখানে আগুন লাগিয়ে দেন।
এর আগেও সন্দেশখালিতে অভিযান চালিয়েছে ইডি। গত পাঁচ জানুয়ারি শেখ শাহজাহানের বাড়িতে গিয়ে হামলার মুখে পড়েন ইডির আধিকারিকরা। সেই ঘটনায় উনিশ দিন পরে বিশাল কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে সাসপেন্ডেড তৃণমূল নেতার বাড়িতে গিয়েছিলেন ইডির আধিকারিকরা। বাড়ির তালা ভেঙে তল্লাশি করেন তাঁরা।
এর পর গত আট মার্চ কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে শেখ শাহজাহানের বাড়িতে গিয়েছিলেন সিবিআই আধিকারিকরা। তাঁরা শেখ শাহজাহানের বাড়িতে লাগানো ইডির সিল ভেঙে তল্লাশি করেন। বিভিন্ন অংশের ফরেনসিক নমুনাও সংগ্রহ করা হয়।
প্রসঙ্গত প্রায় পঞ্চান্ন দিন অন্তরালে থাকার পরে গত ২৯ ফেব্রুয়ারি মিনাখাঁ থেকে রাজ্য পুলিশ শেখ শাহজাহানকে গ্রেফতার করে। তারপর আদালতের নির্দেশে তাকে সিবিআই-এর হাতে তুলে দেওয়া হয়। সিবিআই ইতিমধ্যেই শাহজাহানের ভাই শেখ আলমগীরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেছে।
গত পাঁচ জানুয়ারি রেশন দুর্নীতি মামলায় তল্লাশিতে যাওয়া ইডির আধিকারিক ওপরে হামলার ঘটনায় শেখ শাহজাহানকেই মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে তিনি একা সেই কাজ করতে পারেন না। সিবিআই সূত্রে খবর, গত পাঁচ জানুয়ারি ইডির আধিকারিকদের ওপরে হামলার দিন শেখ শাহজাহান ত্রিশ কমিনিটের মধ্যে দুটি মোবাইল থেকে ২৮ জনকে ফোন করেছিল। সেই অনুযায়ী একটি তালিকা তৈরি করেছে সিবিআই। এর মধ্যে তৃণমূলে গ্রাম প্রধান থেকে জেলার নেতারাও রয়েছেন।












Click it and Unblock the Notifications