২৬ বেয়ারার কাঁধে চেপে, পান্তাভাত ও কচু শাক খেয়ে বিদায় নিলেন উমা
পান্তাভাত ও কচু শাক খেয়ে বিদায় নিলেন উমা। বাপেরবাড়ি থেকে রওনা হয়ে গেলেন শ্বশুরবাড়ির উদ্দেশ্যে। আর মা ও ছেলেমেয়েদের বিদায় দেওয়ার পর সকলেই সেই পান্তা আর কচুশাক খান। বিগত ৩০০ বছরের সময় ধরে এই রীতিই চলে আসছে টাকি পূবের রাজবাড়িতে৷
দশমীর সকালেই রাজবাড়ি থেকে উমাকে শ্বশুরবাড়ি পাঠানোর তোড়জোড় শুরু হয়। এবারও তার ব্যতিক্রম হল না। সকালেই প্রতিমার নিরঞ্জন হয়ে গেল৷ টাকি পূবের রাজবাড়ির বিসর্জনের পরই অন্যান্য নিরঞ্জন পর্ব শুরু হয়। এই ঘটনাই শোনা যায়।

বসিরহাটের টাকি পূবের রাজবাড়ির বিসর্জনের পর্ব বেশ কয়েকটি ভাগে বিভক্ত। প্রথমে দেবী দুর্গা ও ছেলেমেয়েকে বরণ করা হয়। তারপর চলে সিঁদুর খেলা। এলাকার বাসিন্দারাও এই বিদায়বেলায় সামিল হন। শতাব্দী প্রাচীন এই জমিদার বাড়ির দুর্গাপুজো আজও প্রথা মেনে দালানেই হয়ে আসছে।
এদিন পঞ্জিকার সময়সূচি অনুযায়ী সাড়ে আটটার মধ্যের বিসর্জনের পুজো শেষ হয়। এরপর শুরু হয় সিঁদুরখেলা। ২৬ বেয়ারার কাঁধে চেপে টাকি রাজবাড়ির ঘাটে রওনা দেন উমা। তার অন্যথা হয়নি কখনও। এবারও নির্দিষ্ট সময়েই বেয়ারাদের কাঁধে উঠে বাড়ি থেকে রওনা দেবীর।
কাঁধে প্রায় দুই কিলোমিটার রাস্তা উমা ও সন্তানদের নিয়ে যাওয়া হয়। পরিবারের সদস্যরা তো থাকেনই। এলাকার লোকজনও এই নিরঞ্জন যাত্রায় সামিল হন। ঘাটের কাছে যথেষ্ট নিরাপত্তা থাকে পুলিশ প্রশাসনের।
টাকি রাজবাড়ি ঘাটে দুটি নৌকায় তোলা হয় মাকে। এরপর সাত পাক ঘুরিয়ে বিসর্জন দেওয়া হয়। এই বিদায় মুহূর্ত দেখার জন্য বহু মানুষের সমাগম হয়। বিসর্জন শেষে রাজবাড়িতে আসেন দর্শনার্থী থেকে শুরু করে গ্রামবাসীরা। সকলেই কচু শাক ও পান্তা ভাতের প্রসাদ খান।
এরও একটি কাহিনী আছে। বাপের বাড়ি থেকে দেবী যখন কৈলাসে মহাদেবের কাছে ফিরেছিলেন। তখন মহাদেব তাঁকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, বাপের বাড়ি থেকে কী খেয়ে এসেছ? উমা তখন জবাবে বলেছিলেন, 'পান্তা আর কচু শাক'। সেই হিসেবেই এই পুজোর শুরুর থেকে পান্তা আর কচু শাক খাওয়ার প্রথা চলে আসছে।
এবারও চলে গেলেন উমা। আবারও একটা বছরের অপেক্ষা। বিষাদের সুর মনে।












Click it and Unblock the Notifications