বসিরহাট আদালতে মেয়ের 'আব্বু' ডাক, কান্না আটকাতে পারলেন না শেখ শাহজাহান
প্রিজন ভ্যানে বসে কাঁদছেন 'সন্দেশখালির বাঘ'? সন্দেশখালির 'বেতাজ বাদশা' শেখ শাহজাহানের হল কী? ইডি, সিবিআইয়ের জেরার মুখেও তিনি তেমন এখনও ভাঙেননি বলে খবর। সেই শেখ শাহজাহান তাহলে কাঁদলেন কেন?
মঙ্গলবার আদালতে মামলার শুনানির দিন। নির্দিষ্ট সময় বসিরহাট আদালতে শেখ শাহজাহানকে নিয়ে যাওয়া হয়। আদালতের এই করণীক মারা গিয়েছেন। সেই কারণে এদিন শুনানি হয়নি। ফের তাকে প্রিজন ভ্যানে তুলে কলকাতা রওনার ব্যবস্থা করা হয়েছিল।

আর সেই টুকু সময়েই সামান্য কিছু কথাবার্তা, পরিবারের সঙ্গে টুকরো টুকরো কথা, মেয়ের আব্বু বলে ডাক, স্ত্রীর আঙুল ছুঁয়ে থাকা। আর এইসব কিছুতেই সামান্য সময়ের জন্য আবেগ ধরে রাখতে পারলেন না শেখ শাহজাহান।
কিন্তু বিষয়টা কী? জানা গিয়েছে, এদিন শেখ শাহজাহান সহ ১২ জনকে বসিরহাট আদালতে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু আদালতের কাজ না হওয়ায় কলকাতায় ফেরার প্রস্তুতি শুরু হয়। আদালত থেকে বেরিয়ে শেখ শাহজাহান প্রিজন ভ্যানে উঠছিলেন। খানিক দূরে তার মেয়ে, স্ত্রী,পরিবারের লোকজন দাঁড়িয়েছিল।
বাবাকে দেখে মেয়ে 'আব্বু' বলে ডেকে ফেলে। মেয়ের গলা শুনে তাকান শাহজাহান। মাথা নেড়ে মেয়েকে সম্মতি জানান। প্রিজন ভ্যানের জানলার কাছে গিয়ে বসেন। এরপর স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যরা সেই জায়গায় এগিয়ে যায়।
জানলার একেবারে কাছে গিয়ে দাঁড়ান স্ত্রী তসলিমা বিবি। তার ডাকে বাইরের দিকে ঘুরে তাকান শাহজাহান। সাসপেন্ড তৃণমূল নেতার মুখ আরও থম মেরে যায়। 'নিজের খেয়াল রাখতে হবে।' এই কথা স্ত্রীর উদ্দেশ্যে বলেন গ্রেফতার শেখ শাহজাহান।
প্রিজন ভ্যানের জানলার ফাঁকা দিয়ে শাহজাহানের আঙুল ছুঁয়ে থাকেন স্ত্রী। তসলিমা বিবি কেঁদে ফেলেন। মেয়ের চোখেও জল৷ এরপর আর নিজেকে আটকে রাখতে পারেননি শেখ শাহজাহান। চোখ দিয়ে তারও জলের ধারা নেমে আসে।
সঠিক সময়ে ওষুধ খেতে হবে। ঠিকভাবে খেতে হবে। শরীর ঠিক থাকতে হবে। এই কথা পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা বলতে থাকেন। স্ত্রীর দিকে তাকিয়ে শেখ শাহজাহানে বললেন,
"আল্লার কাছে দোয়া কোরো।" এরপরই মুখ ঘুরিয়ে চোখ মুছলেন শেখ শাহজাহান।
সন্দেশখালি এলাকা কয়েক মাস আগে পর্যন্ত এই শেখ শাহজাহানের নামেই চলত। একাধিক অভিযোগ তার নামে লিপিবদ্ধ হচ্ছে। সেই শেখ শাহজাহানের চোখে জল?












Click it and Unblock the Notifications