মনে যশ, আম্ফানের ভয়াল স্মৃতি, ঘূর্ণিঝড়ের কথাতেই আতঙ্কে উপকূলের বাসিন্দারা
ওরা যেন ঘর পোড়া গরু। সিঁদুরে মেঘ দেখলেই ডরায়। আকাশে কালো মেঘ আসছে৷ সমুদ্র ফের উত্তাল হচ্ছে। এইসব দেখেই ডরিয়েছিল আশপাশের গ্রামের বাসিন্দারা। হামুন আসার আতঙ্ক চেপে ধরেছিল মনে। ঘূর্ণিঝড় যশ তছনছ করে দিয়েছিল উপকূল। তারপর থেকেই ঝড়ের পূর্বাভাসে আতঙ্ক আসে।
দিঘা, শঙ্করপুর এলাকার সমুদ্রের তীরের বাসিন্দাদের মনে যেন আতঙ্ক ঘনিয়ে আসে। ফের একটা ঘূর্ণিঝড় আসছে৷ তাহলে কি ফের সমুদ্র পাড়ে এসে সব ভাসিয়ে দেবে? ঘরবাড়ি থেকে চাষের জমি সবই কি ভেসে যাবে নোনা জলে? এখনও প্রবল ঘূর্ণিঝড় যশ, আম্ফানের ভয়াল স্মৃতি টাটকা এইসব এলাকার বাসিন্দাদের।

পুজোর শেষে বঙ্গোপসাগরের উপরে তৈরি হয়েছে হামুন ঘূর্ণিঝড়। সেটিই চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে রাজ্যের উপকূলবর্তী জেলার মানুষদের। দশমী ও একাদশী মাটি হওয়ার আশঙ্কায় ভুগছিলেন তারা। পাশাপাশি ছিল কতটা ক্ষয়ক্ষতি হবে, তার আশঙ্কা। দিঘার কতটা কাছে ল্যান্ডফল হবে? কতটা বেগে এসে সেটি আঘাত করবে? সেই নিয়ে শুরু হয়েছিল চর্চা।
তবে এবার কিছুটা স্বস্তি পেয়েছেন বাসিন্দারা। এই ঘূর্ণিঝড়ের অভিমুখ উত্তর ও উত্তর-পূর্ব দিকে। বাংলাদেশের উপর এটি ল্যান্ডফল করবে। ফলে বড় ধরনের ঝড় বাংলার সমুদ্র উপকূলে হবে না। এমনই মনে করা হচ্ছে। আবহাওয়া দফতর আরও একটি আশার কথা শুনিয়েছে।
ঘূর্ণিঝড় হামুন ক্রমশই বঙ্গোপসাগরের উপরে তার শক্তিক্ষয় করবে। এর তেমন কোনও প্রভাব উপকূলবর্তী জেলা সহ রাজ্যে সেভাবে পড়বে না। তবে আশঙ্কায় থাকছেন উপকূল এলাকার বাসিন্দারা। এইসব এলাকায় মাঝারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা দিয়েছে আবহাওয়া দফতর।
সমুদ্রে মাছ ধরতে যাওয়ার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। যারা এখনও পর্যন্ত মাঝ সমুদ্রে রয়েছে তাদেরকে ফিরিয়ে আনারও চেষ্টা চলছে দিঘা মৎস্য অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে।
ঝড়ের অভিমুখ বাংলাদেশ ও ক্রমশ শক্তিক্ষয়ের সংবাদ আসায় কিছুটা দুর্ভাবনা কেটেছে মানুষের৷ তবে আগামী কয়েক দিন আবহাওয়া খারাপ থাকবে উপকূলীয় অঞ্চলে। এমনটাই জানানো হয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications