কামারহাটিতে ভয়ঙ্কর ভাবে ডায়রিয়া ছড়িয়ে পড়ার কারণ কলেরা! জলের নমুনাতে মিলল জীবাণু
ক্রমশ খারাপ হচ্ছে কামারহাটির অবস্থা। ডায়রিয়াতে আক্রান্ত এই মুহূর্তে সাগরদত্ত এবং কামারহাটি ইএসআই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ১৫০ এরও বেশি মানুষ। প্রত্যেক মুহূর্তে কার্যত বাড়ছে রোগীর সংখ্যা। কামারহাটি পুর এলাকা জুড়ে ব্যাপক আতঙ্ক
ক্রমশ খারাপ হচ্ছে কামারহাটির অবস্থা। ডায়রিয়াতে আক্রান্ত এই মুহূর্তে সাগরদত্ত এবং কামারহাটি ইএসআই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ১৫০ এরও বেশি মানুষ। প্রত্যেক মুহূর্তে কার্যত বাড়ছে রোগীর সংখ্যা। কামারহাটি পুর এলাকা জুড়ে ব্যাপক আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।
আর এই পরিস্থিতির মধ্যে কার্যত আরও অশনি সঙ্কেত শোনাচ্ছে নাইসেড।

নাইসেডের গবেষকদের দাবি, ভয়ঙ্কর ভাবে ডায়রিয়া ছড়িয়ে পড়ার কারণ কলেরা। ঘটনার পরেই বিভিন্ন জায়গা থেকে জলের নমুনা সংগ্রহ করেন গবেষকরা। আজ বৃহস্পতিবার জানা গিয়েছে, এলাকাতে ভয়ঙ্কর ভাবে ডায়রিয়ার প্রকোপ ছড়িয়ে পড়ার কারন পুরসভার জলে মিশে থাকা কলেরার জীবাণু।
যদিও ঘটনার পর থেকে পুরসভার জল খেতে বারণ করা হয়েছে স্থানীয় মানুষকে। তবে এই ঘটনার স্থানীয় বিধায়ক জানিয়েছিলেন, কিছু খাওয়ার ফলে এই ঘটনা ঘটতে পারে। তবে এদিন এই তথ্য সামনে আসার পর খারিজ হয়ে যায় বিধায়কের দাবি।
জানা গিয়েছে, সাগর দত্ত মেডিক্যাল থেকে ৩টি নমুনা যায় নাইসেডে। সেই ৩টি নমুনাতেই মিলেছে কলেরার জীবাণু। ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে কলেরার চিকিৎসাতে ইতিমধ্যে ৭ সদস্যের মেডিক্যাল টিম গঠন করা হয়েছে সাগর দত্ত মেডিক্যালের তরফে। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
তবে ক্রমশ রোগীর চাপ বাড়ছে। জানা গিয়েছে, এই মুহূর্তে উপসর্গ নিয়ে সাগর দত্ত মেডিক্যালে ভর্তি রয়েছেন ১২৪ জন। পাশাপাশি কামারহাটি ইএসআইতে ভর্তি রয়েছেন ৫০ জন। যদিও আরও বেশ কয়েকজনের অসুস্থতার খবর পাওয়া গিয়েছে।
তাঁরা স্থানীয় একাধিক বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি বলে জানা গিয়েছে। অন্যদিকে ঘটনার পর উত্তর ২৪ পরগনা জেলা স্বাস্থ্য দফতরের তরফে জানানো হয়েছে, এখনও পর্যন্ত কামারহাটিতে ১৬৪ জন অসুস্থ হয়েছেন। তারমধ্যে ১২৪ জন ভর্তি রয়েছেন সাগর দত্ত মেডিক্যাল কলেজে।
তবে এই ঘটনাতে এখনও পর্যন্ত তিনজনের মৃত্যু হয়েছে বলা হলেও মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক জানিয়েছেন, এখনও পর্যন্ত ডায়েরিয়ায় ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে। তবে এই ঘটনার পর আজ এলাকা এবং হাসপাতালে আসেন স্বাস্থ্য আধিকারিকরা।
সরজমিনে পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করেন। তবে ঘটনার পর কামারহাটি পুরসভা এলাকাতে মেডিক্যাল ক্যাম্প খোলা হয়েছে। সেই ক্যাম্পের মাধ্যমে চলছে চিকিৎসা। অন্যদিকে এই ঘটনার পর জল সঙ্কট তৈরি হয়েছে কামারহাটি পুরসহা এলাকাতে। আতঙ্কে পুরসভার জল ব্যবহার করছে না অনেক মানুষ।
ফলে বোতলবন্দি জলের চাহিদা বেড়েছে। আর এখানেই শুরু হয়েছে কালোবাজারি। প্রচুর দামে বিক্রি হচ্ছে জল। আতঙ্কে মানুষ সেই জল খেতে শুরু করেছে।












Click it and Unblock the Notifications