হাইকোর্টে ধাক্কা রাজ্যের, সন্দেশখালিতে শুভেন্দু অধিকারী-শঙ্কর ঘোষ! নির্দেশের পরে মমতা-পুলিশকে নিশানা বিজেপির
পুলিশি বাধায় ধামাখালিতে অবস্থানের সময়ই এল হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির বেঞ্চের নির্দেশিকা। সেখানে বলা হয়েছে, শুভেন্দু অধিকারী ও শঙ্কর ঘোষ সন্দেশখালিতে যেতে পারবেন। সঙ্গে কোনও দলের নেতা কিংবা সমর্থক যেতে পারবেন না। তাঁদের নিরাপত্তার বন্দোবস্ত করতে হবে রাজ্য পুলিশকে। এদিন হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির নির্দেশকে বড় জয় বলেই দেখছে বিজেপি।
বিরোধী দল নেতা হাইকোর্টের এই নির্দেশের পরে বলেছেন, এই রায়ে সন্দেশখালির মানুষের জয়। তফশিলি জাতি, তফশিলি উপজাতি ও পিছিয়ে পড়া মানুষদের জয়। এরপর বেশ কিছুক্ষণ পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে বাদানুবাদ চলে। তারপরে আদালতের নির্দেশ পাওয়ার পরে শুভেন্দু অধিকারী ও শঙ্কর ঘোষকে কর্ডন করে রাজ্য পুলিশ সন্দেশখালির উদ্দেশে রওনা হয়।

হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানম ও বিচারপতি হিরন্ময় ভট্টাচার্যের ডিভিশন বেঞ্চ নির্দেশে বলেন, শুভেন্দু অধিকারী এবং শঙ্কর ঘোষ সন্দেশখালি যেতে পারবেন। তবে কোনও সমর্থক বা দলীয় কর্মী যেন তাদের সঙ্গে না যায় সেটা নিশ্চিত করতে হবে। এলাকায় যেন কোনও শান্তিভঙ্গ না হয় সেটা রাজ্য পুলিশকে দেখার নির্দেশ দেন প্রধান বিচারপতি। তিনি সোমবারের সিঙ্গল বেঞ্চের নির্দেশের ওপরে স্থগিতাদেশ দিতে অস্বীকার করেন।
এদিন রাজ্যের তরফে প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চে সিঙ্গল বেঞ্চের নির্দেশ চ্যালেঞ্জ করা হয়। রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্ত বলেন, কেউ এলাকায় যেতেই পারেন, কিন্তু ১৪৪ ধারা বজায় রাখা উচিত। তবে প্রধান বিচারপতির বক্তব্য ছিল, সন্দেশখালিতে জোর করে কৃষিজমি দখল করার অভিযোগ আছে। মূল অভিযুক্ত এখনও অধরা। ১৮ দিনের বেশি হয়ে গেছে এই পরিস্থিতি চলছে। ১৪৪ ধারা জারি করে কোনও লাভ হচ্ছে না। মূলত এই প্রেক্ষিতেই রাজ্যের আর্জি খারিজ করে দেওয়া হয়েছে।
হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানমের বেঞ্চের নির্দেশ সামনে আসার পরেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র আক্রমণ করেন বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ। তিনি বলেন, বিজেপি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে এক্সপোজ করবে।
প্রসঙ্গত সোমবার কলকাতা হাইকোর্টের কৌশিক চন্দের বেঞ্চ সন্দেশখালিতে ১৪৪ ধারা অস্থায়ী ভাবে তুলে নেওয়ার আদেশ দিয়ে শুভেন্দু অধিকারীদের সন্দেশখালি যাওয়ার অনুমতি দেয়। কিন্তু এদিন সকাল নটা নাগাদ জেলা প্রশাসনের তরফে সন্দেশখালির বারোটি জায়গায় একশো চুয়াল্লিশ ধারা জারি করার কথা জানানো হয়।
এদিন সকালে সন্দেশখালি যেতে ধামাখালিতে পৌঁছন সিপিআইএম নেত্রী বৃন্দা কারাত। সঙ্গে ছিলেন কণিনীকা ঘোষ বোস। পুলিশ তাঁদেরকে ধামাখালিতে আটকে দেয়। এরপরেই সেখানে পৌঁছন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। সেই সময় পুলিশও তাঁকে আটকে দেয়। তাঁকে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ আধিকারিক জানান, রাজ্য সরকার সোমবারের আদেশের বিরুদ্ধে ডিভিশন বেঞ্চে যাচ্ছে, সেই কারণে তাঁকে সন্দেশখালিতে যেতে দেওয়া যাবে না।
সেই সময় বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী সেখানেই বসে পড়েন এবং স্লোগান দিতে থাকেন। তিনি জানান, একঘন্টা অপেক্ষার পরে তিনি ফিরবেন। তবে তার মধ্যে হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির নির্দেশ আসে। তারপরেই পুলিশি ঘেরাটোপে সন্দেশখালিতে পৌঁছে যান শুভেন্দু অধিকারী ও শঙ্কর ঘোষ।












Click it and Unblock the Notifications