ভবানীপুরের নিখোঁজ ব্যবসায়ী খুন নিমতায়? মৃতদেহ লোপাট করতে গাঁথা হচ্ছিল পাঁচিল?
হাড়হিম করা ঘটনা। মাথায় উইকেট দিয়ে মেরে খুন। তারপর সেই মৃতদেহ জলের ট্যাঙ্কের মধ্যে ঢুকিয়ে রাখা হয়৷ পরে সেই ট্যাঙ্কের চারদিকে ইঁট গেঁথে পাঁচিল তোলার কাজ চলছিল। গভীর রাতে এই ঘটনা প্রতিবেশীরা দেখে পুলিশে খবর দেন।
ঘটনার পরতে পরতে রহস্য। পুলিশ এসে মৃতদেহ উদ্ধার করে। দেখা যায়, মৃতদেহ ভবানীপুরের নিখোঁজ ব্যবসায়ী ভব্য লাখানির। উত্তর ২৪ পরগনার নিমতার বাসিন্দা অনিবার্ণ গুপ্তের বাড়ি থেকে এই মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। জানা গিয়েছে, এই দুই ব্যক্তি একসঙ্গে ব্যবসা করতেন।

কী কারণে এই খুন? ব্যবসায়িক বিষয়? না কি টাকাপয়সা সংক্রান্ত কোনও বিষয়? এইসব প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। নিমতা থানা ও বালিগঞ্জ থানার পুলিশ একযোগেই তদন্ত শুরু করেছে। কোথায় খুন করা হয়েছে? সেই জায়গাও জানার চেষ্টা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
ভবানীপুরের ব্যবসায়ী ভব্য লাখানি নিমতা থানা এলাকায় খুন। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ১০ তারিখ এই ভব্য লাখানির ব্যবসায়ী পার্টনার অনির্বাণ গুপ্ত তাকে ব্যবসা সংক্রান্ত আলোচনার জন্য ডাকে। তার নিমতার বাড়িতে ডেকে পাঠানো হয়। আলোচনার সময় বচসা হয়। তাখনই তাকে মাথায় উইকেট দিয়ে মেরে খুন করা হয় বলে অভিযোগ।
দেহ লোপাট এর জন্য ওই ব্যবসায়ীর দেহ প্লাস্টিকে মোড়া হয়। অনির্বাণ গুপ্তর বাড়ির ছাদে জলের ট্যাঙ্ক রয়েছে। সেই ট্যাঙ্কেই ভরে রাখা হয় মৃতদেহ। ট্যাঙ্কটি লুকানোর জন্য তার চারিপাশেই পাঁচিল তৈরি করার কাজ শুরু হয়। তড়িঘড়ি সেদিন রাতেই শুরু হয় এই কাজ।
সেই সময়ই রাতে পাঁচিলের কাজ হওয়ায় সন্দেহ হয় প্রতিবেশীদের। একজন স্থানীয় বাসিন্দা, নিমতা থানায় খবরটি দেয়। যেহেতু এই ব্যবসায়ীর মিসিং ডায়েরি করা হয়েছিল বালিগঞ্জ থানায়। তাই নিমতা থানা বালিগঞ্জ থানায় খবর দেয়। দুই থানা মিলিত ভাবে বিষয়টির তদন্তে নামে। মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।
পাশাপাশি অনির্বাণ গুপ্ত সহ উত্তর কলকাতাতে তারই একজন ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ী সুমন দাসকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তল্লাশিতে নোয়াপাড়ার ডাম্পিং গ্রাউন্ড থেকে বেশ কিছু রক্তাক্ত জামা কাপড় ইতি মধ্যেই উদ্ধার করেছেন পুলিশ।
কী কারণে এই খুন? তাই নিয়ে সূত্র খুঁজছে পুলিশ। ধৃতদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা শুরু হয়েছে। এই খুনের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে বুধবার সকাল থেকে।












Click it and Unblock the Notifications