ক্রমে বধ্যভূমি হয়ে উঠছে বেড়মজুর এলাকা? আগুন জ্বালিয়ে, গুঁড়ি ফেলে অবরুদ্ধ সন্দেশখালি?
প্রতিবাদের গনগনে আঁচে সন্দেশখালির বেরমজুর এলাকা। শেখ শাহজাহানের ভাই সিরাজের বিরুদ্ধে মানুষের পাহাড় প্রমাণ অভিযোগ। এবার পুলিশের বিরুদ্ধেও সাধারণ মানুষের ক্ষোভ তৈরি হল।
শুক্রবার দুপুরের পর থেকে কার্যত বধ্যভূমি হয়ে উঠল বেরমজুর এলাকা। সাধারণ মানুষ গাছের গুঁড়ি ফেলে প্রথম প্রতিবাদ করে। এরপর মাঝ রাস্তায় ডালপালা একত্র করে আগুন জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। ইলেকট্রিকের পোল ফেলে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে গোটা এলাকা।

কিন্তু কেন এমন হল? রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমার সন্দেশখালিতে রয়েছেন শুক্রবার। সেই সময় উত্তেজনা ছড়ালো বেরমজুর এলাকায়। সাধারণ মানুষের ক্ষোভ, পুলিশ ভয় দেখাচ্ছে। নিরাপরাধ মানুষদের গ্রেফতার করে নিয়ে গিয়েছে। সে কারণেই এই প্রতিবাদ।
শেখ শাহজাহানের ভাই সিরাজের বিরুদ্ধেও অভিযোগের লম্বা তালিকা। একই রকমভাবে জমি জায়গা টাকা লুটপাট করত বলে অভিযোগ। গতকাল মাছের ভেড়ির আলাঘরে সাধারণ মানুষ আগুন ধরিয়ে দিয়েছিল। উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল এলাকা। আজ সকাল থেকে বেরমজুর এলাকা নতুন করে উত্তপ্ত হয়েছিল।
পুলিশ এলাকায় গিয়ে সাধারণ মানুষকে বোঝায়। পাশাপাশি ভয়ও দেখিয়েছে বলে সাধারণ মানুষ পুলিশের বিরুদ্ধে মুখর হয়ে ওঠে। এতকাল ধরে তাদের উপর অত্যাচার হয়েছে। পুলিশ কেন ব্যবস্থা নেয়নি? সেই প্রশ্ন তোলা হয়েছিল।
এই পরিস্থিতিতে পুলিশ ধরপাকড় শুরু করে। এলাকার নিরাপরাধ মানুষদের ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। এক উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীকেও বাড়ি থেকে নিয়ে গিয়েছে পুলিশ। এমনই তথ্য সামনে এসেছে অভিযোগের আকারে। যদিও তার সত্যতা যাচাই করে ওয়ান ইন্ডিয়া বাংলা।
#WATCH | West Bengal: People hold protest in Bemojur village panchayat area of Sandeshkhali. pic.twitter.com/bBC0eWP4vR
— ANI (@ANI) February 23, 2024
পুলিশের গাড়ি আটকে সাধারণ মহিলারা প্রতিবাদ করছিল। সেই সময় পুলিশের গাড়ি চালিয়ে দেওয়া হয়। অভিযোগ, সাধারণ এক গৃহবধুর পায়ের উপর দিয়ে পুলিশের গাড়ির চাকা চলে গিয়েছে। ডান পায়ে চোট লেগেছে ওই মহিলার। আরও বিক্ষোভ শুরু হয়ে যায় তাকে ঘিরে। বিজেপির মহিলা মোর্চার সদস্যরা সন্দেশখালিতে উপস্থিত রয়েছেন। ফলে পরিস্থিতি আরও ঘোরালো হয়ে ওঠে নিমেষে।
মহিলাদের পাশাপাশি এলাকার সাধারণ পুরুষরাও পথে নামেন। প্রথমে গাছের গুঁড়ি ফেলে রাস্তা আটকানো হয়। এরপর নিয়ে আসা হয় ইলেকট্রিকের পোল। পুলিশ যাতে গাড়ি নিয়ে এলাকায় ঢুকতে না পারে সেজন্য এমনভাবে প্রতিবাদ।
এরপর রাস্তায় শুকনো গাছের ডাল ফেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। দাউ দাউ করে জ্বলতে থাকে সে আগুন। সাধারণ মানুষ সিরাজের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ আনছে। মানুষের টাকা-পয়সা লুটপাট করা হত বলে অভিযোগ।
পুলিশ কেন শাহজাহান ও তার সঙ্গীদের গ্রেফতার করছে না ? কেন সাধারণ মানুষ বারবার হেনস্থার শিকার হবে? কেন জুলুম চলবে তাদের উপর? সেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।












Click it and Unblock the Notifications