রামকে বলা হয় বিষ্ণুর অবতার, শ্রীকৃষ্ণকে অবতার নয় স্বয়ং ভগবান বলা হয় কেন
"যদা যদা হি ধর্মস্য গ্লানির্ভবতি ভারত/অভ্যুত্থানম অধর্মস্য তদত্মানং সৃজাম্যহম/পরি্ত্রাণায় হি সাধুনাং বিনাশায়চ দুষ্কৃতাম/ধর্মসংস্থাপনার্থায় সম্ভবামি যুগে যুগে। অর্থাৎ যখন ধর্মে গ্লানি আসে, অধর্মে ছেয়ে যায়, তখন সাধুদের রক্ষা করতে, দৃষ্কৃতদের বিনাশ করতে, ধর্মকে পুনঃস্থাপন করতে যুগে যুগে আমি অবতীর্ণ হই।"
শ্রীকৃষ্ণের মুখনিঃসৃত বাণী কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধক্ষেত্রে প্রতিধ্বনিত হয়েছিল অর্জুনকে উদ্দেশ্য করে। অর্থাৎ শ্রীকৃষ্ণও এসেছিলেন ধর্মকে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করার জন্য। রামও এসেছিলেন একই উদ্দেশে। আবার বিষ্ণুর বাকি আট অবতারও এসেছিলেন একই লক্ষ্য নিয়ে। সেখানে রাম-সহ সবাইকে অবতার বলা হলেও শ্রীকৃষ্ণকে স্বয়ং ভগবান রূপে ব্যাখ্যা করা হয়।

অবতার শব্দের অর্থ হল অবতরণ করা বা নেমে আসা। অবতারী বিষ্ণু অবতার রূপে নেমে এসেছিলেন ধরায়। সমস্ত অবতারেররা তার অংশ। একমাত্র কৃষ্ণ সম্পূর্ণৃরূপী বিষ্ণু। বিষ্ণুকে কৃষ্ণরূপে আবির্ভুত হতে হয়েছিল দ্বাপরযুগে। পুরাণে এ কথাই বলা হয়েছে বারবার।
পুরাণে বর্ণিত হয়েছে, কিশোররূপী কৃষ্ণ সমস্ত অবতারের অবতারী। বিষ্ণু আর কৃষ্ণের মধ্যে কোনো ভেদ নেই। যিনিই বিষ্ণু, তিনিই কৃষ্ণ। বিশেষ উদ্দেশ্য সাধনের জন্য বিষ্ণুকে কৃষ্ণ নামে ধরায় অবতীর্ণ হতে হয়েছিল। বিষ্ণু নর ও নারায়ণ রূপে বিভাজিত হয়েছিলেন। তারপর কৃষ্ণ ও অর্জুন রূপে তাদের কর্ম দ্বাপরে।

বিষ্ণুর দশ অবতার হল- মৎস্য, কুর্ম, বরাহ, নৃসিংহ, বামন, পরশুরাম, রাম, কৃষ্ণ, বুদ্ধ ও কল্কি। যদিও কৃষ্ণকে অবতার ও অবতারী দুই রূপেই পাওয়া যায়। অনেক ক্ষেত্রে আবার কৃষ্ণর জায়গায় বলরামকে অবতার বলা হয়। বলরাম ছিলেন শেষনাগের রূপ। শেষনাগকে বিষ্ণুর অংশও বলা হয়।
এছাড়া আরও কয়েকটি অবতার রয়েছে বিষ্ণুর, যেমন- হয়গ্রীব, মোহিনী, নর-নারায়ণ ও শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু। এমন নানা অবতারের কথা উল্লেখ থাকলেও ব্রহ্মসংহিতায় বলা হয়েছে- রাম আদিমূর্তি বিষ্ণুর অংশ হিসেবে আবির্ভুত হয়ে অবতার রূপে প্রকট হয়েছেন। কিন্তু শ্রীকৃষ্ণ পরমপুরুষ হিসেবে আবির্ভূত হয়ে আদিপুরুষরূপেই প্রকট।

তাই বিষ্ণুর প্রধান দশ অবতারের মধ্যে ৯ জনকে ভগবান বিষ্ণুর অংশ হিসেবে ধরা হয়। তাঁরা কেউই স্বয়ং ভগবান বিষ্ণু নন। তাঁরা সবাই ভগবান বিষ্ণুর অংশ। কিন্তু কৃষ্ণ হলেন স্বয়ং ভগবান বিষ্ণু। ভগবান বিষ্ণু নিজেই কৃষ্ণের রূপ ধারণ করে ধরাধামে বা পৃথিবীতে এসেছিলেন।
বিষ্ণু আর কৃষ্ণ হলেন একই। কিন্তু রামচন্দ্র আর বিষ্ণু একই নন। শ্রীকৃষ্ণকে পূর্ণ-বিষ্ণু শক্তি নিয়ে অবতীর্ণ হতে হয়েছিল। তাঁর কর্মের পরিধি ছিল অনেক বেশি। ভগবদ্গীতার একাদশ অধ্যায় অনুসারে অর্জুনকে বিশ্বরূপ দর্শন করিয়ে শ্রীকৃষ্ণ প্রমাণ দিয়েছিলেন তিনি চতুর্বাহু ভগবান বিষ্ণু। নররূপী অর্জুন নারায়ণরূপী শ্রীকৃষ্ণের ভগবত্তা প্রমাণ করেছিলেন।












Click it and Unblock the Notifications