'মাটি'-র টানে কতটা বুঁদ হল দর্শক! নজর কাড়লেন পাওলি-আদিল
গঙ্গা-পদ্মা পাড়ের সমাজ ও সংস্কৃতির মধ্যে পার্থক্য সেভাবে নেই। শুধু সমাজই বা কেন! এই দুই পাড়ের আবহাওয়া-জল-মাটি সমস্তটাই এক। সেভাবেই দেশভাগের যন্ত্রণাটাও এক।
গঙ্গা-পদ্মা পাড়ের সমাজ ও সংস্কৃতির মধ্যে পার্থক্য সেভাবে নেই। শুধু সমাজই বা কেন! এই দুই পাড়ের আবহাওয়া-জল-মাটি সমস্তটাই এক। সেভাবেই দেশভাগের যন্ত্রণাটাও এক। চেনা দালান, উঠোন, চাতাল ছেড়ে আসার বেদনার মাঝেই রয়ে গিয়েছে অগ্নিগর্ভ এক রক্তাক্ত সময়ের দলিল। সেই সমস্ত অধ্যায়কেই আরেকবার খুলে দিল 'মাটি'। আদি হুসেন , অপরাজিতা আঢ্য, পাওলি দাম অভিনীত এই ছবি তুলে ধরেছে এক 'মাটি'র টানের গল্প।

প্রেক্ষাপট
এই গল্প মেঘলার (পাওলি দাম) । দেশভাগের যন্ত্রণা আজও কীভাবে বংশ পরম্পরায় কাঁটার মতো বিঁধে রয়েছে বাঙালির বুকে , তা আরো স্পষ্ট করে দিয়েছে লীনা গঙ্গোপাধ্যায় ও শৈবাল বন্দ্যোপাধ্যায় পরিচালিত এই ছবি। মেঘলাদের বাংলাদেশের বাড়ি, ঠাকুর দালান, দুর্গা পুজো, আর তাঁর ঠাকুমার টুকরো টুকরো ছবি আর গল্প জুড়েই তৈরি হয়েছে 'মাটি'-র বুনোট। বাংলাদেশের সেই বাড়িতে একটা খুন, আর ঠাকুমার স্মৃতির টানে বাংলাদেশ যায় মেঘলা। খুঁজে বার করার চেষ্টা করে রক্তাক্ত সময়ের অজানা দিক। সেই খুনের কিনারা পেতে চায় সে। এই সময়ে এক বাংলাদেশের ব্যক্তির (আদিল হুসেন) সঙ্গে আলাপ হয় মেঘলার । তারপর কী হয়? কোন কিনারায় গিয়ে ঠেকে মেঘলার মনের-মাটি? উত্তর দিয়েছে ছবির ক্লাইম্যাক্স।

অভিনয়
আদিল হুসেন ও পাওলি দাম জুটিকে ঘিরে স্বভাবতই আশা ছিল দর্শকের। আর সেই আশা মিটিয়ে দিয়েছে 'মাটি'। এর আগে তাঁদের দুজনের সাম্প্রতিক ছবি 'আহা রে মন' -ও মন জয় করেছে দর্শকদের। 'মাটি' -তে অন্যরকমভাবে নজর কেড়েছেন অপরাজিতা আঢ্য। এই ছবির অন্যতম সম্পদ তিনি।

পরিচালনা
ছবির আবহ, প্রেক্ষাপটে চেনা বাঙালিয়ানার সুরে ছন্দ মিলিয়েছেন পরিচালকদ্বয় শৈবাল ও লীনা। দেশভাগের আবেগঘন গল্প বলার ক্ষেত্রে যাবতীয় সংবেদনশীলতা ধরে রেখে সত্যিটাকে তুলে আনার কাজ নিপুণতার সঙ্গে করেছেন এই পরিচালকরা।

সবশেষে
'মাটি'-র টান কী জিনিস, যাঁরা রাতের অন্ধকারে ভিটে-মাটি ছেড়ে এসেছেন তাঁরা সবচেয়ে ভালো বোঝেন। আর সেই অনুভূতিকে আরও একবার উস্কে দিল 'মাটি'।












Click it and Unblock the Notifications