‘গুল মকাই’–এ মালালাই হয়ে উঠল পার্শ্ব চরিত্র, শিহরিত করতে পারল না দর্শকদের
মালালা ইউসুফজাইয়ের বায়োপিক 'গুল মকাই’ ঠিক যেন জমল না। বাস্তব জীবনে মালালার কাহিনী যতটা শিহরিত করে দর্শকদের, তার লেশমাত্র ফুটে উঠল না এই ছবিটিতে। ক্যামিও চরিত্রে একমাত্র ওম পুরির অভিনয়ই চোখে পড়ার মত ছিল। যদিও তিনি ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে মারা যান। তাই বলা যেতেই পারে এই ছবিটি তিন বছরের পুরনো। যে আশা নিয়ে দর্শকরা এই ছবিটির জন্য অপেক্ষা করছিলেন সেই আশা ভঙ্গ হবে তাঁদের।

মালালার মতো বিষয়কে হাতে পেয়েও পরিচালক খুব একটা বেশি কিছুই করতে পারেননি, যা সত্যিই হতাশাজনক। মালালা ইউসুফজাইয়ের কাহিনীকে বর্ণনা করার জন্য পেশাগত দক্ষতার প্রয়োজন ছিল, তার বদলে কিছু বোকা বোকা পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে। এর পাশাপাশি এইচই আমজাদ খানের হাতে চিল একটা দারুণ জীবনের গল্প, যাকে তিনি অসাধারণ রূপ দিতেই পারতেন। কিন্তু সেটা তিনি করেননি। তবে ভাস্বতী চক্রবর্তীর সংলাপ কিছুটা হলেও মালালার জীবনকে দর্শকের সামনে তুলে ধরতে সাহায্য করবে।
ছবির গল্প
ছবির গল্প অনুযায়ী, পাকিস্তানের সোয়্যাট ভ্যালিতে কিভাবে বেড়ে উঠেছে মালালা। ২০০০ সালের শেষের দিকে এই অঞ্চলটি তালিবানদের দখলে চলে যায়, তারা সমাজের উন্মুক্ত দিকগুলিকে বন্ধ করে দিতে চায় এবং মেয়েদের শিক্ষার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। এখান থেকেই শুরু হয় মালালার জীবনের সফর। তালিবানদের চ্যালেঞ্জ জানিয়ে মালালা মেয়েদের শিক্ষার জন্য লড়ে যায়। যার ফলে তালিবানদের রোষের শিকার হতে হয় তাঁকে। তালিবানরা তাঁর ওপর হামলা চালায়।
অভিনয়
পরিচালক অবশ্যই মালালার জীবনীকে সামনে রেখে আরও ভালো ভালো দিক তুলে ধরতে পারতেন, তা না করে তিনি শেষ না হওয়া হিংসার দৃশ্য ও মেলোড্রামা দেখিয়ে গিয়েছেন। ১৩০ মিনিটের মধ্যে মালালার আসল চরিত্রটি কখনই আসেনা এবং মালালার নিজের বায়োপিকে তাঁর জীবনের গল্পই পার্শ্বচরিত্র হয়ে ওঠে। 'গুল মকাই’, যা মালালা কথাটির অর্থ, এই চরিত্রে অভিনয় করেছে রিম শেখ। কিন্তু তিনি এই চরিত্রটির দৃঢ়তাকে পর্দায় ফুটিয়ে তুলতে পারেননি। অন্যদিকে মালালার মা–বাবার চরিত্রে অতুল কুলকার্নি ও দিব্যা দত্তার অভিনয়ও খুবই সাধারণ ছিল। যা মন ছুঁতে পারেনি দর্শকদের।
পরিচালকের ব্যর্থতা
ছবিতে মালালাতে মনোযোগের বদলে তালিবানদের সঙ্গে পাক সেনাদের লড়াই, মালালার বাবা জিয়াউদ্দিন ইউসুফজাই যিনি মহিলাদের পড়াশোনার জন্য লড়াই চালাচ্ছেন, সেগুলিকেই বেশি দেখানো হয়েছে। ২০১৫ সালে আমেরিকান পরিচালক ডেভিস গুগ্গেনহেইম মালালাকে নিয়ে একটি তথ্যচিত্র তৈরি করেছিলেন, যার নাম 'হি নেমড মি মালালা’, এই ছবিতে মালালার জীবনকে যথাযথভাবে দেখানো হয়েছিল। এই ছবিটি দেখলে দর্শকরা মালালা ইউসুফজাই কে সে বিষয়ে কিছুটা হলেও ধারণা পাবে।












Click it and Unblock the Notifications