সাহসী ঋতুপর্ণা কি ছুঁতে পারলেন দর্শক-হৃদয়ের 'গহীন'-কে! কেমন হল 'গহীন হৃদয়'
'অলীক সুখ ' থেকে 'গহীন হৃদয়', ঋতুপর্ণা-দেবশঙ্কর জুটির রসায়নের সফর বহু দিনের।
'অলীক সুখ ' থেকে 'গহীন হৃদয়',সুচিত্রার-সাহিত্যের চরিত্র হিসাবে ঋতুপর্ণা-দেবশঙ্কর জুটির রসায়নের সফর বহু দিনের। এর আগে শিবপ্রসাদ-নন্দিতা পরিচালকদ্বয়ের হাত ধরে, আর এবার অগ্নিদেবের পরিচালনায় ফের একবার সুচিত্রা ভট্টাচার্যের উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্রে এই দুই তারকা। সম্পর্কের বেড়াজালে এক আবেগঘন পরিস্থিতি তুলে ধরেছে এই ছবি। কখনও 'মন' কখনও বা 'মাথা',... একে অপরকে ছাপিয়ে যাওয়ার চিত্রনাট্য লিখেছে 'গহীন হৃদয়'।

প্রেক্ষাপট
এই কাহিনি সোহিনী (ঋতুপর্ণা), ভাস্কর (দেবশঙ্কর), অনুপমের (কৌশিক)। দাম্পত্য সমস্যার জেরে সোহিনী আর ভাস্করের মধ্য়ে একটা দূরত্ব তৈরি হয়। এই দূরত্বের গভীরতা ক্রমেই বাড়তে থাকে। আর সেই বড়সড় ফারাকের মধ্যে চলে আসে আরও একটি চরিত্র, অনুপম। ভাস্করের বন্ধু অনুপমের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতায় জড়িয়ে পড়ে সোহিনী। এমন এক পরিস্থিতিতে জীবনের বাকিটা সময় একসঙ্গেই কাটাবার কথা ভাবতে থাকে অনুপম ও সোহিনী। কিন্তু পরিস্থিতি চরম মোড় নেয় যখন ভাস্করের ক্যানসার ধরা পড়ে। এরপর মন বলতে থাকে এক কথা, আর মাথায় আসতে থাকে নানান যুক্তি। দুইয়ের লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়ে তিনটি জীবন।

অভিনয়
ফের একবার দেবশঙ্কর -ঋতুপর্ণা জুটি। প্রেক্ষাপট সুচিত্রা ভট্টাচার্যের উপন্যাস। চেনা -অচেনা নানান ধরনের সাদা-কালো আর রঙিন অভিব্যক্তি যেন মূর্ত হয়ে উঠেছে এঁদের অভিনয়ে। কোথাও খামতি রাখেননি কৌশিকও। সব মিলিয়ে এই তিন অভিনেতাকে স্ক্রিনে একসঙ্গে পাওয়া যেন দর্শকের এক পরম প্রাপ্তি।

পরিচালনা
হৃদয়ের গহীন তলেরও কিছু রঙ থাকে। সেই রঙ কখনও কাব্য লেখে, কখনওবা গদ্যে আটকে থাকে। এই কাব্য আর গদ্য়ের দোলাচল পরিচালক অগ্নিদেব চট্টোপাধ্যায় স্ক্রিনের রঙের খেলায় তুলে ধরেছেন। যদিও গল্পের গাঁথনিতে কোথাও আলগা হয়েছে ইঁট পাথর, তবুও তার মোড়ক অত্যন্ত উজ্জ্বল।

সবশেষে
জীবনের চেনা ছন্দের আড়ালের অন্ধকারকে তুলে ধরেছে 'গহীন হৃদয়'। সেই অচেনা অতলকে ছুঁতে চাইলে , উইকেন্ডে দেখে আসতেই পারেন 'গহীন হৃদয়'।












Click it and Unblock the Notifications