Get Updates
Get notified of breaking news, exclusive insights, and must-see stories!

(মুভি রিভিউ) বাহুবলী: দ্য কনক্লুশন : আরও রাজকীয় আরও সাবলীল এই ছবির আসল নায়ক রাজামৌলিই

পরিচালক এসএস রাজামৌলি বারবার বলে এসেছেন বাহুবলী : দ্য বিগিনিং বাহুবলী সিরিজের সূচনা মাত্র। বাহুবলী ২ : দ্য কনক্লুশন দেখতে গিয়ে বারবার রাজামৌলির সেই দাবিকেই সত্যি বলে মনে হয়েছে।

পরিচালক : এস এস রাজামৌলি
অভিনয় : প্রভাস, রানা দুগ্গাবটি, অনুষ্কা শেট্টি, রামইয়া কৃষ্ণন, তমন্না ভাটিয়া, সত্যরাজ

পরিচালক এসএস রাজামৌলি বারবার বলে এসেছেন বাহুবলী : দ্য বিগিনিং বাহুবলী সিরিজের সূচনা মাত্র। বাহুবলী ২ : দ্য কনক্লুশন দেখতে গিয়ে বারবার রাজামৌলির সেই দাবিকেই সত্যি বলে মনে হয়েছে। বাহুবলীর প্রথম ভাগে যে চোখ ধাঁধানো সেট, গ্রাফিক্স এফেক্টস দেখা গিয়েছিল দ্বিতীয় ভাতা তা তো আছেই সঙ্গে আছে ড্রামা ও ইমোশনের অদ্ভুদ মেলবন্ধন।[কাটাপ্পা কেন মারল বাহুবলীকে? উত্তর জানিয়ে ভাইরাল ভিডিও ফাঁস স্যোশাল মিডিয়ায় ]

সাধারণত দেখা যায় বলিউডের এই ধরনের সিরিজের ক্ষেত্রে প্রথম ভাগ যতটা দর্শক টানতে পারে দ্বিতীয় পর্যায়ে সেই উন্মাদনা তৈরি করলেও সেই আমেজটা ধরে রাখতে অসফল হয়। কিন্তু এক্ষেত্রে একবারের জন্য মনে হবে বাহুবলীর দ্বিতীয়ভাগ জোর করে দর্শক টানতে বানানো হয়েছে। এই কনক্লুশনের প্রয়োজন ছিল এই ছবি অযথা নয়। বাহুবলীর প্রথম ভাগের পর থেকে দ্বিতীয় ভাগের ধারাবাহিকতা অত্যন্ত মসৃণ। বাহুবলী : দ্য বিগিনিং যেখানে শেষ হয়েছিল, বাহুবলী: দ্য কনক্লুশন ঠিক সেখান থেকেই শুরু হয়েছে।[ আজ মুক্তি বাহুবলী ২ এর : কেন সমস্ত রেকর্ড ভাঙতে চলেছে সিনেমাটি, জেনে নিন ]

প্রিকোয়েলের চেয়ে এই ছবি আরও বড় আরও ভালও। কাল্পনিক মহেশমতি রাজ্য এবার আরও সম্পদে পরিপূর্ণ আরও সুন্দর করে দেখানো হয়েছে। একেবারে রূপকথার রাজ্য। এখানেই বাহুবলীর সঙ্গে দেখা হয় তাঁর হবু স্ত্রী দেবসেনার।[বাহুবলী ২ : হায়দ্রাবাদে ধুন্ধুমার, পুলিশের লাঠিচার্জ দর্শকদের ওপর ]

সত্যি কথা বলতে লিখতে বসে মনে হচ্ছে, এই ছবি দেখার অভিজ্ঞতা শব্দে সাহায্যে হয়তো প্রকাশ করা যাবে না। এই ছবি অনুভব করতে হবে। এই ছবির গল্প বলা যাবে, কী ভাল লেগেছে কী খারাপ রেখেছে বলা যাবে কিন্তু এই ছবির যে প্রভাব দর্শক হিসাবে পড়েছে আমার উপর তার ব্যাখ্যা হয়তো শব্দে করা সম্ভব নয়। এই ছবি দেখতে দেখতে কখনও আপনি বাহুবলীপ কল্পরাজ্যে ঢুকে যাবেন বুঝতেও পারবেন না।

তবে একটা বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই রাজামৌলির মতো সূক্ষ্ম স্টোরিটেলার ভারতীয় সিনেমায় এখনও পর্যন্ত হয়তো আর কেউ নেই। যেভাবে গল্পকে যত্ন সহকারে মুক্তর মতো গেঁথেছেন এই ছবির আসল নায়ক রাজামৌলিই।

খামতি

খামতি

যদি এই ছবি থেকে খুঁত বের করতেই হয় তবে বলব, দেবসেনার সঙ্গে বাহুবলীর কোর্টশিপে কিছুটা কাটছাঁট করতে পারতেন পরিচলাক। বিরক্তিকর লাগেনি কোথাও তবে কিছু মূহূর্তে মনে হয়েছে দেবসেনা বাহুবলীর প্রেমপর্ব খানিক কম সময়সীমায় দেখালে খামতি মনে হত না। ছবিটা আরও কমপ্যাক্ট হত।

মহেশমতির রাজমাতা শিবগামী (রামাইয়া কৃষ্ণন) বল্লালদেবের জন্য দেবসেনার হাত চাইলে দেবসেনা সেই প্রস্তাব ফিরিয়ে দেয়। এখান থেকেই গতি পেতে শুরু করে এই ছবি। বল্লালদেব হয় রাজা এবং বাহুবলী হয় রাজ্যের সেনা প্রধান।

হাইলাইট

হাইলাইট

এই ছবির সবচেয়ে বড় হাইলাইট হল, শিবগামী ও দেবসেনা, বাহুবলীর জীবনের যেই দুই মহিলার গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি, তাদের একঝলক দেখা গিযেছিল বাহুবলীর প্রথম ভাগে। এই ছবিতে তাদের অতীতটা আরও স্পষ্ট করে দেখানো হয়েছে। অমরেন্দ্র বাহুবলীর বাবা তথা শিবগামীর ভাসুর মারা যাওয়ার পর শিবগামীর পদক্ষেপ কী ছিল? অনাথ অমরেন্দ্র (প্রভাস) এবং নিজের সন্তান বল্লালদেবকে (রানা দুগ্গাবটি) কীভাবে বড় করেছিলেন শিবগামী, অমরেন্দ্রর মৃত্যুর পর কীভাবে তাঁর অংশ মহেন্দ্র বাহুবলীকে রক্ষা করে আত্মবলিদান দিলেন শিবগামী সব স্পষ্টভাবে দেখানো হয়েছে এই ছবিতে।

অন্যদিকে কিশোরি দেবসেনার মহেশমতির রানি এবং সবশেষে মা হওয়ার যাত্রাপথটাও দুরন্তবাবে দেখানো হয়েছে এই ছবিতে।

অভিনয়

অভিনয়

প্রভাস যে শুধু শুধু চার চারটি বছর এই ছবির পিছনে দেননি তা স্পষ্ট এই ছবিতে তার অভিনয় ও লুকেই। আভিজাত্য, নিয়ন্ত্রণ, নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা, প্রেম, যুদ্ধ প্রত্যেকটি পদক্ষেপ অত্যন্ত সুচারু ভাবে পালন করেছেন প্রভাস। অন্যদিকে সম্পতি মুক্তি পাওয়া গাজি অ্যাটাক ছবির রানার সঙ্গে বল্লালদেবের কোনও মিল খুঁজে পাবেন না। হাজারো চেষ্টা করলেও পাবেন না। তাঁর লুক, নৃসংশ চেহারা, বাহুবলীর বিরুদ্ধে হিংসা, শক্তি, সাহস অসাধারণভাবে ক্যারি করেছেন রানা।

হতাশ করেছে সঙ্গীত

হতাশ করেছে সঙ্গীত

এমএম কীরাবানির (এমএম ক্রিম) সঙ্গীত বাহুবলীর প্রথম ভাগের মতোই ভাল। বাহুবলীতে যদি কৈলাশ খেরের বীর রসের গানে আপনি মুগ্ধ হয়ে থাকেন তাহলে বাহুবলী ২ তে কৈলাশ দালের মেহেন্দির হাই এনার্জি সঙ্গীত আপনাকে অন্য অনুভূতি দেবে। তবে গানের হিন্দি কথা একেবারে বেমানান লেগেছে। এই ছবির সবচেয়ে দুর্বল জায়গা এই ছবির গানের শব্দগুলিই।

সবশেষে

সবশেষে

এই ছবি জীবনের একটা অভিজ্ঞতা। সবার ভাল লাগবে তা না, যদিও খারাপ লাগার সম্ভবনা অত্যন্ত ক্ষীণ, তবুও এই ছবি থিয়েটারে বসে না দেখা মানে জীবনের এক অভিজ্ঞতা থেকে দুরে থাকা।

More From
Prev
Next
Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+