'আমাজন অভিযান'-এর গল্পে এই সত্যি ঘটনা থেকে অনুপ্রাণিত, 'ছবি' দেখাল বাঙালী কী করতে পারে
লড়াইটা আবারও ঘুরেফিরে একই অঙ্কে টেনে নিয়ে গেল। বাংলার হল- গুলিতে আজ বক্স অফিসের যুদ্ধে ফের মুখোমুখী দেব ও সলমানের ছবি।
লড়াইটা আবারও ঘুরেফিরে একই অঙ্কে টেনে নিয়ে গেল। বাংলার হল- গুলিতে আজ বক্স অফিসের যুদ্ধে ফের মুখোমুখী দেব ও সলমানের ছবি। এই একই লড়াই চলতি বছরে দেখা গিয়েছে ইদের মরশুমে। যখন দেবের 'চ্যাম্প' আর সলমানের 'টিউবলাইট' একই সঙ্গে মুক্তি পায়। আর এবার লড়াই ক্রিস্টমাস-এর মরশুমে।
লড়াইয়ের অঙ্ক দূরে রাখলে 'আমাজন অভিযান' দেখিয়ে দিতে পেরছে প্রযুক্তির বুদ্ধিদীপ্ত ব্যবহারে বাঙালি তার চলচ্চিত্রায়ণকে কোথায় নিয়ে যেতে পারে।

কাহিনি বিন্যাস
এই ছবির গল্পের মূল চরিত্র শংকর কে সৃষ্টি করেছিলেন বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়, তাঁর 'চাঁদের পাহাড়' উপন্য়াসে। সেই উপন্যাস থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে তৈরি হয় 'চাঁদের পাহাড়' ছবিটি। আর এবার সেই শংকরই (দেব)আফ্রিকার জঙ্গল ছেড়ে ল্যাটিন আমেরিকার আমাজনে পাড়ি দিয়েছে। উদ্দেশ্য , খুঁজে বার করা এল ডোরাডো, বা সোনার শহর যার নাম শোনা যায় রূপকথায়। এই অভিযান যে কতটা ভয়ঙ্কর হতে পারে , তা পরত পরতে ছবি তুলে ধরেছে। কিন্তু শেষে কী খুঁজে পাওয়া যাবে সেই শহর? এই প্রশ্নের উত্তর পেতে হলে দেখতে যেতে হবে 'আমাজন অভিযান'।

সত্য ঘটনা থেকে অনুপ্রাণিত
ছবির পরিচালক কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায় নিজেই জানিয়েছেন এই ছবির গল্প এক সত্যি ঘটনা থেকে অনুপ্রাণিত হয়েছে। ছবির প্রেক্ষাপট ১৯১৩-১৪ সাল। সেই সময়ে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট থিওডোর রুসভেল্টের আমাজনে এক রোমাঞ্চকর অভিযান থেকেই এই গল্প অনুপ্রাণিত। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পর পর ২ বার প্রেসিডে্ট হওয়ার পর তৃতীয়বার নির্বাচনে হেরে ক্লান্ত রুসভেল্ট জঙ্গল অভিযানে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। সেই সময়ে আমাজনে গিয়ে তিনি প্রায় মৃত্যুমুখে পতিত হয়ে পড়ছিলেন। রুসভেল্টের সেই কাহিনি থেকে অনুপ্রাণিত হয়েই ছবি 'আমাজন অভিযান'।

অভিনয়
চিরাচরিত ঘরানার বাংলা ছবির থেকে এই ছবি একেবারেই আলাাদা। আর তার জন্য অভিনেতার বাড়তি কিছু দক্ষতার প্রয়োজন। দেব যে তা বুঝেই শংকরের চরিত্র ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করে গিয়েছেন, তা ধরা পড়েছে ছবিতে। গোটা ছবিতে নিজের ১০০ শতাংশ দিয়েছেন দেব। বাকি অভিনেতা অভিনেত্রীদেরও অভিনয় যথোপোযুক্ত ছিল।

পরিচালনা
পরিচালকের নাম যখন কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায়, তখন ফিল্মে একটা চমক তো থাকবেই! দর্শকের যাবতীয় আশা আকাঙ্খা পূরণ করে আবারও সেটা প্রমাণ কের দিলেন তিনি। বিপদসঙ্কুল আমাজনে শ্যুটিং করা শুধু নয়, দক্ষতার সঙ্গে তা পরিচালনা করা মোটেও সহজ কাজ নয়। তবে তাইই করে দেখালেন কমলেশ্বরবাবু। এই ছবির হাত ধরে এক সাহসী পরিচালক হিসাবে আবারও ধরা দিলেন কমলেশ্বর।

প্রযুক্তি
ছবিতে প্রযুক্তি ব্যবহার য কতটা সুক্ষ্ম হতে পারে ভেঙ্কটেশ ফিল্ম প্রযোজিত এই ছবি আবারও সেটা প্রমাণ করল। সঙ্গে এই ছবির টিম বাংলা ছবির ঘরানাকে আরও মজবুত করল।

সবশেষে
যে ছবি দেশের ৬ টি ভাষায় মুক্তি পায়, যে ছবি বাংলা তথা দেশ পেরিয়ে ইংল্যান্ডের ৯ টি হল-এ মুক্তি পাচ্ছে, সে ছবি ঘিরে যে দর্শকদের ভিড় হবে তা বলাই বাহু্ল্য। ক্রিস্টমাসের মরশুমে ছোট থেকে বড় সকলের মন মজানোর মতো রসদ রয়েছে এই ছবিতে।












Click it and Unblock the Notifications