Shyam Benegal Died: শ্যাম বেনেগাল সমান্তরাল সিনেমার অন্যতম কিংবদন্তি, রেখে গেলেন নানা অমর সৃষ্টি
Shyam Benegal Died: শ্যাম বেনেগাল প্রয়াত। বেশ কয়েক বছর ধরেই ভুগছিলেন কিডনির অসুখে। আজ মুম্বইয়ের একটি বেসরকারি হাসপাতালে তিনি প্রয়াত হন। বয়স হয়েছিল ৯০ বছর।
শ্যাম বেনেগাল ভারতীয় চলচ্চিত্রে রেখে গেলেন অসংখ্য অমর সৃষ্টি। তাঁর প্রয়াণ দেশের চলচ্চিত্র জগৎ তো বটেই, সাংস্কৃতিক জগতেই তৈরি করল গভীর শূন্যতা।

শ্যাম বেনেগালের জন্ম হায়দরাবাদের তিরুমালাগিরিতে, ১৯৩৪ সালের ১৪ ডিসেম্বর। একাধারে তিনি যেমন ছিলেন চলচ্চিত্র পরিচালক, তেমনই ছিলেন স্ক্রিনরাইটার ও ডকুমেন্টারি ফিল্মমেকার। প্যারালাল সিনেমার অন্যতম কিংবদন্তি, সত্তরের দশকের সেরা পরিচালকদের অন্যতম।
কোঙ্কনী চিত্রপুর সারস্বত ব্রাহ্মণ পরিবারে জন্ম শ্যাম বেনেগালের। তাঁর বাবা শ্রীধর বি বেনেগালের আদি বাড়ি ছিল কর্ণাটকে। ফোটোগ্রাফার বাবাকে দেখেই চলচ্চিত্রের প্রতি আকৃষ্ট হন শ্যাম বেনেগাল। বাবার দেওয়া ক্যামেরা ব্যবহার করে মাত্র ১২ বছর বয়সেই প্রথম ছবি বানান তিনি।
শ্যাম সুন্দর বেনেগাল হায়দরাবাদের ওসমানিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। হায়দরাবাদ ফিল্ম সোসাইটি তিনিই প্রতিষ্ঠা করেন। বিখ্যাত পরিচালক তথা অভিনেতা গুরু দত্তের দিদা ও শ্যামের ঠাকুমা ছিলেন আপন বোন। ফলে গুরু দত্তের সঙ্গে শ্যামের আত্মীয়তা ছিল।
সামাজিক ও রাজনৈতিক বিষয়বস্তু গুরুত্ব পেয়েছে শ্যাম বেনেগালের ছবিতে। বাস্তবধর্মী, সামাজিক বিষয়বস্তুর ব্যাখ্যা-সহ উপস্থাপনা, সমাজের বঞ্চিত, অবহেলিতদের কথা তুলে ধরেছেন প্যারালাল সিনেমা মুভমেন্টে নেতৃত্ব দেওয়ার ফাঁকে, নিজের নানা ছবিতে। সমান্তরাল সিনেমার অন্যতম কিংবদন্তি তিনি।
বলিউডে পা রাখার আগে শ্যাম বেনেগাল প্রথম সমাদৃত হন অঙ্কুর ছবির মাধ্যমে। এই ছবি বক্স অফিসে ভালো সাড়া ফেলে, বেশ কিছু পুরস্কারও জোটে। এরপর একাধিক ছবিতে শ্যাম বেনেগাল মুগ্ধ করেছেন দর্শকদের। নিশান্ত ছবিতে যেমন তুলে ধরেছেন গ্রামীণ এলাকায় সামাজিক ন্যায়বিচারের অভাব, তেমনই মন্থন ছবির বিষয়বস্তু ছিল গ্রাম্য ক্ষমতায়ন ও কৃষদের জীবন সংগ্রাম।
ইতিহাস-নির্ভর, জীবনীমূলক নানা ছবিও উপহার দিয়েছেন শ্যাম বেনেগাল। ১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহের পটভূমিতে শ্যাম বেনেগাল তৈরি করেছিলেন জুনুন। আবার মান্ডি ছবিতে তিনি তুলে ধরেন সমাজের নারী শোষণের বিষয়টি। জওহরলাল নেহরুর ডিসকভারি অব ইন্ডিয়ার ভিত্তিতে তৈরি ভারত এক খোঁজ ১৯৮৮ সালে টিভিতে সম্প্রচারিত হয়েছিল। দেশের ইতিহাসকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার এই প্রচেষ্টায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল শ্যাম বেনেগালের।
ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্ট্টিউট অব ইন্ডিয়ার চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেছেন। একইসঙ্গে দেশের খ্যাতনামা অনেক পরিচালককে নিজের হাতে তৈরি করেছেন শ্যাম বেনেগাল। ১৮টি জাতীয় পুরস্কার রয়েছে শ্যাম বেনেগালের ঝুলিতে। পদ্মশ্রী, পদ্মবিভূষণ থেকে দাদাসাহেব ফালকেও।
টেলিভিশনে তাঁর যাত্রা ও সংবিধানও সমাদৃত হয়েছিল দর্শক মহলে। ১৯৫৯ সালে মুম্বইয়ের একটি অ্যাডভার্টাইজিং এজেন্সিতে কপিরাইটার হিসেবে কাজ শুরু করেন। সেই লিনটাস অ্যাডভার্টাইজিংয়ের ক্রিয়েটিভ হেডও হন। তাঁর প্রথম ডকুমেন্টারি তৈরি হয়েছিল গুজরাতিতে। ঘের বেঠা গঙ্গা মুক্তি পায় ১৯৬২ সালে। হোমি জে ভাবা ফেলোশিপ পেয়েছিলেন। ফলে নিউ ইয়র্ক ও বস্টনেও কাজের সুযোগ পান। তাঁর প্রথম ছবি অঙ্কুর মুক্তি পায় ১৯৭৩ সালে।
রাজ্যসভার সাংসদও হয়েছিলেন শ্যাম বেনেগাল। তাঁর বিয়ে হয়েছিল নীরা বেনেগালের সঙ্গে। তাঁদের এক কন্যা পিয়া। তিনিই সংবাদমাধ্যমকে এদিন জানিয়েছেন বাবার মৃত্যুসংবাদ।












Click it and Unblock the Notifications