Ustad Rashid Khan: আর সুর উঠবে না ভৈরবীর, ১১ বছর বয়সে প্রথম কনসার্ট, রশিদ নিজেই ছিলেন মিউজিকাল জার্নি
উত্তর প্রদেশে বদায়ুঁতে জন্ম উস্তাদ রশিদ খানের। যদিও কলকাতাতেই তাঁর সব কিছু। হঠাৎ করে থেমে গিয়েছে তাঁর সুর। ৫৫ বছরের জীবনের পরিসরের পুরোটাই জুড়েছি সঙ্গীত। পারিবারিক সূত্রেই এই সুরের জগতে তাঁর বিচরণ।
তাঁর ঠাকুরদা ছিলেন ধ্রুপদী সঙ্গীত শিল্পী ইনায়েত হুসেন খান। তাঁর হাতেই তৈরি হয়েছিল রামপুর-সহসওয়ান ঘরানা তৈরি হয়েছিল। সেই ঘরানার ধারক ছিলেন উস্তাদ রশিদ খান। শৈশব থেকেই বাড়িতে গান বাজনার রেওয়াজ। বিশেষ করে ধ্রুপদী সঙ্গীতের তালিম দেখতে দেখতেই বড় হয়ে ওঠা। মাত্র ১১ বছর বয়সে তিনি প্রথম কনসার্ট করেছিলেন।

তাঁর গুরু ছিলেন মামাদাদু উস্তাদ নিসার হুসেইন খান। শৈশবে মামার হাতেই সঙ্গীতে হাতে খড়ি উস্তাদজির। ১৯০৯ সাল থেকে ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত তাঁর কাছেই তালিম নিয়েছিলেন রশিদ খান। বাবা-মা দুই দিকেই গানের সঙ্গে যাপন করেছেন জীবন। উস্তাদ গুলাম আলি খানের ভাইপো ছিলেন তিনি। কাজেই বোঝাই যাচ্ছে ঘুম থেকে ওঠা থেকে খাওয়া দাওয়া এমনকী ঘুমোতে যাওয়া পর্যন্ত সবটাই ছিল গান ময়। সেই গান ধ্রুপদী গান।
হিন্দুস্তানি ক্লাসিকাল বা ধ্রুপদী সঙ্গীতের দক্ষ হয়ে উঠতে শুরু করেছিলেন সেই ১১ বছর বয়স থেকে। তাঁর গানের প্রতি নিষ্ঠা দেখে প্রথম কনসার্ট করার সুযোগ দিয়েছিলেন তাঁর মামাদাদু। ভাগ্নের গানের প্রতি আগ্রহ দেখে রশিদ আলি খানকে মুম্বইয়ে তালিম নিতে পাঠিয়েছিলেন উস্তাদ গুলাম মুস্তাফা খান। মামাদাদুর তত্বাবধানে তালিম শুরু করেন তিনি। একটি নোটেই এক ঘণ্টা ধরে তাঁকে রেওয়াজ করা করাতেন উস্তাদ নিসার হুসেইন। নিসার হুসেইনের তালিমেই দক্ষ ধ্রুপদী সঙ্গীতশিল্পী হয়ে ওঠেন রশিদ খান।
দিল্লিতে আইটিসি কনসার্টে ১৯৮০ সালে প্রথম সঙ্গীত পরিবেশন করেন রশিদ আলি খান। সেই থেকে তার পরিচিতি শুরু হয়। তারপরে মামাদাদুর সঙ্গে কলকাতায় চলে আসেন এবং কলকাতার আইটিসি সঙ্গীত রিসার্চ অ্যাকাডেমিতে যোগ দেন তিনি। ধ্রুপদী সঙ্গীতের গোয়ালিয়র ঘরানার সঙ্গে খুব মিল রয়েছে রশিদ খানের পরিবারের ঘরানা রামপুর-সাহাসোয়ান ঘরানার।
ওস্তাদ আমির খান এবং পণ্ডিত ভীমসেন যোশীর স্টাইলেও অনুরক্ত ছিলেন তিনি। রশিদ খানের গায়কীতে মুগ্ধ হয়েছিলেন পণ্ডিত ভীমসেন যোশীও। তিনি রশিদ খানকে দেশের ধ্রুপদী সঙ্গীতের ভবিষ্যত বলে মন্তব্য করেছিলেন। তাঁর গায়কী একটা সময়ে গোটা দেশে সমাদৃত হবে বলে মন্তব্য করেছিলেন পণ্ডিতজি। খেয়ালে বিশেষ পারদর্শী ছিলেন তিনি। তার সঙ্গে একাধিক বলিউডি সিনেমার গানের সুরও দিয়েছিলেন তিনি। বাংলা সিনেমাতেও সুর দিয়েছেন তিনি। হঠাৎ করে ৫৫ বছর বয়সেই থেমে গেল তাঁর সুর।












Click it and Unblock the Notifications