আর্থিক তছরুপের মামলায় আট ঘণ্টা ধরে ম্যারাথন জেরা জ্যাকলিনকে
আর্থিক তছরুপের মামলায় আট ঘণ্টা ধরে ম্যারাথন জেরা জ্যাকলিনকে
বলিউড অভিনেত্রী জ্যাকলিন ফার্নান্ডেজকে বুধবার অর্থ পাচারের মামলায় EOW (ইকোনমিক অফেন্স উইং) অফিসে তলব করা হয়েছিল। সুকেশ চন্দ্রশেখর মামলায় অভিনেত্রীর জন্য দীর্ঘ প্রশ্নের তালিকা তৈরি করেছিল পুলিশ। অভিনেত্রী ছাড়াও পিঙ্কি ইরানিও এই বিষয়ে অফিসে পৌঁছেছিলেন। অভিনেত্রী সকাল সাড়ে ১১ টায় EOW অফিসে এসেছিলেন এবং তাঁকে প্রায় আট ঘণ্টা ধরে ম্যাথারন জেরা করা হয় তাঁকে।

অভিনেত্রী ছাড়াও এদিন পিঙ্কি ইরানিকেও জেরা করেছেন তদন্তকারীরা। তিনিই সুকেশ চন্দ্রশেখরের সঙ্গে জ্যাকলিনের আলাপ করিয়েছিলেন বলে জানা গিয়েছে। বুধবার সন্ধ্যায় জিজ্ঞাসাবাদের পর চলে যান। জানা গিয়েছে যখন পিঙ্কি ও অভিনেত্রীকে মুখোমুখি বসিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছিল তখন তাদের মধ্যে অশান্তি শুরু হয়ে। তাঁরা একে অপর দোষারোপ করতে শুরু করেন। জ্যাকলিন বারাবার বলছিলেন পিঙ্কি মিথ্যা কথা বলছে অপরদিকে পিঙ্কি বলছেন জ্যাকলিন মিথ্যে কথা বলছে, আর এই নিয়ে শুরু হয় অশান্তি। যদিও অভিনেত্রীর কথায় অসঙ্গতি পেয়েছেন পুলিশ।
সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, পুলিশের সামনেই দুজনেরই মধ্যে অশান্তি শুরু হয়। পিঙ্কি ইরানি সুকেশ চন্দ্রশেখরের সঙ্গে জ্যাকলিনের পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন। আর তার মাধ্যমেই সুকেশ অভিনেত্রীকে দামি দামি উপহার পাঠাতেন। অভিনেত্রীর সঙ্গে পিঙ্কির দুই ঘটনা ধরে কথা কাটাকাটি চলেছিল।
পিঙ্কি বারবার অভিনেত্রীকে দোষারোপ করছিলেন। তিনি বলছিলেন জ্যাকলিন জানেন সুকেশের ২০০ কোটি টাকার আর্থিক তছরুপের পুরো ঘটনাই জানেন তিনি। সেগুলি জানার পরেও জ্যাকলিন সুকেশের থেকে দামি দামি উপহার নিয়েছেন। যদিও জ্যাকলিন জানান পিঙ্কি মিথ্যে কথা বলছে।
অভিনেত্রী জানান, সুকেশের অপরাধমূলক ঘটনার সঙ্গে কোনও ভাবেই জড়িত নন তিনি। এই নিয়েই শুরু হয় অশান্তি, কথা কাটাকাটি। পুলিশের সহযোগিতায় শান্ত হন তাঁরা।
সুকেশ চন্দ্রশেখরের বিরুদ্ধে ২১৫ কোটি টাকা উদ্ধারের মামলা চলছে। এই মামলায় চার্জশিট দাখিল করেছে ইডি। ইডির চার্জশিটে জ্যাকলিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে যে সুকেশ চন্দ্রশেখর তাকে প্রায় ৭ কোটি টাকার গয়না উপহার দিয়েছিলেন। এছাড়াও প্রায় দামী বিড়াল থেকে নানান গহনা সঙ্গে আরও কত দামী জিনিস অভিনেত্রীকে উপহার দিয়েছেন সুকেশ।
উল্লেখ্য, জ্যাকলিন ফার্নান্ডেজ একজন শ্রীলঙ্কার নাগরিক। ২১৫ কোটি টাকার আর্থিক তছরূপের ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে নায়িকাকে। এই ঘটনায় পুলিশের নজরে রয়েছেন পিঙ্কি ইরানিও। কারণ তিনি অভিনেত্রীর সঙ্গে সুকেশের যোগাযোগ করিয়ে দিয়েছিলেন। বর্তমানে পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন সুকেশ চন্দ্রশেখর। তার বিরুদ্ধে লোকের সঙ্গে প্রতারণা থেকে আর্থিক তছরুপের অভিযোগ রয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications