আজও তিনি পথের পাঁচালীর নিশ্চিন্তিপুরের দুর্গা, বাঙালির মনে থাকবেন উমা দাশগুপ্ত
সেই ছিপছিপে কিশোরী কন্যা। ভাইয়ের সঙ্গে আম কুড়োতে যাওয়া। আবার ভাইয়ের সঙ্গেই মারপিট৷ ইন্দিরা ঠাকুরণের ছায়াসঙ্গী ছিল ভাই- বোন৷ ঠাকুরণ চলে গিয়েছিল আগেই৷ তারপর সেই বৃষ্টির বেলা। কাকভেজা হয়েছিল বৃষ্টিতে। সত্যজিৎ রায় লেন্সবন্দি করেছিলেন সেই বৃষ্টিভেজার আনন্দ। তারপরেই দুর্গা চলে গিয়েছিল।
পথের পাচালীর দুর্গা বাঙালির হৃদয়ে বরাবর সমাদৃত। আর ছবির অপু - দুর্গার চরিত্র হৃদয় মণিকোঠায়। ছবিতে দুর্গার চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন উমা দাশগুপ্ত। ওই একটি ছবি করেই বাঙালির হৃদয়ে তিনি জায়গা করে নেন। দীর্ঘ সময় পেরিয়েও তিনি একইভাবে বাঙালি পরিবারের সেই কিশোরী দুর্গা।

পর্দার সেই দুর্গা এবার থামলেন। বাস্তব জীবনে তিনি চলে গেলেন পরপারে। ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছিলেন তিনি। দীর্ঘ সময় ধরেই অসুস্থ ছিলেন অভিনেত্রী৷ বয়সের ভারে অন্যান্য শারীরিক সমস্যাও ছিল৷ আর তিনি লড়াইয়ে ফিরে আসতে পারলেন না। বেশ কয়েক দিন ধরেই কলকাতার এক বেসরকারি হাসপাতালে তিনি চিকিৎসাধীন ছিলেন। সোমবার সকালে হাসপাতালেই মারা গেলেন তিনি।
সারা জীবনে একটি মাত্র ছবি। আর তাতেই গোটা বাঙালি হৃদয়ে তিনি জায়গা করে নিয়েছেন দুর্গা নামে। তিনি যতটা না উমা, তার থেকেও যেন বেশি ছিলেন দুর্গা। সেই ১৯৫৫ সাল৷ সত্যজিৎ রায় তাঁকে 'পথের পাঁচালী' ছবির জন্য বাছাই করেছিলেন। তখন তাঁর কিশোরী বেলা। বয়স সবে ১৪ বছর৷ সত্যজিৎ রায় তাঁর মধ্যেই খুঁজে পেয়েছিলেন বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের আম আঁটির ভেঁপুর দুর্গাকে। আর ছবি মুক্তির পর বাঙালি পায় ছবির দুর্গাকে।
কত আবেগ, কত ভালোবাসা। আর তিনি কোনও ছবিতেও অভিনয় করেননি৷ টেলিভিশনের পর্দায় তাঁকে দেখা যায়নি৷ শোনা যায়, বাবা চাননি মেয়ে অভিনয় করুক। সেই সময় সত্যজিৎ রায় নিজে তাঁর বাবাকে রাজি করিয়েছিলেন। পড়াশোনার পর তিনি শিক্ষকতা করেছিলেন।
পথের পাঁচালীর নিশ্চিন্তিপুরের দুর্গা অমলিন বাঙালি হৃদয়ে৷ পরিচালক চলে গিয়েছেন অনেক আগেই। এবার দুর্গাও চলে গেলেন।












Click it and Unblock the Notifications