দীপাবলিতে আতশবাজির আঘাত! পোড়া, চোখ ও ধোঁয়ার ক্ষতি সামলানোর উপায়গুলি জানুন
দীপাবলি উদযাপন আলো এবং আনন্দ নিয়ে আসে। তবে, আতশবাজি এবং প্রদীপের ধোঁয়ার সাথে অতিরিক্ত ধুলোর কারণে এই উৎসবের মরসুমে প্রায়শই মানুষ জ্বালাপোড়া, চুলকানি, অতিরিক্ত জল এবং লালচে ভাবের মতো সমস্যায় ভোগেন, এমনকি কখনও কখনও শুষ্ক চোখের সিন্ড্রোমও দেখা দেয়। প্রদীপের আলো আর আতশবাজির শব্দের মাঝে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। আতশবাজির কারণে চোখে পোড়া, ধোঁয়ায় দম বন্ধ হওয়া ইত্যাদির সমস্যা হয়ে থাকে। এই সমস্ত সমস্যা দেখা দিলে আমাদের আসলে কী কী করা উচিত, সে বিষয়ে জ্ঞান থাকা প্রয়োজন। ওই সময় হাসপাতালে পৌঁছানোর আগে প্রাথমিক চিকিৎসার কিটে কী কী থাকা উচিত তা জেনে নিন।

যখন কেউ পুড়ে যায়, আমরা সহজ ভাবেই টুথপেস্ট, ঘি নিতে ছুটে যাই, কিন্তু ডাক্তাররা ঠিক এটাই না করার কথা বলেন। নয়ডার ফর্টিস হাসপাতালের জরুরি চিকিৎসা ও ট্রমা বিভাগের প্রধান ডাঃ অনুরাগ আগরওয়াল সতর্ক করে জানিয়েছেন, "মানুষের সবচেয়ে বড় ভুল হল পোড়া জায়গায় টুথপেস্ট, মাখন বা বরফ লাগান। কারণ এগুলো নিরাময়ে দেরী করে এবং সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ায়"।
কাটা পোড়া জায়গায় প্রথমে টুথপেস্ট, মাখন বা বরফ না লাগিয়ে আমাদের যা যা করা উচিত সেগুলি হলো :
১. পোড়া জায়গাটি তাৎক্ষণিকভাবে ১০-১৫ মিনিটের জন্য চলমান কলের জলের নিচে রেখে ঠান্ডা করুন। এটি ব্যথা এবং ফোলাভাব কমাতে সাহায্য করে।
২. বরফ ব্যবহার করবেন না, কারণ এটি ত্বকের আরও ক্ষতি করতে পারে।
৩. জীবাণুমুক্ত গজ বা পরিষ্কার সুতির কাপড় দিয়ে হালকাভাবে ঢেকে দিন।
৪. ফোস্কা ফাটাবেন না, কারণ এগুলো নিচের ত্বককে রক্ষা করে।
৫. অবিলম্বে চিকিৎসার সহায়তা নিন, বিশেষ করে যদি পোড়া জায়গাটি বড়, গভীর হয়, অথবা মুখ, হাত বা যৌনাঙ্গে আঘাত করে।
চোখের আঘাতের ক্ষেত্রে এক সেকেন্ডের ভুল সারা জীবনের অনুশোচনায় পরিণত হতে পারে। এই বিষয়ে ফোর্টিস গুরগাঁওয়ের চক্ষুবিদ্যা বিভাগের প্রধান পরিচালক এবং বিভাগীয় প্রধান ডঃ পারুল মহেশ্বরী শর্মা বলেন, "প্রতি বছর দীপাবলির সময় আমরা চোখের আঘাতের তীব্র বৃদ্ধি দেখতে পাই। হালকা জ্বালা থেকে শুরু করে চোখের সামনের স্বচ্ছ, গম্বুজ আকৃতির স্তর (কর্নিয়া) পোড়া পর্যন্ত বিভিন্ন আঘাত যা স্থায়ীভাবে দৃষ্টিশক্তির উপর প্রভাব ফেলতে পারে"।
যদি চোখে আতশবাজির ফলে কোনো আঘাত লাগে তাহলে আমাদের যা যা করা উচিত সেগুলি হলো :
১. কমপক্ষে ১০-১৫ মিনিট ধরে পরিষ্কার জল দিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে চোখ ধুয়ে ফেলতে হবে।
২.চোখের ভেতরের ময়লাগুলি বের করে দেওয়ার জন্য একটি পাত্রে জল নিয়ে চোখের পাতা আলতো করে খোলা রাখলে ময়লাগুলি বেরিয়ে যায়।
৩. কখনও গোলাপ জল, দুধ, অথবা অন্য কোনও ঘরোয়া জিনিস ব্যবহার করা উচিত নয়।
৪. চোখ ঘষবেন না, কারণ এতে কর্নিয়ার ক্ষতি আরও বাড়তে পারে।
৫. পরিষ্কার জল দিয়ে চোখ ধোয়ার পর, পরিষ্কার কাপড় বা জীবাণুমুক্ত গজ দিয়ে চোখ ঢেকে দিন।
৬. কাছাকাছি কোনো হাসপাতালে যান।
বিশেষ করে যদি কেউ কন্টাক্ট লেন্স পরে থাকেন, তাহলে তাঁদের সচেতন থাকা উচিত যে আতশবাজির কণা লেন্সের পিছনে আটকে যায়, যার ফলে চোখের সংক্রমণের সম্ভাবনা বেড়ে যায়।












Click it and Unblock the Notifications