একই ছাদের তলায় থেকেও কেন দম্পতিরা স্লিপ ডিভোর্সের পথ বেছে নিচ্ছেন?
সময় পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে স্বামী ও স্ত্রীর সম্পর্কেরও কিন্তু অনেক পরিবর্তন হয়েছে অর্থাৎ বর্তমান সময়ে স্লিপ ডিভোর্সের সম্ভাবনাও কিন্তু খুব বেড়ে চলেছে। কী এই স্লিপ ডিভোর্স? যা হয়তো অনেকেরই অজানা।
বিয়ের বেশ কিছু বছর কেটে যাওয়ার পর কিংবা বিয়ের কয়েক মাসের মধ্যে অনেক স্বামী-স্ত্রীরা কিন্তু আলাদা ঘুমানোর সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, একেই বলা হয় স্লিপ ডিভোর্স বা ঘুম বিবাহ বিচ্ছেদ। শুনে নিশ্চয়ই অবাক লাগছে! তবে বর্তমান সময়ে এই স্লিপ ডিভোর্স কিন্তু বেড়েছে অনেকটাই।

একই ছাদের তলায় থেকেও বিয়ের পর আলাদা বিছানায় ঘুমানো কিন্তু বৈবাহিক সম্পর্কের মধ্যে পড়ে না। তবুও এপথ বেছে নিচ্ছেন এখনকার অনেক দম্পতিরা, কিন্তু কেন?
কী কারণে স্লিপ ডিভোর্স হচ্ছে?
এই স্লিপ ডিভোর্সের পেছনে অনেকগুলি কারণ রয়েছে, বিশেষত এই কারণগুলির উপরেই স্লিপ ডিভোর্সের ঘটনা ঘটে, জানুন সেইগুলি কী কী।
নাক ডাকা
দম্পতিদের একে অপরের বক্তব্য কেউ বা নাক ডাকছেন, কারোর বা ঘুমের ধরন আলাদা, কেউ বা কারোর ঘুমের সময় একে অপরের গায়ে পা তুলে অসুবিধার সৃষ্টি করছে। যে কারণে তারা রাতে ভালোভাবে ঘুমাতে পারছেন না। আর যে কারণে দম্পতিরা একই ছাদের তলায় থেকেও আলাদা বিছানা কিংবা সোফায় ঘুমানোর মতন সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।
কাজের চাপ
আবার অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, দম্পতি দু’জনেই চাকরিজীবী। তাদের কেউ হয়তো রাতের শিফটে কাজ করছেন, অপর সঙ্গীর সকালের শিফট। যে কারণে একজন লাইট জ্বালিয়ে কাজ করলে অন্য জনের সমস্যা হচ্ছে , বিছানা ভাগাভাগি করতে তাদের সমস্যা হচ্ছে। যে কারণেও কিন্তু স্লিপ ডিভোর্সের ঝুঁকি বাড়ছে।
ঘুমের পরিবর্তন
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সকলের ঘুমের ধরনের পরিবর্তন হয়। আবার হরমোনের পরিবর্তন হয়। তাছাড়াও সারাদিন পরিশ্রম করার পর সকলেই যেহেতু রাতে একটু শান্তিতে ঘুমাতে চান, অনেক সময় হয় না এই সমস্যাগুলির কারণে তা হয় না।
গোপনীয়তা রক্ষা
গোপনীয়তার কারণে অনেক সময় স্লিপ ডিভোর্স হয় অর্থাৎ বর্তমান সময়ে সকলেই কিন্তু একটু স্বাধীনভাবে বাঁচতে চান। যে কারণে তারা তাদের ব্যক্তিগত কিছু কথা কিংবা অনেক ব্যক্তিগত অনেক কিছু তারা তাদের নিজেদের মধ্যেই রাখতে চায়। তাই তারা ভাবেন, যে আলাদা ঘুমালে হয়তো তাদের সেইটুকু সময় তারা আলাদাই থাকতে পারে। গোপনীয়তার মধ্যে কেউ হস্তক্ষেপ করবেন না।
ল্যাপটপে কাজ করা
বর্তমান সময়, স্মার্ট ফোন কিংবা ল্যাপটপ কিংবা অন্যান্য ডিভাইস কিন্তু প্রত্যেকটি মানুষকে গভীর রাত পর্যন্ত জাগিয়ে রাখে। যে কারণে ঘুমেরও সময়সূচির পরিবর্তন হয়। তার কারণ একজন ব্যক্তি যদি রাত জেগে মোবাইল কিংবা ল্যাপটপের কাজ করেন কিংবা সিনেমা দেখেন, তাহলে অপরজন ব্যক্তি একই বিছানায় শেয়ার করতে হয়তো অসুবিধা হচ্ছে, ঘুমের সমস্যা হচ্ছে। যে কারণে দম্পতি ভাবচ্ছেন, তারা যদি আলাদা থাকেন, আলাদা শোন তাহলে বোধহয় কিছুটা সমস্যা কমবে।
ঝগড়া, অশান্তি
অনেক সময় সারাদিন একসঙ্গে না থাকার কারণে রাত্রি এসে কোনও কারনে ঝগড়া, অশান্তি হতে থাকে। শোওয়ার আগেই অশান্তি হলে তারা দুজনে আলাদা শোওয়ার কথা ভাবছেন। বর্তমান সময়ে এই প্রবণতা কিন্তু প্রচুর বেড়ে গেছে।
পর্যাপ্ত পরিমাণে না ঘুমালে কী হয়
প্রত্যেকটি ব্যক্তির নিত্যদিন সাত থেকে আট ঘন্টা ঘুমানো জরুরী। বিশেষজ্ঞদের মতে, পর্যাপ্ত পরিমাণে না ঘুমলে মানসিক চাপ বাড়তে থাকে। এমনকি হার্টের রোগ দেখা দেয়। তাছাড়াও বড় বড় রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে। এতে মানসিক এবং শারীরিকভাবে স্বাস্থ্যের অবনতি হতে থাকবে। তাই যদি এই ধরনের নানান সমস্যা হতে থাকে। তার থেকে বেরোবার একটাই পথ দম্পতিরা বেছে নিচ্ছন।
ভালোবাসার অভাব
যে কারণে দম্পতিরা দুজনেই কিন্তু ভালো ঘুমাতে পারবেন। আবার অনেক সময় স্বামী- স্ত্রীর মধ্যে যদি ভালোবাসার অভাব থাকে, তখনও কিন্তু দুজনে একসঙ্গে একই ছাদের তলায় থেকে মানসিক দূরত্ব ও ভালোবাসার অভাবের কারণে তারা আলাদা বিছানা বেছে নিচ্ছেন।
উপকার
এবার প্রশ্ন হচ্ছে, স্লিপ ডিভোর্স আদৌ কি ভালো? অনেক ক্ষেত্রে কিন্তু ভালো। তার কারণ ভালো ঘুম , দম্পতিদের একে অপরের মধ্যে কিছুটা স্পেস দেওয়ার জন্য অনেক সময় কিন্তু এটাই ভালো হয়। আবার গোপনীয়তা রক্ষা এবং যাদের ব্যক্তিত্বকে ধরে রাখতে চান, যা সকলের সামনে কখনোই তারা সেটি দেখাতে চান না। আবার শারীরিক, মানসিকভাবেভাবে ভালো থাকা যায়।
খারাপ দিক
কোনও কাজের যেমন ভালো দিক রয়েছে, তেমনই খারাপ দিক রয়েছে। ঠিক তেমনি অত্যন্ত খারাপ একটি জিনিস হল, মানসিক দূরত্ব বাড়তে থাকে। এতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সম্পর্ক ক্রমশই খারাপ হতে থাকে। সারাদিন পরিশ্রমের পর রাত্রে অনেক সময় দম্পতিরা যে সুখ দুঃখের কথা বলেন, সে কথাও হয়তো অনেক সময় অনেক দম্পতির মধ্যে বলা হয় না। যে কারণে স্লিপ ডিভোর্সের প্রবণতাও বাড়ে। আবার অনেকের জীবনে একাকীত্ব চলে আসে।












Click it and Unblock the Notifications