কাঁকরোল দেখলে মুখ ঘোরাচ্ছেন, এই রেসিপিগুলি পেলে নিমেষেই থালা হবে সাবাড়!
কাঁকরোল খেতে পছন্দ করেন কমবেশি প্রায় সকলেই। আবার এমন অনেকেই রয়েছেন যারা কাঁকরোল খেতে একদমই ভালোবাসেন না। তবে আপনি কি জানেন খুব উপকারী এই সবজি খাওয়া। বিভিন্ন রোগ নিয়ন্ত্রণের জন্য কাঁকরোল খাওয়া খুব দরকার সকলের। কাঁকরোল আয়ুর্বেদিক টোটকা হিসেবেও ব্যবহার করা হয়। ডায়াবেটিস কমাতেও কাঁকরোলের জুড়ি মেলা ভার। কাঁকরোলে ক্যালোরির পরিমাণ খুব কম থাকে। থাকে ফাইবার বেশি। ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য খুব ভালো।
আপনি কাঁকরোল খেতে একদমই পছন্দ না করেন তাহলে কিন্তু এই রেসিপিগুলি আপনি খুব সহজেই বাড়িতে বানাতে পারেন। খেতে কিন্তু অসাধারণ লাগবে। কী কী বানাবেন, আর বানাতে কী কী উপকরণ লাগবে, দেখুন।

- কাঁকরোলের রেজালা
কাঁকরোলের রেজালা বানাতে লাগবে কাঁকরোল, কাজুবাদাম, কিশমিশ, সাদা তেল, পোস্ত, ধনে, গুঁড়ো, গরম মশলা, নুন গোটা, লঙ্কা, গরম জল, কাঁচা লঙ্কা, সাদা তেল।
কীভাবে বানাবেন- প্রথমে কাঁকরোলের খোসা ভালোভাবে ছাড়িয়ে গোল গোল করে কেটে নুন মাখিয়ে নিতে হবে। তারপরে আপনার কাজু, কিশমিশ, কাঁচালঙ্কা, তিল সামান্য জলে ভিজিয়ে মিহি করে বেটে নিতে হবে। তারপরে কড়াইয়ে তেল গরম করে কাঁকরোল গুলোকে কেটে হালকা করে ভেজে দিন। তারপর ওই তেলে গোটা গরম মশলা, শুকনো লঙ্কা, ফোড়ন দিয়ে বাটা মশলা দিয়ে ভালোভাবে কষিয়ে নিন। জল শুকিয়ে গেলে নামিয়ে নিন। তাহলে খুব সহজেই তৈরি হয়ে যাবে কাঁকরোলের রেজালা।
- আলু কাঁকরোলের তরকারি
খুব সহজেই আপনিও বাড়িতে বানান নিরামিষ আলু কাঁকরোলের তরকারি। বানাতে লাগবে- আলু, কাঁকরোল, পাঁচফোড়ন, সরষের তেল, হলুদ গুঁড়ো, আদা বাটা, লঙ্কা।
কীভাবে বানাবেন- আগে সবজিগুলো ভালোভাবে কেটে নেবেন। তারপরে তেলে ফোড়ন দিয়ে ভালোভাবে সবজি গুলোকে নেড়ে নেবেন। তাতে হলুদ গুঁড়ো, লঙ্কাগুঁড়ো, আদা বাটা ভালোভাবে দিয়ে নাড়তে থাকবেন। যতক্ষণ না তেল বেরোবে ততক্ষণ নাড়তে থাকবেন। তারপরে সামান্য পরিমাণ জল থাকা অবস্থায় অর্থাৎ মাখা মাখা অবস্থায় তরকারি নামিয়ে নিন। এই তরকারি খেতে কিন্তু অসাধারণ লাগবে।
কাঁকরলে খেতে যারা ভালোবাসেন না, তাদের জন্য রইল কাঁকরোলের এই সহজ রেসিপিটি। বাড়িতেই বানান কাঁকরোলের পুর। বানাতে লাগবে- কাঁকরোল, সরষে তেল, কাঁচা লঙ্কা, নারকেল, কলা, নুন, হলুদ, কালোজিরা, পোস্ত, চিনি, বেসন চালের গুড়ো ইত্যাদি।
কীভাবে বানাবেন- কাঁকরোলের মাথার দিকটা অল্প করে কেটে বাদ দিয়ে দিন। তারপর অল্প ভাপিয়ে জল ফেলে দিন। ছুরি বা কাটা চামচ দিয়ে দেখে নেবেন ভালোভাবে সেদ্ধ হয়েছে কিনা! সেদ্ধ হলে জল ঝাড়িয়ে রাখুন। ঠান্ডা হলে তার ভেতরটি করে শ্বাস বের করে নিন। তারপর অন্য পাত্রের শাঁস ভালো করে চটকে নিয়ে যাতে দুটো কাঁচালঙ্কা সরষে বেটে দিয়ে দিন। সেই সঙ্গে দেবেন সর্ষে বাটা, নারকেল কোড়া, সর্ষের তেল দিয়ে নুন অল্প করে, অল্প কালোজিরা ভালো করে বেটে আপনি ভেতরে পুর করে দিয়ে দিন।
তারপরে একটি পাত্রে বেসন, চালের গুঁড়ো, কালোজিরে, পোস্তদানা, হলুদ সামান্য চিনি ভালো করে ফাটিয়ে নিয়ে একটি মিশ্রণ বানিয়ে নিন। তারপর একটি কড়াইতে তেল গরম করে পুর ভরা কাঁকরোলের মিশ্রণ চুবিয়ে আসতে আসতে তেলে ছাড়ুন। ভালোভাবে ভাজা হয়ে গিয়ে লাল হয়ে এলেই নামিয়ে নিন।
- কাঁকরোল ভাজা
আপনি কি কখনও এইভাবে কাঁকরোল ভাজা খেয়েছেন। তা বানাতে লাগছে কাঁকরোল, হলুদ গুঁড়ো, নুন, তেল।
কীভাবে বানাবেন- প্রথমে কাঁকরোলকে ভালোভাবে ধুয়ে গোল গোল করে নিন। তারপরে তাতে নুন, হলুদ মাখিয়ে নিন। কড়াইতে তেল দিন, তেল দিয়ে মশলা মাখানো কাঁকরোল গুলো ছাড়তে থাকুন। তারপর ভালোভাবে ভাজুন। তাহলে তৈরি হয়ে যাবে কাঁকরোল ভাজা।












Click it and Unblock the Notifications