জিডিপি বৃদ্ধির পূর্বাভাস বাড়িয়ে ৭.৩ শতাংশ, ভারতীয় অর্থনীতির গতি কি আরও চাঙ্গা হতে চলেছে? জানুন
দেশের অর্থনীতি যে প্রত্যাশার চেয়েও শক্ত ভিতের উপর দাঁড়িয়ে আছে, তার ইঙ্গিত মিলল রিজার্ভ ব্যাঙ্কের নতুন অর্থনৈতিক পূর্বাভাসে। শুক্রবার ডিসেম্বরের নীতি পর্যালোচনায় আরবিআই জানিয়েছে, ২০২৫ ও ২০২৬ অর্থবর্ষে জিডিপি বৃদ্ধির সম্ভাবনা বাড়িয়ে ৭.৩ শতাংশ করা হয়েছে। আগে এই অনুমান ছিল ৬.৮ শতাংশ।
জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরে দেশের জিডিপি যে ৮.২ শতাংশের ছয় ত্রৈমাসিক সর্বোচ্চ ছন্দে পৌঁছেছিল, সেই শক্তিশালী বৃদ্ধিই আরবিআইকে নতুন করে আশাবাদী করেছে। একই সময়ে মোট মূল্য সংযোজন (জিভিএ) বৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৮.১ শতাংশে, যার পিছনে শিল্প ও পরিষেবা খাতের জোড়া উত্থানই মুখ্য ভূমিকা নিয়েছে।

কর সুবিধা, কম দামের অপরিশোধিত তেল ও সরকারি বিনিয়োগে গতি
আরবিআই গভর্নর সঞ্জয় মলহোত্র জানান, আয়কর ও জিএসটি কাঠামোয় সহজীকরণ, আন্তর্জাতিক বাজারে কমে আসা ক্রুড অয়েল মূল্য, সরকারের তরফে আগাম মূলধন ব্যয় ও অনুকূল আর্থিক পরিস্থিতি সব মিলিয়ে চলতি অর্থবর্ষের প্রথমার্ধেই অর্থনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
তিনি আরও জানান, অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরে উচ্চ আবৃত্তির সূচকগুলি দেখাচ্ছে দেশীয় চাহিদা এখনও জোরাল। উৎসব পর্বের কেনাকাটা ও জিএসটি সংস্কার অভ্যন্তরীণ খরচ বাড়াতে বড় ভূমিকা নিয়েছে। গ্রামাঞ্চলে চাহিদা অব্যাহতভাবে ভাল, শহরাঞ্চলেও ক্রয়ক্ষমতা ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে।
ব্যাংকের নন ফুড ঋণ বৃদ্ধি ও শিল্পক্ষেত্রে উন্নত ক্ষমতা ব্যবহারের ফলে বেসরকারি বিনিয়োগে যে ইতিবাচক স্রোত তৈরি হয়েছে, তা অর্থনীতিকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। তবে অক্টোবরে পণ্য রপ্তানিতে তীব্র পতন ও পরিষেবা রপ্তানির গতি কমে আসা থাকছে উদ্বেগের ক্ষেত্র।
কৃষিক্ষেত্রে খরিফের ভাল ফলন, জলাধারগুলোতে বাড়তি সঞ্চিত জল ও রবি ফসলের উন্নত বপন পরিস্থিতি সব মিলিয়ে কৃষি উৎপাদনে আশাব্যঞ্জক পরিবেশ তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি উৎপাদনশিল্প ও পরিষেবা খাত ক্রমশ ঘুরে দাঁড়াচ্ছে বলে জানান গভর্নর।
সব দিক বিবেচনায় নিয়ে আরবিআই জানাচ্ছে চলতি অর্থবর্ষে জিডিপি বৃদ্ধি ৭.৩ শতাংশ, তৃতীয় ত্রৈমাসিক ( কিউ ৩) ৭ শতাংশ, চতুর্থ ত্রৈমাসিক (কিউ ৪) ৬.৫ শতাংশ।
২০২৬ ও ২০২৭ অর্থবর্ষের প্রথম দুই ত্রৈমাসিক ৬.৭ শতাংশ ও ৬.৮ শতাংশ। গভর্নরের দাবি, ঝুঁকির ভারসাম্য আপাতত সমান পর্যায়ে রয়েছে।
বহির্বাণিজ্যে চাপ থাকলেও বৈদেশিক মুদ্রা ভান্ডার শক্তিশালী
এফডিআই প্রবাহ প্রথমার্ধে উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। যদিও ইক্যুইটি বাজারে টানা বিক্রির ফলে এফপিআই প্রবাহ থেকে সামগ্রিকভাবে ০.৭ বিলিয়ন ডলারের নেট বহিঃপ্রবাহ হয়েছে। বিদেশি ঋণ ও এনআরআই আমানতের প্রবাহও কিছুটা কমেছে।
তার মধ্যেও ২৮ নভেম্বর পর্যন্ত ভারতের বৈদেশিক মুদ্রা ভান্ডার দাঁড়িয়েছে ৬৮৬.২ বিলিয়ন ডলার, যা ১১ মাসেরও বেশি আমদানি ব্যয়ের সমতুল্য, যা অর্থনীতির জন্য স্বস্তিদায়ক।
২০২৪ থেকে চলতি বছরের দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে জিডিপির ২.২ শতাংশ ছিল বর্তমান হিসাব ঘাটতি (সিএডি), যা ২০২৫ থেকে ২০২৬ সালের একই সময়ে নেমে এসেছে ১.৩ শতাংশে, রেমিট্যান্স ও পরিষেবা রপ্তানির জোরে।
বিশ্ব অর্থনীতি অনুমানের চেয়ে ভালো চললেও ভূ রাজনৈতিক উত্তেজনা ও বাণিজ্য অনিশ্চয়তা যে বৈশ্বিক বৃদ্ধির পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে, সে কথাও সতর্ক করে দিয়েছেন আরবিআই গভর্নর।












Click it and Unblock the Notifications