দেশের সম্পদ কার হাতে? শীর্ষ ১ শতাংশ ধনীদের সম্পদ ৬২ শতাংশ বেড়েছে, সাধারণ মানুষ তবে কোথায়? জেনে নিন
ভারতের সবচেয়ে ধনী ১ শতাংশ মানুষের হাতে দেশের মোট সম্পদের ক্রমবর্ধমান কেন্দ্রীকরণ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ প্রকাশ করল একটি আন্তর্জাতিক গবেষণা। নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ জোসেফ স্টিগ্লিৎজের নেতৃত্বে তৈরি, জি ২০ সমর্থিত ওই রিপোর্টে বলা হয়েছে, ২০০০ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে ভারতের শীর্ষ শতাংশ ধনীদের সম্পদ বেড়েছে ৬২ শতাংশ।
তবে শুধু ভারত নয়, বিশ্বব্যাপীই ধনসম্পদের বণ্টন আরও বৈষম্যমূলক হয়েছে বলে রিপোর্টে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। গবেষণা বলছে, বিশ্বে মোট নতুন সম্পদের ৪১ শতাংশই দখল করে নিয়েছে সর্বোচ্চ ধনী ১ শতাংশ মানুষের গোষ্ঠী, অন্যদিকে নিচের ৫০ শতাংশ জনসংখ্যার ভাগে এসেছে মাত্র ১ শতাংশ। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি গ্লোবাল ইমার্জেন্সি।

রিপোর্টে উঠে এসেছে যে, ভারতের ধনীদের হাতে সম্পদ বৃদ্ধির হার চিনের চেয়েও দ্রুত। যেখানে চিনে একই সময়ে শীর্ষ ১ শতাংশ গোষ্ঠীর সম্পদ বেড়েছে ৫৪ শতাংশ, সেখানে ভারতে তা ৬২ শতাংশ।
বিশেষজ্ঞ প্যানেলটি (যার মধ্যে রয়েছেন অর্থনীতিবিদ জয়তী ঘোষ সহ আন্তর্জাতিক গবেষকরা) সতর্ক করেছেন বৈষম্য বাড়লে গণতন্ত্র দুর্বল হয় ও অর্থনীতি অস্থিতিশীল হয়ে ওঠে। জলবায়ু নীতি ও উন্নয়ন পরিকল্পনাও বাস্তবায়নে সমস্যা দেখা দেয়।
আরও বলা হয়েছে, চরম বৈষম্য কোনো স্বাভাবিক অর্থনৈতিক প্রক্রিয়ার ফল নয়, এটি সরকার ও নীতিনির্ধারকদের সিদ্ধান্তের ফল।
নতুন একটি আন্তর্জাতিক পর্ষদ ইন্টারন্যাশনাল প্যানেল অন ইনইকোয়ালিটি গঠন,যার কাজ হবে বৈষম্য পর্যবেক্ষণ, ডেটা সংগ্রহ ও দেশগুলিকে নীতি প্রণয়নে প্রমাণযোগ্য ভিত্তি দেওয়া।
উচ্চ বৈষম্যমূলক দেশগুলিতে গণতন্ত্রের সংকট তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা ৭ গুণ বেশি রয়েছে, দারিদ্র্য হ্রাসের গতি ২০২০ সালের পর থেকে থেমে গেছে, কোথাও কোথাও উল্টো বাড়ছে।
ধন ও সম্পদ কিছু মানুষের হাতে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়া শুধু অন্যায় নয়, এটি সমাজব্যবস্থার জন্য অস্থিতিশীলতা ও অনিশ্চয়তার সংকেত বলেই মনে করছেন অনেকে।












Click it and Unblock the Notifications