ভারতে পঙ্গপালের হামলা, আসুন জেনে নিই এই ছোট পতঙ্গের ৯টি খুঁটিনাটি
ভারতে পঙ্গপালের হামলা, আসুন জেনে নিই এই ছোট পতঙ্গের ৯টি খুঁটিনাটি
ভারতে স্বাস্থ্য সঙ্কটের পাশাপাশি আরও এক বিপদ ঘনিয়ে এসেছে। দেশের কৃষিকাজকে একেবারে তছনছ করে দিতে ভারতে আগমন হয়েছে ছোট একটি পতঙ্গের। এপ্রিলের দ্বিতীয় সপ্তাহে এ বছরের প্রথম পঙ্গপালের দল রাজস্থান, গুজরাত, পাঞ্জাব ও মধ্যপ্রদেশে প্রবেশ করে কৃষকদের সমূহ ক্ষতি সাধন করেছে।

পঙ্গপাল সব ধরনের সবুজ সবজি, পাতা, ফুল, গাছের ছাল, কান্ড, ফল এবং বীজও খায়। এই পতঙ্গ যে ফসলগুলি খায় তা হল বাজরা, ধান, মকাই, জোয়ার, আঁখ, যব, তুলা, ফলের গাছ, খেজুর, সবজি, বাবলা, পাইন এবং একধরনের ঘাস। রাষ্ট্রপুঞ্জের খাদ্য ও কৃষি সংগঠনের পক্ষ থেকে এই পঙ্গপাল সম্পর্কে কিছু তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে যা বেশ উপকারি কৃষকদের ক্ষেত্রে।
❑ মরুভূমি পঙ্গপালগুলি তিন থেকে পাঁচমাস বসবাস করে। এটি পরিবর্তনশীল এবং বেশিরভাগ আবহাওয়া এবং পরিবেশগত অবস্থার উপর নির্ভর করে। মরুভূমির পঙ্গপালের জীবনচক্র তিনটি পর্যায়ের সমন্বয়ে গঠিত, যা হল ডিম, ফড়িং ও প্রাপ্তবয়স্ক। দু’সপ্তাহের মধ্যে ডিম ফুটে যায় (১০–৬৫ দিনের পরিসীমা), ৩০–৪০ দিন পর পাঁচ থেকে ছ’টি স্তরের পর ফড়িং হয় এবং প্রাপ্ত বয়সের পঙ্গপাল হতে তিন সপ্তাহ থেকে ৯ মাস সময় লাগে, যদিও ২ থেকে চারমাসের মধ্যেই পঙ্গপাল তৈরি হয়ে যায়।
❑ মেয়ে পঙ্গপাল বেলে মাটির ১০–১৫ সেন্টিমিটার নীচে ডিম পাড়ে। একা মেয়ে পঙ্গপাল একসঙ্গে ৯৫–১৫৮টি ডিম পাড়ে অন্যদিকে সঙ্গলিপ্সু পঙ্গপাল সাধারণত ৮০টি ডিম দেয় একসঙ্গে। মেয়েরা সাধারণত ৬–১১ দিন অন্তর অন্তর তিনবার ডিম দিতে সক্ষম হয়। এক স্কোয়ার মিটারে কমপক্ষে এক হাজার ডিম পাওয়া যায়।
❑ মরুভূমি পঙ্গপাল বাতাসের ওপর নির্ভর করে প্রতি ঘণ্টায় ১৬–১৯ কিমি উড়তে পারে। একদিনে পঙ্গপালের ঝাঁক ৫–১৩০ কিমি বা তার বেশি যেতে সক্ষম। বাতাসে তারা বহু সময় ধরে ভেসে থাকতে পারে। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, পঙ্গপালে ঝাঁক নিয়মিত অতিক্রম করে লোহিত সাগর, যার দুরত্ব ৩০০ কিমি, ১৯৫৪ সালে এই পঙ্গপাল উত্তর–পশ্চিম আফ্রিকা থেকে উড়ে ব্রিটিশ দ্বীপপুঞ্জে আসে, ১৯৮৮ সালে ১০ দিনের মাথায় ৫০০০ কিমি উড়ে পশ্চিম আফ্রিকা থেকে ক্যারিবিয়ানে আসে।
❑ রাতের দিকে সাধারণত একা মেয়ে পঙ্গপাল উড়ে বেড়ায় এবং দিনের সময় সঙ্গলিপ্সু পঙ্গপাল ওড়ে।
❑ পঙ্গপালের ঝাঁক এক বর্গ কিমি থেকে কম কয়েকশো বর্গ কিমি পর্যন্ত ঝাঁকে ঝাঁকে আসতে পারে। প্রত্যেক বর্গ কিমিতে কমপক্ষে ৪০ মিলিয়ন থেকে ৮০ মিলিয়ন পঙ্গপালের ঝাঁক আসতে পারে।
❑ একটি প্রাপ্তবয়স্ক মরুভূমি পঙ্গপাল নিজের ওজন অনুযায়ী প্রতিদিন তাজা খাবার খায়, যা প্রতিদিন ২ গ্রাম করে। একটি এক কিলোমিটার লম্বা ঝাঁকে ২টি আকারের ৪০ মিলিয়ন পঙ্গপাল থাকে, যারা একদিনে একই পরিমাণ খাবার খায় যা প্রায় ৩৫ হাজার মানুষের সমান খাবার। এটি একটি মানুষের প্রতিদিনের গড় খাবার ২.৩ কেজি খাবারের সমান।
❑ নিয়ামে (নাইজার) বা বামাকো (মালি) আকারের পঙ্গপালে ঝাঁক একই পরিমাণ খাবার খায় একদিনে যা কোনও একটি দেশ তার অর্ধেক খায়। প্যারিস আকারের পঙ্গপালের ঝাঁক একদিনে যে পরিমাণ খাবার খায়, তা ফ্রান্সের অর্ধ জনসংখ্যার সমান, নিউইয়র্ক আকারের ঝাঁকও একদিনে যে পরিমাণ খাবার খাচ্ছে যা নিউইয়র্ক ও ক্যালিফোর্নিয়ার মানুষের খাবারের সমান।
❑ পঙ্গপাল কোনও প্রাণী বা মানুষের ওপর হামলা করে না। এখনও পর্যন্ত এ জাতীয় কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি যে মানুষের ক্ষতি হতে পারে এমন ভাইরাস বহন করে পঙ্গপাল।
❑ বিভিন্ন দেশের বাসিন্দারা জাল বা অন্য কিছুর সহায়তায় পঙ্গপাল ধরে থাকে। পঙ্গপালকে সাধারণত অনেকে দেশে ভেজে, পুড়িয়ে বা সেদ্ধ করে সঙ্গে সঙ্গে খেয়ে নেয় বা এটিকে শুকিয়ে নিয়ে পরে খাওয়ারও চল রয়েছে বেশ কয়েকটি দেশে। পঙ্গপাল প্রোটিন সমৃদ্ধ। পঙ্গপালের ক্রমবর্ধমান ক্রিয়াকলাপের সময়কালে, বহু পঙ্গপাল আক্রান্ত দেশগুলির বাজারে জায়গায় জায়গায় মৃত পঙ্গপালের সন্ধান পাওয়া যায়।












Click it and Unblock the Notifications