আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন থেকে কি মিলবে ২৪-এর ভোট-চিত্র, চাবি-কাঠি লুকিয়ে যেখানে
ইতিমধ্যেই ঘোষণা হয়ে গিয়েছে হিমাচল বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট। তারপর মোদী-রাজ্যে ভোট। ২০২৩-এ আরও একাধিক রাজ্যে নির্বাচন রয়েছে। তবু রাজনৈতিক মহলের নজর যেন ২০২৪-এ।
ইতিমধ্যেই ঘোষণা হয়ে গিয়েছে হিমাচল বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট। তারপর মোদী-রাজ্যে ভোট। ২০২৩-এ আরও একাধিক রাজ্যে নির্বাচন রয়েছে। তবু রাজনৈতিক মহলের নজর যেন ২০২৪-এ। এখন প্রশ্ন আসন্ন বিভিন্ন রাজ্যের নির্বাচন কি ২০২৪-এর লোকসভা ভোটের মহাসংগ্রামে প্রভাব ফেলবে। বা সামগ্রিক একটা ভোট-চিত্র তুলে ধরবে?

রাজ্য নির্বাচনের ফল চাবি-কাঠি নয় ২৪-এর
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ মহলের একাংশ মনে করছে, গুজরাত হা হিমাচলের নির্বাচনে কী ফল হল, তার সঙ্গে ২০২৪-এর নির্বাচনের কোনও মিল নেই। ২০২৪-এর নির্বাচন আলাদা একটা নির্বাচন, তা হবে সম্পূর্ণ ভিন্ন আঙ্গিকে। অর্থাৎ গুজরাত-সহ যে সমস্ত রাজ্যে নির্বাচন লোকসভা নির্বাচনের আগে হবে, সেগুলি ২০২৪-এর চাবিকাঠি নয়।

২০২৪-এর প্রতিফলিত হবে না বিধানসভার ফল
শুক্রবার নির্বাচন কমিশন হিমাচল প্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট প্রকাশ করেছে। গুজরাতেও ভোট হবে ২০২২-এর শেষে। তারপর ২০২৩-এর শুরু থেকে একে একে ভোট ত্রিপুরা, মেঘালয়, নাগাল্যান্ড, কর্নাটক, ছত্তিশগড়, মধ্যপ্রদে, মিজোরাম, রাজস্থান, তেলেঙ্গানায়। কেন্দ্রের সরকার নির্বাচনের ভোটের আগেই এই সব রাজ্যে ভোট হয়ে যাবে। অর্থাৎ ভোটারদের মনও বোঝা হয়ে যাবে। কিন্তু সেই ফলাফল যে ২০২৪-এর নির্বাচনে প্রতিফলিত হবে, তা নয়।

রাজ্যের নির্বাচনী ফলটাই শেষ কথা নয়
এটা ঠিক যে কেন্দ্রীয় নির্বাচনের আগে যদি কোনও রাজ্যে একটা দল হেরে যায়, তার মনোবল হালকা ধাক্কা খায়। আবার পক্ষান্তরে সে ভুলত্রুটি শুধরে নেওয়ারও সময় পায়। শাসকদল যদি হেরে যায় তবে লোকসভা নির্বাচনের আগে বিরোধীদের মানসিক শক্তি জোগাবে, কিন্তু রাজ্যের নির্বাচনী ফলটাই যে প্রতিফলিত হবে তার কোনও নিশ্চয়তা নেই। ২০১৯-ই তার প্রকৃষ্ট উদাহারণ।

২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনে কী হয়েছিল
২০১৯-এর লোকসভা ভোটের আগে ২০১৮-য় কংগ্রেস মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান ও ছত্তিশগড়ে জয় লাভ করে। বিজেপিকে হারিয়ে মনোবল তখন তুঙ্গে কংগ্রেসের। ২০১৯-এ পরিবর্তনের স্বপ্নে বিভোর। কিন্তু দেখা যায় মাত্র তিনমাস আগে কংগ্রেস যেখানে জয়লাভ করেছে, সেখানে বিজেপি ড্যাংডেঙিয়ে জিতেছে লোকসভা নির্বাচনে। কংগ্রেস পর্যুদস্ত হয়েছে।

কেজরিওয়াল যদিও কোনও আশ্চর্যজনক জয় পান
২০২২ ও ২০২৩-এর রাজ্য নির্বাচনগুলিতে যদি কংগ্রেস বা বিরোধীশক্তি বড় জয় পায়, তবে তাদের মধ্যে একটা লড়াই শুরু হয়ে যাবে। কে হবেন বিরোধী প্রধান মুখ্। মোদী-বিরোধী মুখ কে, সেই লড়াই বিজেপিকে শক্তি জোগাবে। যেমন- অরবিন্দ কেজরিওয়াল যদিও কোনও আশ্চর্যজনক জয় পান, তিনি পুনরায় সরব হবেন যে, মোদীর বিরুদ্ধে তিনি এককভাবে লড়াই করতে পারবেন।

বিরোধ ভুলে এক ছাতার তলায় আরও সঙ্ঘবদ্ধ
বিজেপি যদি বেশিরভাগ রাজ্যে ভালো ফল করে, তবে প্রধানমন্ত্রী মোদী কৃতিত্ব পাবেন। বিশেষজ্ঞরা বলবেন, মোদী-ক্যারিশ্মায় জয়, দেশে এখনও মোদীর বিকল্প নেই। সেক্ষেত্রে আবার বিরোধী ঐক্য আরও মজবুত হতে পারে। বিজেপি-বিরোধী নেতারা নিজেদের মধ্যে বিরোধ ভুলে এক ছাতার তলায় আরও সঙ্ঘবদ্ধ হতে পারেন।

লোকসভা নির্বাচনে প্রায়শই যেগুলি ফ্যাক্টর হয়
লোকসভার মতো বড় যুদ্ধে কে জিতবে, তা ঠিক করে দিতে পারে না একটা বা কয়েকটা রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে। মানুষ কাকে ভোট দেবেন, কীসের জন্য ভোট দেবেন অর্থাৎ ইস্যু কী সেটা একটা বড় ফ্যাক্টর। লোকসভা নির্বাচনে প্রায়শই জাতীয় নিরাপত্তা, জাতীয়তাবাদ, অর্থনীতি এবং বর্তমান প্রেক্ষাপটে হিন্দুত্ব একটা বড় ফ্যাক্টর।

বিধানসভায় জিতেও লোকসভায় ‘থ' পায়নি কংগ্রেস
গত দুটি লোকসভা নির্বাচনে দিল্লিতে আপ সরকার ছিল, লোকসভায় জিতেছিল বিজেপি। আবার বিগত লোকসভা নির্বাচনে ছত্তিশগড়, মধ্যপ্রদেশ ও রাজস্থানে জিতেছিল কংগ্রেস। লোকসভা সাফল্য পেয়েছিল বিজেপি। রাজস্থানে কংগ্রেস সরকার গড়ল অথচ লোকসভায় ২৫টি আসনেই জিতল বিজেপি ও তার সহযোগীরা। মধ্যপ্রদেশ ও ছত্তিশগড়েও একপ্রকার তাই। আর গুজরাতে গতবার কংগ্রেস হেরে গেলেও সমানে সমানে টক্কর দিয়েছিল, অথচ লোকসভা 'থ' পায়নি বিজেপির কাছে।

কংগ্রেসের কাছে ২০২৪ একটা বড় পরীক্ষা
যেহেতু নির্বাচন হচ্ছে আলাদা আলাদা, সেহেতু মানুষের ভাবনা-চিন্তাতেও খানিক ফারাক থাকবে। ভোট একসঙ্গে হলে তা কী হত, সেটা ভাবনার বিষয়। এদিকে কংগ্রেসের কাছে ২০২৪ একটা বড় পরীক্ষা। কারণ কংগ্রেসের বহু তাবড় নেতা দল ছেড়েছেন। বহু রাজ্যে মুথ খুবড়েও পড়ছে কংগ্রেস, এই অবস্থায় ২০২৪-এ কংগ্রেস ভালো ফল করতে না পারলে অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়বে। এ প্রসঙ্গে উল্লেখযোগ্য রাহুল গান্ধীর ভারত জোড়ো যাত্রা একটা ফ্যাক্টর হতে পারে।












Click it and Unblock the Notifications