২০২৪-এ মোদী বনাম কে? বিরোধী ঐক্যের স্বপ্নের বাস্তবায়ন কি সম্ভব বহু মুখের ভিড়ে
২০২৪-এ মোদী বনাম কে? বিরোধী ঐক্যের স্বপ্নের বাস্তবায়ন কি সম্ভব বহু মুখের ভিড়ে
বিজেপির বিরুদ্ধে বিরোধী ঐক্য গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখছে বিরোধীরা। কিন্তু বারবার প্রমাণিত হয়েছে বিরোধী ঐক্য আসলে আলেয়া। তাকে ধরা দুরুহ ব্যাপার। আর দেশের সমস্ত বিরোধী শক্তি সেই আলেয়ার পিছনেই দৌড়াচ্ছে। যত দিন যাচ্ছে ততই লড়াই বাড়ছে বিজেপি-বিরোধী ঐক্যে। কে হবেন মোদী-বিরোধী মুখ? তা খুঁজে নেওয়াই এখন চ্যালেঞ্জ বিরোধীদের।

মোদী-বিরোধী মুখ হওয়ার লড়াই যেখানে
বিরোধীরা যখন ঐক্য গড়ে তোলার কসরত করছেন, তখন বিজেপি একপ্রকার নিশ্চিন্ত। বিজেপি কর্মীরা সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা ভাইরাল করেছেন। সেখানে লেখা- বিহারীরা বলবেন নীতীশ কুমার, বাঙালিরা বলবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, দিল্লিবাসীরা বলবেন অরবিন্দ কেজরিওয়াল আর দক্ষিণ ভারতীয়রা বলবেন কেসি রাও। তাঁরা মোদী-বিরোধী মুখ হওয়ার লড়াই করবেন আর ২০২৪-এ নরেন্দ্র মোদী পুনরায় প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হবেন।

কংগ্রেসকে ছাড়া বিরোধী ঐক্য মূল্যহীন
এতদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চেষ্টা করছিলেন কংগ্রেসকে টপকে বিজেপি বিরোধী প্রধান শক্তি হয়ে ওঠার। রাহুল গান্ধীকে টপকে তিনি মোদী-বিরোধী মুখ হওয়ার চেষ্টা করে গিয়েছেন। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বন্ধু দলগুলিকেই পাশে পাননি এই মিশনে। কারণ কংগ্রেসকে ছাড়া বিরোধী ঐক্যের কোনও মূল্য নেই বলে মনে করে অনেকে আঞ্চলিক দলই।

কংগ্রেস যখন সবাইকে এক করার চেষ্টা নিয়েছে
ফলে মমতা বন্যোে পাধ্যায়ের তৃতীয় ফ্রন্টের পরিকল্পনা অঙ্কুরেই বিনষ্ট হয়ে যায়। সমস্ত আঞ্চলিক দলগুলিকে বিজেপির বিরুদ্ধে এককাট্টা করতেই বারবার ব্যর্থ হয়েছেন সবাই। কিছু কিছু দল সবসময়ই ঐক্য গঠনে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমনকী কংগ্রেস যখন সবাইকে এক করার চেষ্টা নিয়েছে, কখনও তৃণমূল, কখনও আপ, কখনও টিআরএস বেঁকে বসেছে। অনেকে ক্ষেত্রেই বেঁকে বসেছে সমাজবাদী পার্টি ও বহুজন সমাজ পার্টিও। আর ওয়াইএসআর কংগ্রেস ও বিজু জনতা দল তো এনডিএ-তে না থেকেও বিজেপির সমর্থনে গলা মিলিয়েছে।

বিজেপি ৫০-এর নীচে নামবে যদি সবাই এক হন
এই অবস্থায় বিহারের বিজেপির জোট ছেড়ে মহাজোটে যোগ দিয়েছেন জেডিইউ সুপ্রিমো নীতীশ কুমার। সম্প্রতি তিনি বলেন, যদি সমস্ত বিরোধী দল একজোট হয়ে লড়াই করতে পারে, তবে লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি ৫০-এর নীচে নেমে যাবে। তিনি আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে বিজেপিকে হারানোর জন্য সুর তোলেন। সুর তোলেন ২০২৪-এ বিজেপি বিরোধী জোট গড়ে তোলার ব্যাপারেও।

সব সুরকে সম্মিলিত করার প্রয়াস দেখা যাচ্ছে না
সম্প্রতি তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী তথা টিআরএস সুপ্রিমো কে চন্দ্রশেখর রাওয়ের সঙ্গে বৈঠক করেছেন নীতীশ কুমার। আবার দিল্লিতে রাহুল গান্ধীর সঙ্গে বৈঠক করে এসেছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী কেসি রাও তো আগে থেকেই বিরোধী ঐক্যের বাদ্যি বাজিয়েই চলেছেন। কিন্তু সেইসব সুরকে সম্মিলিত করার প্রয়াস দেখা যাচ্ছে না।

মোদী-বিরোধী প্রধান মুখ হিসেবে কাদের লড়াই
এই মহাজোটে কেসিআর হালে নীতীশ কুমার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার বা মোদী বিরোধী মুখ হওয়ার উচ্চাকাঙ্খা প্রকাশ করেননি। কিন্তু মমতা বন্যো াপাধ্যায় নিজের মুখ তা না বললেও তাঁর দল বরাবর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রোজেক্ট করে গিয়েছেন। মোদী-বিরোধী প্রধান মুখ হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়েকে তুলে ধরার একটা স্লোগান জারি রেখেছে তৃণমূল। সম্প্রতি দিল্লিতে উপস্থিত থেকেও বিরোধী ঐক্যের বৈঠকে যাননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বরং মহাজোটে যোগ দিয়েই নীতীশ কুমার কংগ্রেস থেকে শুরু করে সিপিএম, আপ, টিআরএস এবং অন্যান্য বিরোধী দলের সঙ্গে বৈঠক করে এসেছেন।

২০১৪-এ বিজেপির উত্থানের পিছনে শুধু সম্মিলিত প্রয়াস ছিল না
তবে এখানে একটা জিনিস মানতেই হবে, বিরোধী ঐক্যের কথা বলা আর বিরোধী ঐক্য গড়ে তোলা আকাশ-পাতাল তফাৎ। ২০১৪ সালে বিজেপিও এককভাবে ক্ষমতা পরিবর্তন করেনি। তারাও কিছু বিরোধীকে এক জায়গায় এনে কংগ্রেস শাসনের অবসান ঘটিয়েছিল। কিন্তু সেই যুদ্ধে ছিল বিজেপির একজন প্রধান মুখ। মোদীর ক্যারিশ্মা, মেরুকরণের রাজনীতি এবং সমাজকল্যাণমূলক পরিকল্পনার বীজ মানুষের মধ্যে ঢুকিয়ে দিতে সম্ভবপর হয়েছিল বলেই বিজেপি ক্ষমতায় ফিরেছিল।

যে প্রবণতা বুমেরাং হয়ে দাঁড়াবে বিরোধীদের জন্য
সম্প্রতি একের পর এক রাজ্যে বিরোধী ঐক্য গড়ে তোলার কথা বলা হলেও, তা ব্যর্থ হয়েছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বিরোধীদের বিচ্ছিন্ন করে রেখে শেষ হাসি হেসেছে বিজেপি। এমনকী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচনের দেখা গিয়েছে সেই একই ছবি। এনডিএ-র পক্ষেই গিয়েছে রায়। ২০২৪-এও সেটাই হবে। কেননা এখনও বিরোধী আঞ্চলিক দলগুলি যে যার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে প্রধানমন্ত্রী মোদীর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে তুলে ধরছে। আর এই প্রবণতাই বুমেরাং হয়ে দাঁড়াবে বিরোধীদের জন্য।












Click it and Unblock the Notifications