সনিয়া-রাহুলের আগে তৃণমূলের বিশ্বাস অখিলেশকে! লোকসভা নির্বাচনে বাংলায় SP-র লড়াইয়ের সম্ভাবনা উজ্জ্বল
সাম্প্রতিক সময়ে তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ও'ব্রায়েন জানিয়েছিলেন লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের সঙ্গে কোনও জোট হচ্ছে না। যদিও কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশ তারপরেও তৃণমূলের সঙ্গে জোট নিয়ে আশা ব্যাঞ্জক কথা বলেছিলেন। তবে কংগ্রেসের সঙ্গে আসন সমঝোতা চূড়ান্ত হওয়ার আগে বাংলা থেকে অখিলেশ যাদবের সমাজবাদী পার্টির লড়াইয়ের সম্ভাবনা উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে।
তৃণমূল কংগ্রেস সমাজবাদী পার্টির কাছে উত্তর প্রদেশে একটি আসনে লড়াইয়ের আবেদন করেছিল। তারপর সমাজবাদী পার্টির তরফে তৃণমূলকে ভাদোহী আসনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সমাজবাদী পার্টির সব-সভাপতি কিরণময় নন্দ তৃণমূল কংগ্রেসের ললিতপতি ত্রিপাঠীর জন্য ভাদোহী আসনের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। বিনিময়ে তৃণমূল সমাজবাদী পার্টিকে পশ্চিমবঙ্গ থেকে একটি আসন দিতে পারে।

এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে, উত্তর প্রদেশে আসন ভাগাভাগি নিয়ে কংগ্রেস ও সমাজবাদী পার্টির মধ্যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়ে গিয়েছে। কংগ্রেস উত্তর প্রদেশে ১৭ টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। অন্যদিকে সমাজবাদী পার্টি ইন্ডিয়া ব্লকের অন্যদলগুলিকে সঙ্গে নিয়ে ৬৩ টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে বলে ঠিক হয়েছে। তার মধ্যে তারা ভাদোহী আসনটি তৃণমূলকে ছেড়ে দিতে চাইছে।
তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিমধ্যেই সমাজবাদী পার্টির সুপ্রিমো অখিলেশ যাদবের সঙ্গে জোট নিয়ে আলোচনা করেছেন। সেখানে তৃণমূলের দাবি ছিল উত্তর প্রদেশের চান্দৌলি আসনটি। বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে ললিতপতি ত্রিপাঠী সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদবের সঙ্গে দেখাও করেছিলেন। তারপর তিনি সেই ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ারও করেছিলেন। অবিভক্ত উত্তর প্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী কমলাপতি ত্রিপাঠীর নাতি রাজেশপতি ত্রিপাঠীর ছেলে হলেন ললিতপতি ত্রিপাঠী।
তৃণমূল তথা ললিতপতি ত্রিপাঠীর যুক্তি ছিল প্রয়াত প্রবীণ কংগ্রেস নেতা কমলাপতি ত্রিপাঠীর কর্মস্থল ছিল চান্দৌলি। ললিতপতির দাদি চান্দৌলির সাংসদ ছিলেন। সেখানে ত্রিপাঠীদের অত্যন্ত শ্রদ্ধার চোখে দেখা হয়। সেই কারণে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চান্দৌলি আসনটির জন্য অখিলেশ যাদবকে অনুরোধ করেছিলেন।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, রাজেশপতি ত্রিপাঠী গত ২০২১-এ তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন। ২০২১-এর অক্টোবরের শেষের দিকে শিলিগুড়িতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতে তৃণমূলের যোগ দিয়েছিলেন দুই কংগ্রেস নেতা রাজেশপতি ত্রিপাঠী ও তাঁর ছেলে ললিতপতি ত্রিপাঠী।
এদিকে তৃণমূলকে উত্তর প্রদেশে একটি আসন ছাড়তে রাজি হওয়া সমাজবাদী পার্টি পশ্চিমবঙ্গে ঠিক কোন আসনটি চাইছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে তারা দক্ষিণবঙ্গ বিশেষ করে পূর্ব-পশ্চিম মেদিনীপুরের কোনও এক আসন থেকে লড়াই করতে চায় বলে জানা গিয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications