Susunia Pahar: শুশুনিয়া পাহাড়ে একের পর এক 'বোমা' নিক্ষেপ বনদফতরের! কারণ চমকে দেওয়ার মতো
Susunia Pahar, Bankura: দিনভর শুশুনিয়া পাহাড়ের বুকে ছোঁড়া হলো অজস্র বোমা। সৌজন্যে খোদ বনদপ্তর! সবুজ গাছগাছালিতে ভরা শুশুনিয়া পাহাড়ে বোমা ছোঁড়ার কথা শুনে হয়তো আপনি আঁতকে উঠলেন, আরো বেশী অবাক হলেন বনদপ্তর নিজে হাতে সেই কাজ করছে শুনে!
আঁতকে ওঠা বা অবাক হওয়ার কিছুই নেই। আপনি কোন ভুল শোনেনি, আর আমরাও কোন ভুল কথা বলিনি। বনদপ্তরের কর্মীরা শুক্রবার দিনভর শুশুনিয়া পাহাড়ের ( Susunia Pahar) ন্যাড়া অংশে, যেখানে এখনো কোন গাছপালা জন্মায়নি সেই অংশে সবুজায়নের লক্ষ্যে চলতি বর্ষার মরশুমে অজস্র বীজ বোমা ছোঁড়ার উদ্যোগ নিয়েছে।

এই বোমা বারুদে ঠাসা না, ফলে বিস্ফোরণের কোন সম্ভাবনাই নেই। প্রচলিত গোবর সার, জৈব সার সঙ্গে আকাশমনি, বাবলা, শুয়াবিল গাছের বীজ মিশ্রিত বোমাকৃতি মণ্ড তৈরী করে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ গাছবিহীন শুশুনিয়া পাহাড়ের আনাচে কানাচে তা ছড়ানো হচ্ছে। যা আগামী দিনে মহীরুহে পরিনত হবে। এমনটাই আশা বনদপ্তরের। এইউ মন্ড টিকে সিড বোম্ব বলা হয়ে থাকে।
আর এই কাজে অংশ নিতে পেরে বেজায় খুশী বনকর্মী সৌমেন দাস। তিনি বলেন, পাহাড়ের বেশীরভাগ অংশই সবুজ। কিন্তু একটা অংশ রুক্ষ-পাথুরে হওয়ায় প্রাকৃতিক নিয়মে গাছ জন্মায়নি। অসংখ্য পর্যটক শুশুনিয়া পাহাড়ে আসেন। এই অংশটা দেখতে খারাপ লাগে, তাই বীজ বোমা তৈরী করেই সবুজায়নের লক্ষ্যে তাঁরা কাজ করছেন বলে তিনি জানান।

ছাতনা বনাঞ্চলের বনাধিকারিক এশা বোস বলেন, পরীক্ষামূলকভাবে বীজ বোমা ছড়িয়ে সবুজায়নের কাজ শুরু হয়েছে। চলতি বছরে বর্ষায় এই কাজে সাফল্য এলে আগামী দিনেও এই প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান। বলে রাখা প্রয়োজন, শুশুনিয়া পাহাড়কে কেন্দ্র করে ব্যাপক পর্যটন শিল্প গড়ে উঠেছে।
বহু মানুষ সারা বছরই এই সমস্ত পাহাড়কে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া পর্যটন কেন্দ্রগুলিতে ভিড় জমান। এই পরিস্থিতিতে বন দফতরের এই উদ্যোগ যথেষ্ট প্রশংসার যোগ্য বলেই জানাচ্ছেন ঘুরতে আসা পর্যটকরা।












Click it and Unblock the Notifications