মাটির দেওয়াল জুড়ে তরতরিয়ে চলেছে 'চেন্নাই এক্সপ্রেস', ঘুরে আসুন বাঁকুড়ার এই গ্রামে
শীতের আমেজে আদিবাসী গ্রামে রোদ পোহানো আর পিঠে পুলির মজা। দুই উপভোগ করতে হলে চলে আসতে হবে কলকাতার কাছেই এই অফবিট লোকেশনে। যেখানে রঙিন সব ছবির বাহার মাটির দেওয়ালে। কলকাতার কাছে বাঙালির এখন হট ফেভারিট পর্যটন কেন্দ্র পুরুলিয়ায় রয়েছে সেই জায়গা।
পুরুলিয়া জেলার ছোট্ট আদিবাসী গ্রাম শিউলিবনা। নামের মতোই সুন্দর আর রঙিন এই গ্রাম। পথে ঘাটে কেবল ছবির মেলা। ছবির মতো সাজানো গোছানো ছোট্ট আদিবাসী গ্রাম ছাতনার শিউলীবনা। শুশুনিয়া পাহাড়ের পাদদেশে এই গ্রাম থেকে নিকটবর্ত্তী স্টেশনে নাম ছাতনা, দূরত্ব প্রায় ১৫ কিলোমিটার।

কিন্তু এই দূরত্ব শিল্পীর কল্পনার কাছে কোন বাধা নয়, এমনকি ছাতনা স্টেশনের উপর দিয়ে তার যাত্রাপথ নির্দ্ধারিত না হলেও শিউলীবনা গ্রামের দেওয়ালে শোভা পাচ্ছে 'চেন্নাই এক্সপ্রেস'। শুধু ছবি নয়, ইংরাজী হরফে বড় বড় করে লেখাও রয়েছে ওই ট্রেনের নাম।
আদিবাসী মেয়ে বৌ-দের হাতের জাদুতে গ্রামের মাটির বাড়ির দেওয়াল গুলি চেন্নাই এক্সপ্রেসের আদলে সেজে ওঠার পাশাপাশি ফেসবুক, ইউটিউব, হোয়াটসঅ্যাপের আইকনে সেজে উঠেছে। সঙ্গে আদিবাসী সমাজের চিরাচরিত গাছ, লতাপাতা, বিভিন্ন পশুপাখি এবং শিকারের ছবি দিয়ে বাড়ি-ঘরের দেওয়াল সাজানোর বিষয়টিও বাদ যায়নি এখানে।
প্রসঙ্গত, সাধারণভাবে বাঁধনা, সহরায় পরবের আগে বাড়ি ঘরের দেওয়ালে রঙ করার প্রথা রয়েছে আদিবাসী সমাজের মধ্যে। কিন্তু ফি বছর এই গ্রামে ১ জানুয়ারী খেরওয়াল তুকৌ উৎসব উপলক্ষ্যে সেজে উঠেছে পুরো গ্রাম। আর শুশুনিয়া পাহাড়ে বেড়াতে আসা একটা বড় অংশের পর্যটকের অন্যতম পছন্দের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে দেওয়ার চিত্র 'চেন্নাই এক্সপ্রেস'।
গ্রামবাসীরা জানিয়েছেন, এই দেওয়াল চিত্রে ব্যবহৃত রঙ তাঁরা নিজেরাই তৈরী করে নেন। খড়ি মাটি, গেরু, ভূসো কালির পাশাপাশি খড় পুড়িয়েও রঙ তৈরি করা হয়। পরে নিজেদের হাতে তৈরী সেই রঙেই সাজিয়ে তোলেন নিজের নিজের দেওয়াল বলেই তাঁরা জানিয়েছেন। কাজেই আর দেরি না করে চলে আসুন বাঁকুড়ার এই আদিবাসী গ্রামে। দেখে যান তাঁদের অপূর্ব শিল্পকলা।












Click it and Unblock the Notifications